মহাদেবপুরে তিলের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

আপডেট: মে ৭, ২০১৯, ১২:৪১ পূর্বাহ্ণ

এম. সাখাওয়াত হোসেন, মহাদেবপুর


মহাদেবপুরে তিলের খেত-সোনার দেশ

অল্প খরচে বেশি লাভ হওয়ায় মহাদেবপুর উপজেলার কৃষকরা তিল চাষে ঝুঁকে পড়েছেন। প্রতিবছর এ উপজেলায় তিল চাষের জমির পরিমান বৃদ্ধি পাচ্ছে। চলতি মৌসুমে মহাদেবপুর উপজেলায় গতবছরের তুলনায় দ্বিগুণ জমিতে তিল চাষ হয়েছে। কোন প্রকার প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে বাম্পার ফলনের আশা করছেন এলাকার কৃষকরা । আমন ধান কাটার পর খেত যখন খালি থাকে তখন তিল চাষ করা যায়। এতে ধানের কোন ক্ষতি হয়না। তিল চাষে সার ও কীট নাশক লাগেনা বললেই চলে। গরু-ছাগলে তিল খায়না তাই রক্ষণা বেক্ষনে কোন খরচ হয়না। কম শ্রম ও খরচে তিল চাষ করা যায় বলে এ উপজেলার কৃষকরা জানিয়েছেন। এক বিঘা জমিতে তিল চাষে খরচ হয় গড়ে প্রায় ৪ হাজার টাকা। প্রতি বিঘা জমিতে ৬ থেকে ৮ মণ তিল উৎপন্ন হয়। বর্তমানে স্থানীয় বাজারে প্রতিমণ তিলের দাম হচ্ছে ২ হাজার টাকা। এ হিসেবে এক বিঘা জমির মৌসুমী এ পণ্য থেকে কৃষকের লাভ প্রায় ৮ থেকে ১২ হাজার টাকা। রোদইল গ্রামের কৃষক আলিম উদ্দীন ও পরিতোস, সফাপুর গ্রামের লুৎফর রহমান ও সাদেকুল ইসলাম জানান, অতিরিক্ত বৃষ্টি তিলের জন্য ক্ষতিকর। তবে মাঝে মাঝে বৃষ্টি হলে ভাল হয়। এবার তিল চাষ শুরুর পর চৈত্র- বৈশাখ মাসে মাঝে মধ্যে বৃষ্টি হয়েছে। যার ফলে এবার তিলের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষকরা আশা করছেন তিল উঠা পর্যন্ত কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে মহাদেবপুরে তিলের ভাল ফলন পাওয়া যাবে। তিল দিয়ে তেলসহ বিভিন্ন মুখরোচক খাবার তৈরি করা হয়। মহাদেবপুর উপজেলাসহ উত্তরাঞ্চলের প্রায় প্রতিটি হাট-বাজারে তিলের খাজা, তিলের নাড়ু, তিলের জিলাপি প্রভৃতি খাবারের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এছাড়াও তিলের ভর্তা,ঘাটিসহ বিভিন্ন রান্নায় তিল ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
এনায়েতপুর ইউপির উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবদুল মুমিন জানান, কম খরচে উৎপাদন করে বাজারে ভাল দামে বিক্রি করতে পেরে তিল চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। স্বাস্থ্য সম্মত তেল জাতীয় শষ্য তিল কম শ্রম এবং খরচে সব মাটিতে উৎপাদন হওয়ায় কৃষকরা তিল চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ জাহাঙ্গীর আলম প্রামানিক জানান, তিল চাষে কৃষকদের আগ্রহ বৃদ্ধির জন্য তিলের ব্যবহার এবং তিল থেকে উৎপাদিত তেল আমাদের স্বাস্থ্যের কোন ক্ষতি করেনা এবিষয়ে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। প্রতি বছরই তিল চাষের জমির পরিমান বাড়ছে। গত বছর মহাদেবপুর উপজেলায় ১৫ দশমিক ২ হেক্টর জমিতে তিল চাষ হয়েছিল। চলতি মৌসুমে তা বৃদ্ধি পেয়ে ৩০ দশমিক ৫ হেক্টর জমিতে তিল চাষ হয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ