মহাদেবপুরে প্রথম বাণিজ্যিক ভাবে মালটা চাষ || স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন মতিন

আপডেট: আগস্ট ১৫, ২০১৮, ১:০০ পূর্বাহ্ণ

এম.সাখাওয়াত হোসেন, মহাদেবপুর


নওগাঁ মহাদেবপুরের মালটা বাগানের পরিচর্যা করছেন কৃষক আবদুল মতিন-সোনার দেশ

মাল্টা পাহাড়ি ফল হিসেবে পরিচিতি হলেও সমতল ভূমিতে ও রয়েছে এ ফলের ব্যাপক সম্ভবনা। মহাদেবপুর উপজেলায় বাণিজ্যিক ভাবে চাষ হচ্ছে বিভিন্ন জাতের মাল্টার । মাটির গুনাগুন ঠিক থাকলে সমতল এলাকাতেও মাল্টা চাষ করে লাভবান হতে পারেন কৃষকরা এমনটাই জানিয়েছেন নওগাঁ জেলার মহাদেবপুর উপজেলার সফল মাল্টা চাষি আবদুল মতিন। বর্তমানে আমাদের দেশে অনেক জনপ্রিয় ও সহজলভ্য একটি ফল হচ্ছে মালটা। এটি প্রায় সারা বছরই পাওয়া যায় এবং দামেও বেশ সস্তা। মালটা আমাদের দেশে এখন এতোটাই জনপ্রিয় যে পথে ঘাটেও এর জুস পাওয়া যায়। জনপ্রিয় এই ফলটির পুষ্টিগুণ সম্পর্কে আমরা হয়তো অনেকেই জানি না। মালটাতে আছে, ভিটামিন বি, ভিটামিন সি, ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম, ফসফরাস, এবং চর্বিমুক্ত ক্যালরি। এগুলো ছাড়াও মালটাতে আর অনেক পুষ্টিগুণ রয়েছে। মালটা চাষে সফল হয়ে এলাকায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার গোফানগর এলাকার কৃষক আবদুল মতিন। তার বাগনে গাছে গাছে ঝুলছে থোকা থোকা মালটা। বাগানে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির ৬৫টি মালটা ও ৫টি কমলা গাছ। শুধু তাই নয়, মালটাসহ তার বাগানে সাথী ফসল হিসেবে ৫টি লেবু গাছ, ৩টি বেল গাছ, ৭টি পেঁপে গাছ, ২টি লিচুগাছ, ৩টি ডাব গাছ রয়েছে। গাছের নিচে ফাঁকা জায়গায় হলুদ ও ওল চাষ করেছেন। আবদুুল মতিনের সফলতায় উদ্বুদ্ধ হয়ে এলাকার বেকার যুবকরাও ঝুঁকছেন মালটা বাগান গড়ে তোলার দিকে। সরজমিনে মহাদেবপুর উপজেলার হাতুড় ইউনিয়নে গোফানগর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ২০১৬ সালে ১০ আগস্ট হটিকালচার সেন্টার বদলগাছীর সহযোগীতায় মালটা (বারি-১) চারা রোপণ করেন আবদুল মতিন। প্রায় দুই বছরেই মালটা ও কমলা গাছে ফল ধরেছে। বাগানে গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে বিভিন্ন সাইজের মালটা। সবুজ পাতার আড়ালে কিংবা পাতাঝরা ডালেও ঝুলছে থোকা থোকা মালটা। এ নিয়ে আবদুুল মতিনের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, প্রথম গাছে মালটা ধরার পর থেকে ফল চাষের মাধ্যমে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের স্বপ্ন জাগে তার। এখন চলছে স্বপ্ন পূরণের পালা। তিনি আরো বলেন, স্থানীয় ধনী ও মাঝারি কৃষক এসব ফলমূল চাষে এগিয়ে এলে দেশে মালটাসহ বিভিন্ন ফলের চাহিদা মেটানো সম্ভব হতো। ফলগুলো সুমিষ্ট হওয়ায় বাণিজ্যিক ভাবে লাভবান হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন আবদুুল মতিন। হটিকালচার সেন্টার বদলগাছীর সিনিয়র উদ্যান তত্ববিদ কৃষিবিদ আ ন ম আনারুল ইসলাম জানান, মহাদেবপুরসহ নওগাঁ জেলায় ধান চাষের পাশাপাশি মালটা চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। ধান উৎপাদনের চেয়ে মালটা চাষে ১০গুণ বেশি লাভবান হতে পারে এ অঞ্চলের কৃষকরা। ধান উৎপাদনের পাশাপাশি মালটা, কমলাসহ ফলজ বাগান তৈরিতে উদ্বুদ্ধকরণে জেলায় দেড়শতাধিক কৃষকে সহযোগিতা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কৃর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও সবেক সাংসদ ড. আকরাম হোসেন চৌধুরী জানান, মালটাসহ বিভিন্ন ফলজ বাগান তৈরিতে উদ্বুদ্ধকরণে বিএমডিএ কাজ করে যাচ্ছে। এতে করে বরেন্দ্র অঞ্চলের ভূ-গর্ভের পানির স্তর যেমন ঠিক থাকবে, তেমনি সবুজ ও সুন্দর প্রকৃতির তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অন্যদিকে, ভূ-গর্ভের অল্প পানি উত্তলন করে কম খরচে ফলজ বাগান তৈরি করে কৃষক আর্থিক ভাবে অধিক লাভবান হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ