মন্ত্রীর পরিদর্শন, পৃথক তিন তদন্ত কমিটি মান্দায় ইটভাটার গ্যাসে পুড়ে গেছে শতাধিক বিঘা জমির বোরো ধান

আপডেট: এপ্রিল ১৬, ২০১৮, ১:২৪ পূর্বাহ্ণ

মান্দা প্রতিনিধি


পুড়ে গেছে জমির খেতের ধান-সোনার দেশ

নওগাঁর মান্দায় ইটভাটার গ্যাসে পুড়ে নষ্ট হয়ে গেছে শতাধিক বিঘা জমির বোরো ধান। উপজেলার মল্লিকপুর ও শ্রীরামপুর মাঠে এ ক্ষতিসাধন হয়েছে। ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা গত শনিবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর অভিযোগ দায়ের করেছেন। বিষয়টি তদন্তে পৃথক তিনটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এদিকে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী মুহা. ইমাজ উদ্দিন প্রামানিক গতকাল রোববার বিকেলে ক্ষতিগ্রস্ত মাঠ দুইটি পরিদর্শন করেন। তিনি এ বিষয়ে জরুরি ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রশাসনকে নির্দেশ দেন। এ সময় কৃষি অধিদফতর নওগাঁর উপপরিচালক মনোজিত কুমার মল্লিক, ইউএনও মুশফিকুর রহমান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম প্রামাণিক, থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনিসুর রহমানসহ বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, উপজেলার শ্রীরামপুর মৌজায় ফসলি জমিতে ভাটা নির্মাণ করে ইট কাটা ও পোড়ানোর কাজ করে আসছিলেন নারায়ণপুর গ্রামের গুলবর রহমান নামের একব্যক্তি। গত বৃহস্পতিবার রাতে ওই ভাটার গ্যাস ছেড়ে দেয়া হয়। এতে মল্লিকপুর ও শ্রীরামপুর মাঠের শতাধিক বিঘা জমির বোরো ধান পুড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। ফসল কাটার মুহুর্তে ধান খেত পুড়ে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।
কৃষক আনিসুর রহমান ও রফিকুল ইসলাম জানান, শ্রীরামপুর মাঠে চলতি মওসুমে তারা বোরো ধানের চাষ করেছেন। মাঠের খেতে ধানের শীষ বেরিয়েছে। ১০-১৫ দিন পরেই ধান কাটা শুরু হবে। এ অবস্থায় ইটভাটার গ্যাসে তাদের খেতগুলো পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। অনাথ সিমলা গ্রামের কৃষক শহিদুল ইসলাম, তাজ উদ্দিন, মজিবর রহমান, হাছেন আলী ও আবুল কাসেম জানান, ইটভাটার গ্যাসে শ্রীরামপুর মাঠে রোপিত বোরো ধানের খেতগুলো পুড়ে বিবর্ণ হয়ে গেছে। শুক্রবার দুপুর থেকে খেতগুলোর এ অবস্থা দেখে তাদের পথে বসার উপক্রম হয়েছে।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, শুধু বোরো ধানের খেতই নয় ভাটার গ্যাসে নষ্ট হয়ে গেছে আশপাশের গ্রামে মৌসুমি ফল আমের গুটি। ফসলি মাঠে স্থাপিত ইটভাটাটি বন্ধের দাবিও জানান তারা। ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর অভিযোগ দায়ের করেন।
ইটভাটা মালিক গুলবর রহমান বোরো ধান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার জন্য কৃষকদের তালিকা তৈরি করে অর্থ প্রদান করা হবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম প্রামাণিক জানান, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশে শনিবার দুপুরে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এসময় কৃষকদের দাবির প্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিক পৃথক তিনটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। স্থানীয় চেয়ারম্যান ব্রজেন্দ্রনাথ সাহাকে এসব কমিটির প্রধান করা হয়েছে। কমিটিতে তিনি সদস্য সচিব রয়েছেন। এছাড়া দুইজন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য, সংশ্লিষ্ট গভীর নলকূপের সভাপতি-সম্পাদকসহ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা কমিটির সদস্য রয়েছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার মুশফিকুর রহমান জানান, অভিযোগের পর ঘটনা তদন্তে উপজেলা কৃষি অফিসার জাহাঙ্গীর আলমকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Don`t copy text!