মহাকাশ স্টেশনে ভাসমান রোবট পাঠাচ্ছে নাসা

আপডেট: এপ্রিল ১১, ২০১৯, ১২:০৩ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


হলিউড মুভি ‘স্টার ওয়ারস’ থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে এবার মহাকাশে গবেষণাগার ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশনে ‘অ্যাসট্রো বি’ নামের রোবট পাঠাচ্ছে মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। ভাসমান এই রোবটগুলো নভোচারীদের পাশে থেকে তাদেরকে বিভিন্ন কাছে সহযোগিতা করবে। এরা মহাকাশে গবেষণা চালানো, নতুন প্রযুক্তি আয়ত্ত করা সহ বেশ কিছু কাছে সাহায্য করবে নভোচারীদের।
‘স্টারওয়ারস-এ নিউ হোপ’ মুভিতে ব্যবহার করা একটি রোবটের অনুপ্রেরণায় নতুন ‘অ্যাসট্রো বি’ নামের রোবট তৈরি করেছে মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। মহাকাশে থাকা ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশনে পাঠানো হচ্ছে তিনটি ভাসমান রোবট। মানুষ ও রোবট একজোট হয়ে মহাকাশে কিভাবে কাজ করে, তা জানতেই এই ভাসমান রোবটগুলো পাঠানো হচ্ছে। প্রতিটি রোবটেই সেন্সর থাকছে। আরো থাকছে একটি সংযোগ স্থাপনকারী টাচস্ক্রিন ও বিভিন্ন কাজ করতে পারা আলাদা লাগাতে সক্ষম একটি রোবোটিক হাত। চার কোণা আকৃতির ভাসমান এই রোবটগুলো তৈরি করা হয়েছে ক্যালিফোর্নিয়ায় নাসা’র অ্যামেস রিসার্চ সেন্টারে। সেখানে ইঞ্জিনিয়াররা মহাকাশে থাকা ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশনের মতো পরিবেশ তৈরি করে ভাসমান রোবটগুলোর সক্ষমতা যাচাই করেছেন।
মহাকাশে কিছু কাজ মানুষ নিজে করতে পারলেও অনেক কাজই রোবটের উপর ছেড়ে দেয়া যায় বলে নাসা’র এক কর্মকর্তা জানান। নভোচারীদের কাজে সহায়তা দিয়ে তাদের অন্য গুরুত্বপূর্ণ কাজ করার সুযোগ দিতেই সেখানে তিনটি রোবট পাঠানো হচ্ছে। স্পেস স্টেশনের মাইক্রো গ্র্যাভিটিতে ‘অ্যাসট্রো বি’ নামের রোবট তিনটি সহজেই ভেসে বেড়াবে। এক্ষেত্রে রোবটদের অভ্যন্তরে থাকা ফ্যান তাদেরকে ভেসে বেড়াতে সাহায্য করবে। এছাড়া রোবটগুলোতে থাকা ক্যামেরা ও সেন্সরের কারণে রোবটগুলো কোথাও ধাক্কা খাওয়া থেকে রক্ষা পাবে। এই রোবটগুলোতে একটি রোবোটিক বাহু লাগানো যাবে, যাতে স্পেস স্টেশনে কোনো কিছু ধরা ও গবেষণার কাজ করতে পারে রোবটগুলো।
ভাসমান এই রোবটগুলোকে স্পেস স্টেশনের নভোচোরীরা অথবা পৃথিবী থেকে গবেষকরা রিমোটে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। এমনকি এরা নিজেরা একাই কাজ করতে সক্ষম। আরেকটা মজার বিষয় হলো, এই রোবটগুলোর ব্যাটারির চার্জ যখন শেষ হওয়ার পথে থাকবে, তখন রোবটগুলো নিজ থেকেই পাওয়ার স্টেশনে গিয়ে সংযোগ স্থাপন করে রিচার্জ করবে।
নভোচারীরা এই ভাসমান রোবটদের দিয়ে প্রায় সব কাজই করাতে পারবেন। এছাড়া স্পেস স্টেশনের বাতাস, সাউন্ড লেভেল সহ পরিবেশ কেমন আছে, তাও পর্যবেক্ষণ করবে এই তিনটি রোবট। এর আগে ২০০৬ সালে স্পেস স্টেশনের হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার গবেষণার জন্য তিনটি রোবট গোলক পাঠায় নাসা। ২০১৮ সালে পাঠায় সিমন নামের একটি ভাসমান রোবট। তথ্যসূত্র: ডেইলি মেইল