মহাদেবপুরে আত্রাই নদীর মহিশবাথান ঘাটে চলছে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন

আপডেট: সেপ্টেম্বর ৮, ২০১৯, ১:৩০ পূর্বাহ্ণ

বদলগাছী প্রতিনিধি


মহাদেবপুরে আত্রাই নদীর মহিশবাথান ঘাটে সারিবদ্ধভাবে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালুয উত্তোলন করা হচ্ছে-সোনার দেশ

নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত আত্রাই নদী। এ নদীর মহিশবাথান ঘাটসহ বিভিন্ন পয়েন্টে নীতিমালা উপেক্ষা করে খনন যন্ত্র ড্রেজার মেশিন দিয়ে ড্রেজিং করে বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলছে। প্রশাসনের নাকের ডগায় বালু লুটপাটের মহোৎসবে এলাকাবাসী আতঙ্কিত হলেও প্রশাসন নিরব। এ সংক্রান্ত সংবাদ কালের কন্ঠ, দৈনিক সোনার দেশসহ বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশ হওয়ায় বালুদস্যুদের লেলিয়ে দেওয়া সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হন ৩ সাংবাদিক। তথ্য সংগ্রহকালে জানা যায়, আত্রাই নদীর মহিশবাথান ঘাটে সারি বেধে অসংখ্য ড্রেজার বসিয়ে নদীর তলদেশ গর্ত করে চলছে বালু লুটপাটের হিড়িক। মাহিশবাথান ঘাটে দাড়ালে উত্তর দিকে অর্ধ কিলোমিটার পর্যন্ত দেখা যায় কয়েক হাত পর পর ড্রেজার মেশিন সারি বেধে বসিয়ে অবাধে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। আত্রাই নদীর জলধারা থেকে ড্রেজিং করে যেভাবে বালু উত্তোলন চলছে তাতে এখানে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। মহিশবাথান ঘাটে পশ্চিম পাড়ে সিসি ব্লক দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে ৫০০ মিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ। অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ আশপাশের কৃষি জমি হুমকির মুখে পড়েছে। অর্ধ শতাধিক এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, অবৈধ বালু উত্তোলনে এলাকা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। বেপরোয়া বালু বহনকারী ট্রাক চলাচলে ধুলোবালি উড়ে রাস্তার দুপাশে বাড়িঘরে বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়েছে। রাস্তা ঘাট নষ্ট হয়ে গেলেও দেখার কেউ নেই। এলাকাবাসী আরো জানায় এখানে যেভাবে বালু লুটপাট চলছে দেশের মধ্যে অন্য কোথাও এ দৃশ্য আছে কিনা জানা নেই। সব জায়গায় প্রশাসন ব্যবস্থা নিলেও আত্রাইনদীর ক্ষেত্রে প্রশাসন নিরব। বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন -২০১০ এর বাধা-৫ এর ১ উপধারা অনুযায়ী পাম্প বা ড্রেজিং বা অন্য কোন মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ বালু বা মাটি উত্তোলন করা যাবে না। ধারা-৪ এর (ক) অনুযায়ী সেতু, কালভার্ট, ড্যাম, ব্যারেজ, বাঁধ, সড়ক, মহাসড়ক, বন, রেললাইন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনা হইলে অথবা আবাসিক এলাকা হইতে সর্বনিম্ন ১ (এক) কিলোমিটারের মধ্যে বালু উত্তোলন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বলা বাহুল্য এসব আইন প্রয়োগ ও প্রতিপালন করার মতো কেউ নেই । এ কারণে বালু উত্তোলন কারীরাও কোন কিছুই তোয়াক্কা করে না। কেউ বাধা দিলে তাদের রোসানলে পড়তে হয়। আত্রাই নদীর মাহিশবাথান ঘাটে বালু মহাল লীজ গ্রহিতা মো. আবদুল মান্নান বলেন, আমার নামে লীজের কাগজ হলেও এখানে ৮/১০ জন শেয়ার হোল্ডার রয়েছে। তার মধ্যে তদারকীর প্রধান ভূমিকায় রয়েছে এমপির ছেলে রকি ও তার ভাগিনা শাকিল।
এ বিষয়ে মহাদবেপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বললে তিনি জানান, এসিল্যান্ড ও সার্ভেয়ার বালুমহাল পরিদর্শন করে আমাকে রিপোর্ট দিয়েছে যে বালুমহালের কারণে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের কোন ক্ষতি হচ্ছে না। নদীর তলদেশ ড্রেজিং করে বালু তোলার কারণে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বিভিন্ন স্থানে ডেবে গিয়েছে তাছাড়া নীতিমালা অনুসারে সিসি ব্লক দ্বারা নির্মিত বাঁধের আশেপাশে বা এক কিলোমিটারের মধ্যে বালু মহাল সনাক্ত করলে তা হবে নীতিগত পরিপন্থী এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন এটা সরজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ