মন্ত্রিপরিষদ সচিব হলেন আনোয়ারুল, বিশ্বব্যাংকে শফিউল

আপডেট: অক্টোবর ১৪, ২০১৯, ১২:৫৫ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


সেতু বিভাগের সিনিয়র সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নিয়োগ দিয়েছে সরকার। আর মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলমকে বিশ্বব্যাংকের বিকল্প নির্বাহী পরিচালক নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
রোববার (১৩ অক্টোবর) তাদের নিয়োগ দিয়ে আলাদা আদেশ জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সরকারের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলমের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ ২৯ অক্টোবর ২০১৯ থেকে বাতিল করে আগামী ১ নভেম্বর অথবা যোগ দেয়ার তারিখ থেকে পরবর্তী তিন বছর বিশ্বব্যাংকের ওয়াশিংটন প্রধান কার্যালয়ে ‘বিকল্প নির্বাহী পরিচালক’ হিসেবে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের পদমর্যাদায় নিয়োগ দেয়া হলো।
অপর এক প্রজ্ঞাপনে সেতু বিভাগের সিনিয়র সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়।
খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম ১৩ নভেম্বর ২০১১ তারিখে সেতু বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব হিসেবে যোগ দেন। তিনি ৩১ জানুয়ারি ২০১৩ তারিখে সচিব পদে ও ১৩ জুলাই ২০১৭ তারিখে সিনিয়র সচিব পদে পদোন্নতি পান। তিনি পদাধিকার বলে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক। এই পদে যোগ দেয়ার আগে তিনি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম ১৯৮৩ সালে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে যোগ দেন। তিনি কেন্দ্রীয় ও মাঠ প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি মাঠ প্রশাসনে উপজেলা ম্যাজিস্ট্রেট, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
এছাড়া জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব এবং উপ-সচিব, ত্রাণ ও পুনর্বাসন অধিদপ্তরের পরিচালক, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সচিব হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। বিশ্বব্যাংক, ইউএনএফপিএ, এডিবি, সিআইডিএ, ডিজিআইএস, ইউএনডিপির অর্থায়নে পরিচালিত বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে উপ-পরিচালক, উপ-প্রকল্প পরিচালক, প্রকল্প পরিচালক ও জাতীয় প্রকল্প পরিচালক হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতাও তার রয়েছে।
তার স্ত্রী কামরুন নাহার মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে কর্মরত আছেন। পারিবারিক জীবনে তিনি দুই পুত্র সন্তানের জনক।
মোহাম্মদ শফিউল আলম ১৯৫৯ সালে কক্সবাজার জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮১ সালে ইংরেজিতে এমএ ও ১৯৯০ সালে এলএলবি ডিগ্রি ও পরবর্তীতে যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উন্নয়ন প্রশাসন বিষয়ে এমএসএস ডিগ্রি অর্জন করেন।
তিনি বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস ১৯৮২ নিয়মিত ব্যাচের একজন সদস্য এবং বিগত ৩৫ বছর ধরে মাঠ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পদসহ বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে যথা মাগুরা ও ময়মনসিংহ জেলার জেলাপ্রশাসক, বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের এমডিএস, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের এবং বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান, রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার, যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব, ভূমি আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান (সচিব) ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। ১০ অক্টোবর ২০১৫ সাল থেকে তিনি মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে কর্মরত।
তিনি একজন অভিজ্ঞ প্রশিক্ষক ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন জনকল্যাণমুখি সরকারি কর্মচারী। সেবাপ্রার্থীদের সার্বিক সেবা দেয়ার মাধ্যমে এদেশের গরিব, দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই তার কর্মজীবনের ব্রত।
তথ্যসূত্র: বাংলানিউজ