মহাদেবপুরে কাঁঠাল পাতা বিক্রি করে সাবলম্বী আনিছুর

আপডেট: সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৯, ১২:৩১ পূর্বাহ্ণ

মহাদেবপুর প্রতিনিধি


নওগাঁর মহাদেবপুরে দিন মজুরি কাজ ও রিক্সা চালানো দুখের দিনগুলো পেরিয়ে এখন কাঁঠাল পাতা বিক্রি করে সাবলম্বী হয়ার স্বপ্ন দেখছেন আনিছুর রহমান। মহাদেবপুর উপজেলার চান্দাশ ইউনিয়নের রামচরণপুর গ্রামের মৃত শফিজ উদ্দীনের ছেলে মো. আনিছুর রহমান। আনিছুরের বাবা মার জমিজমা না থাকায় বাল্য জীবন থেকেই অন্যের বাড়িতে দিনমজুরের কাজ করতো। দীর্ঘদিন পেটে ভাতে কাজ করলেও গিরস্তের মন উঠতনা । মাঝে মধ্যেই কারণে অকারণে গাল মন্দ শুনতে হতো। একদিন মনের দুঃখে রিক্সা চালানোর কাজ শুরু করেন। দীর্ঘ ১৭ বছর রিক্সা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করলেও অন্যের ভাড়া রিক্সায় প্রায় অর্ধেক টাকা বেহাত হতো। একপর্যায়ে চাপাইনবাবগঞ্জ হাটে কাঁঠালের পাতা বিক্রির দৃশ্য দেখেন। পরে চাপাইনবাবগঞ্জ থেকে সাইদুর রহমান, রাজা বাবু, ওবায়দুল ইসলাম ও রাজু আহম্মেদ মহাদেবপুর উপজেলার বাগডোব বাজারে কাঁঠাল পাতা কিনতে প্রতিদিন আসেন। এসব পাতা তারা চাপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন ছাগলের খামারে বিক্রি করেন। সেই থেকে আনিছুর রহমানের জীবনের মোড় বদলে গেল। মহাদেবপুর উপজেরার গ্রামগঞ্জে কাঁঠাল পাতা বিক্রির কথা অনেকেই জানেন না। ছাগলের সবচেয়ে উৎকৃষ্ট ও প্রিয় খাবার কাঁঠাল পাতা। এই কাঁঠাল গাছের পাতা ৩০০টাকা থেকে ১৫০০টাকা পর্যন্ত দামে কিনে বাগডোব বাজারে বিক্রি করতে শুরু করেন। তারাই এই পাতার বাজারের নাম দিয়েছে পাতার হাট। এই হাটের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো রোদ, বৃষ্টি, ঝড়সহ প্রাকৃতিক দুর্যোগই হলেও পাতার বাজার বসবেই।
পাতা বিক্রেতা আনিছুর রহমান জানান, দুঃখের দিন পেরিয়ে আজ সুখি হয়ার স্বপ্ন দেখছি আমি। গত প্রায় ১৫ থেকে ১৮ বছর যাবৎ কাঁঠাল পাতা বিক্রি করে দুই ছেলে ও দুই য়েয়েকে মানুষ করেছি। প্রতিদিন আমার সাথে এখন পাঁচ জন কাজের লোক কাঁঠাল পাতা কাটার কাজ করে। জন প্রতি ৩০০টাকা ও দুবেলা খাবার প্রতিদিন দিয়েও আমার ভাল লাভ থাকে। এসব কাঁঠাল পাতা মহাদেবপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামসহ পাশর্^বর্তী পত্নীতলা, শাপাহার, নিয়ামতপুর, মান্দা উপজেলার কিছু অংশসহ নওগাঁ সদর উপজেলারও কাঁঠাল পাতাযুক্ত গাছের পাতা কিনে থাকি। সারা বছর এসব গাছের পাতা কেটে বাজারে বিক্রি করে নিজের বাড়িসহ কিছু জমিও কিনেছি। আগামী দিনে আমার সন্তানদের এতো পরিশ্রম না করে জীবিকা নির্বাহ করতে পারবে বলে আশা করছি।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ অরুণ চন্দ্র রায় জানান, এসব পাতা গাছ থেকে কেটে বাজারে বিক্রি করে ব্যক্তিগতভাবে সাবলম্বি হলেও গাছের পাতায় খাদ্য তৈরি হয় সেটি বিঘ্নিত হবে এবং ফলন কমে যাবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ