মহাদেবপুরে মাচায় ব্লাক বেবী জাতের তরমুজ চাষ করে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন নয়ন

আপডেট: জুলাই ১৮, ২০১৯, ১২:৪২ পূর্বাহ্ণ

এম. সাখাওয়াত হোসেন, মহাদেবপুর


মহাদেবপুরে মাচায় ব্লাক বেবী জাতের তরমুজ-সোনার দেশ

নওগাঁর মহাদেবপুরে এই প্রথম মাচায় ব্লাক বেবী জাতের তরমুজ চাষ করে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন আবদুল খালেক নয়ন নামের এক যুবক। পড়াশুনা শেষে চাকরির পিছে না ঘুরে আধুনিক পদ্ধতিতে নতুন নতুন জাতের কৃষি পণ্য উৎপাদন করে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে চান তিনি। মহাদেবপুর উপজেলা সদর থেকে উত্তরে দিকে ৭ কিলোমিটার দূরে শেরপুর গ্রামে ব্লাক বেবী জাতের তরমুজ চাষ করছেন তিনি।
আশেপাশের গ্রামসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে মাচায় ব্লাক বেবী জাতের তরমুজ খেত দেখতে আসছেন মানুষজন।
গত ২৪ এপ্রিল ১০ কাঠা জমিতে রোপন করেন ব্লাক বেবী জাতের তরমুজ। গ্রীষ্মকালীন ব্লাক বেবী জাতের তরমুজ চাষ করে ২ মাস ২২দিনে ২০ হাজার টাকার তরমুজ বিক্রি করেছেন নয়ন। গাছে যে পরিমাণ তরমুজ রয়েছে তা তিনি আরো ১০ হাজার টাকায় বিক্রির করার আশা ব্যক্ত করেন। তরমুজের বাইরের রঙ কালো হলেও ভিতরে রঙ টকটকে লাল ও স্বাদ উৎকৃষ্টমানের। একদিকে এই তরমুজ চাষে যেমন আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হবে অপরদিকে দেশের পুষ্টির চাহিদাও পূরণ করবে। ব্লাক বেবী জাতের তরমুজ আকারে ছোট হলেও প্রতিটি তরমুজ আড়াই থেকে চার কেজি ওজনের হয়ে থাকে। অসময়ে উৎপাদিত তরমুজের রঙ ও স্বাদ উৎকৃষ্টমানের হওয়ায় বাজারে চাহিদাও রয়েছে অধিক।
মাচায় ব্লাক বেবী জাতের তরমুজ চাষি আবদুল খালেক নয়ন জানান, বাবার ৮ বিঘা জমি ভাগের পেয়েছেন তিনি। এর মধ্যে ১০ কাঠা জমিতে তরমুজ চাষ, ১০কাঠা জমিতে পটল চাষ , ১০ কাঠা জমিতে মরিচ চাষ ও আড়াই বিঘা জমিতে আধুনিক পদ্ধতিতে কলা চাষ করেছেন। বাকি ৪ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছেন। আট বিঘা জমির মধ্যে মাচায় ব্লাক বেবী জাতের তরমুজ চাষ করে অল্প সময়ে অধিক লাভবান হয়েছেন তিনি।
তরমুজ দেখতে আসা ধামুইরহাট সরকারি এমএম ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক অরুণ কুমার মন্ডল ও রোদইল টেকনিকেল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন জানান, আধুনিক পদ্ধতিতে মাচায় তরমুজ চাষ নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত হওয়া এই তরমুজের প্রতি ক্রেতাদের ব্যপক চাহিদা রয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ জাহাঙ্গীর আলম প্রামণিক জানান, মাচাই ব্লাক বেবী জাতের তরমুজ চাষে স্বল্প সময়ে অল্প খরচে অধিক মুনাফা অর্জন করা সম্ভব। নয়নের তরমুজ চাষে এলাকার বেকারত্ব দূরিকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মনে করি।