মহাজোট ছাড়ার ইঙ্গিত জাপার রাঙ্গাঁর

আপডেট: জুন ২৭, ২০১৯, ১:০৩ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


দশ বছর আগে আওয়ামী লীগের সঙ্গে গাটছাড়া বাঁধলেও এখন একলা চলার ইঙ্গিত দিলেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গাঁ।
বুধবার জাতীয় পার্টির এক সভায় রাঙ্গাঁর কথায় সায় দিয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জি এম কাদেরও বলেছেন, “জাতীয় পার্টি আর কারও ক্ষমতায় যাওয়ার নিয়ামক শক্তি হতে চায় না।”
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ অসুস্থতা নিয়ে সিএমএইচে থাকার মধ্যে মহাসচিব রাঙ্গাঁর কথায় সায় দিলেন এরশাদের ভাই কাদের।
২০০৮ সালের নির্বাচনে জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটে ভিড়লেও নানা বিষয় নিয়ে অসন্তোষ দলটির বরাবরই ছিল।
তারপরও বিএনপির বর্জনের মধ্যে অনুষ্ঠিত দশম সংসদ নির্বাচনে আসন সমঝোতা করেই অংশ নিয়েছিল জাতীয় পার্টি। পরে সরকারের অংশ নেওয়ার পাশাপাশি সংসদে প্রধান বিরোধী দলের আসনও নিয়েছিল।
গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে এককভাবে ভোট করার ঘোষণা দিয়েছিলেন এরশাদ। কিন্তু বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পর মহাজোটেই থেকে যায় তারা; যদিও আসন সংখ্যা নিয়ে অসন্তোষ ছিল তাদের।
এই সপ্তাহে অনুষ্ঠিত বগুড়া উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী দেওয়ার পর জাতীয় পার্টির নেতাদের ধূমায়িত অসন্তোষ এখন প্রকাশ পাচ্ছে।
মঙ্গলবার জাতীয় পার্টির রাজশাহী ও রংপুর বিভাগীয় সম্মেলনে রাঙ্গাঁ বলেন, ক্ষমতায় যাওয়ার পর আওয়ামী লীগ জাতীয় পার্টির সঙ্গে যে আচরণ করছে, তা তারা মেনে নিতে পারছেন না।
তার একদিন বাদে বুধবার রাজধানীর মতিঝিলের এজিবি কলোনি কমিউনিটি সেন্টারে সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় সম্মেলনে রাঙ্গাঁ বলেন, “জাতীয় পার্টি আর কারও ক্ষমতার সিঁড়ি হবে না।
“দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে জাতীয় পার্টি কারও জোটের অধীনে নির্বাচন করবে না। নিজস্ব প্রতীক নিয়েই জাতীয় পার্টি নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হবে।”
আওয়ামী লীগের সমলোচনা করে গত সরকারের প্রতিমন্ত্রী রাঙ্গাঁ বলেন, “জাতীয় পার্টির বদৌলতে আওয়ামী লীগ ক্ষমতার স্বাদ পেয়েছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ এর প্রতিদান দিয়েছে জাতীয় পার্টি নেতা-কর্মীদের উপর মামলা ও হামলা দিয়ে। ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অনেক স্থানে জাতীয় পার্টির বিজয় ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।”
তৃণমূলে জাতীয় পার্টি নেতাকর্মীদের উপর হামলা হলে জাতীয় পার্টি ‘বসে থাকবে না’ বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোটে ভিড়ে জাতীয় পার্টি ২৭টি আসনে জয়ী হয়। দশম সংসদ নির্বাচনে তাদের আসন বেড়ে দাঁড়ায় ৩৪টি।
একাদশ সংসদ নির্বাচনে তারা ৫০টির মতো আসন চাইলেও পায় ২৬টি, তার মধ্যে ২২টিতে জয়ী হয়। সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে সংসদের তাদের সদস্য এখন ২৬ জন।
এই নির্বাচনে দলের মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগে টালমাটাল অবস্থা চলছে জাতীয় পার্টিতে।
সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পেতে মাসুদা এম রশীদ চৌধুরী পার্টির মহাসচিব রাঙ্গাঁকে মোটা অঙ্কের টাকা উপঢৌকন দিয়েছে বলে খবর বেরিয়েছে। মাসুদার সেই অভিযোগের তদন্ত চলছে।
বিগত নির্বাচনে মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগ উঠায় দলের মহাসচিবের পদ থেকে এ বি এম রুহল আমিন হাওলাদারকে অব্যাহতি দেন এরশাদ।
বুধবারের সভায় কাদের বলেন, “আমার মনে হয় নির্বাচনকালীন সময় যারা ছিলেন, তাদের কাজ করার যথেষ্ট সুযোগ ছিল না পরিস্থিতির কারণে। মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছিল। বিগত নির্বাচনে পার্টির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন আছে।
“কথা দিচ্ছি, ভবিষ্যতে এই সুযোগ থাকবে না। ত্যাগী নেতাদের অবমূল্যায়ন করা হবে না।”
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ