মন্দির দখলের ঘটনাস্থল পরিদর্শনে মন্ত্রী ইমাজ উদ্দিন || সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থান হলে স্বাধীনতা বিপন্ন হবে

আপডেট: জানুয়ারি ২৫, ২০১৭, ১২:০৬ পূর্বাহ্ণ

মান্দা প্রতিনিধি



বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী সাংসদ মুহা. ইমাজ উদ্দিন প্রামানিক বলেছেন, জাতির জনকের সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর প্রদর্শিত পথেই হাঁটছেন। সাম্প্রদায়িকতার রাজনীতিতে তিনি বিশ্বাস করেন না। তিনি জানেন সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থান হলে দেশের স্বাধীনতা একদিন বিপন্ন হতে পারে। তাই নিজের জীবন বিপন্ন করেও তিনি সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়াই সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। গত সোমবার রাতে নওগাঁর মান্দা উপজেলার মৈনম বাজারে একটি হিন্দু মন্দির দখলের ঘটনাস্থল পরিদর্শনে উপস্থিত সুধী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, সম্প্রীতির এই দেশে সাম্প্রদায়িকতার বীজ উপ্ত হতে দেয়া যাবে না। সমূলে উপড়ে ফেলতে হবে সাম্প্রদায়িক শক্তির মৌলবাদের বিষবৃক্ষ। সব ধর্মের মানুষ হাজার বছর ধরে এই দেশে শান্তিতে একসঙ্গে বসবাস করে আসছে। এই ভাতৃত্ব ও সম্প্রীতি বাঙালি জাতির ঐতিহ্যের অর্জন।
মন্ত্রী মন্দির দখল চেষ্টার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, উপাসনালয় ব্যক্তির সম্পত্তি হতে পারে না। তা কী করে দখলের ঘটনা ঘটতে পারে। তিনি প্রশাসনকে সতর্ক করে বলেন, সম্প্রদায়িক উস্কানি সহ্য করা যাবে না। এ ঘটনার পুনরাবৃত্তি মেনে নেয়া যাবে না। প্রভাবশালী কিংবা রাজনীতিবিদ যিনিই হোন কাউকে ছাড় দেবেন না। ঘটনায় বিশেষ আইনে মামলা না হওয়ায় মন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি অবিলম্বে এ ঘটনায় জড়িত সবাইকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেন।
মন্দির কমিটির সভাপতি ব্রজেন্দ্রনাথ সরকারের সভাপতিত্বে সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুর রশিদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নুরুজ্জামান, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফয়সাল আহমেদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোল্লা এমদাদুল হক, সাধারণ সম্পাদক সরদার জসিম উদ্দিন, সহসভাপতি ব্রহানী সুলতান গামা, যুগ্মসাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ জহুরুল ইসলাম, থানার অফিসার ইনচার্জ আনিছুর রহমান, ইউপি চেয়ারম্যান ইয়াছিন আলী রাজা, আ’লীনেতা সাইদুর রহমান, এবিএম হাসান রিপু, ওয়ালি হোসেন পিন্টু, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি অ্যাড. নাহিদ মোর্শেদ বাবু, মাও. আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।
গত ৩ নভেম্বর রাতে উপজেলার মৈনম বাজারে প্রতিমা ও পূজার সরঞ্জাম সরিয়ে মন্দির দখলের চেষ্টা করে গিয়াস উদ্দিন ও তার ভাড়াটিয়া বাহিনী। এ ঘটনায় স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ মন্দিরটি দখলমুক্তসহ গিয়াস উদ্দিনকে গ্রেফতার করে। এ ঘটনায় মন্দির কমিটির পক্ষে দায়ের হওয়া একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।