মহাদেবপুরে রেকর্ড পরিমাণ জমিতে উন্নত জাতের গম চাষ || বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০১৯, ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ

এম.সাখাওয়াত হোসেন,মহাদেবপুর


বরেন্দ্র অঞ্চল খ্যাত নওগাঁর অন্যতম খাদ্য ভান্ডার মহাদেবপুর উপজেলায় কৃষি ব্যবস্থায় ঘটছে পরিবর্তন। উন্নত জাত এবং অর্থকরী স্বল্প সময়ের ফসলের প্রতি দিন দিন ঝুঁকছে কৃষকরা। বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ড. আকরাম হোসেন চৌধুরীর উদ্যোগে ন্যাশনাল ব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় এ অঞ্চলের অধিকাংশ কৃষক আধুনিক প্রযুক্তির ভিএমপি মেশিন ব্যবহার এক চাষে গম বপন করায় অল্প খরচে উৎপাদন করা সম্বব হচ্ছে। বরেন্দ্র অঞ্চলের ভূ-গর্ভের পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া থেকে রক্ষা করতে অল্প সেচের ফসল চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধকরণে উন্নত জাতের গম বীজ বিনা মূল্যে কিছু সংক্ষক কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হয়।
এ বছর রেকর্ড পরিমান জমিতে দেশের দ্বিতীয় প্রধান খাদ্য ফসল উন্নত জাতের গম চাষ করছেন উপজেলার কৃষিকরা। গত কয়েক বছর যাবত বাম্পার ফলন ও অধিক লাভজনক ফসল হওয়ায় সচেতন কৃষকরা বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল (উফশী) জাতের গম চাষে ঝুঁকছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে গত বছরের তুলনায় এ বছরও প্রতিটি গম চাষি অধিক মুনাফা লাভ করবে বলে মনে করছে উপজেলা কৃষি বিভাগ। এটি মূলত শীত প্রধান দেশের খাদ্য ফসল, আমাদের দেশে গম আবাদের ইতিহাস খুব বেশী দিন আগের নয়। কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট-বারি এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরসহ গম গবেষণা কেন্দ্র দেশে গম আবাদে অগ্রণী ভূমিকা পালন করলেও কৃষকদের অবদান এক্ষেত্রে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন কৃষিবিদগণ। কম সেচে অধিক ফসল উৎপাদনসহ রোগ-বালাইয়ের আক্রমন কম হওয়ায় গম চাষে উৎপাদন ব্যয় কম। পাশাপাশি ধানের সঙ্গে তুলনামূলকভাবে গমের দামও ভাল। ফলে কৃষক কম খরচে অধিক আয়ের লক্ষে গম আবাদে ঝুঁকছেন। এছাড়াও বোরো ধানের চেয়ে গম চাষে রাসয়নিক সারের ব্যবহারও কম। ফলে কৃষকের বিনিয়োগ কম, আয় বেশী। বারি-২৫, ২৬, ২৮, ২৯, প্রদীপ, বিজয় ও শতাব্দী এসব জাতের গমে পোকার আক্রমণ কম হয়। ফলে ফলন ভালো হয়। আর তুলনামূলকভাবে অন্য জাতের গমের চেয়ে এসব জাতের চাষে উৎপাদন ব্যয় কম। ফলে কৃষকরা এসব জাতের গম চাষ করে বেশি লাভবান হচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে এবার ৬শ ৮০ হেক্টর জমিতে গম চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও ৭ শ ৬০ হেক্টর জমিতে গম চাষ করা হয়েছে। উচ্চ ফলনশীল (উফশী) ২শ’ ১০ হেক্টর জমিতে বারি-২৫, ১শ’ ৬০ হেক্টর জমিতে বারি-২৬ ও ১শ’ ৪০ হেক্টর জমিতে বারি-২৮ জাতের গম চাষ এবং বাঁকী জমিতে অন্যান্য জাতের গম চাষ করা হয়েছে। উপজেলার কর্ণপুর গ্রামের কৃষক রথি সরকার জানান, গত বছর ন্যায্য মূল্য পাওয়ায় এবার ৩ বিঘা জমিতে গম আবাদ করেছি। কৃষি অফিসের নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচর্যা করছি। আশা করছি বিঘা প্রতি ১৪ মণ ফলন হবে। একই গ্রামের কৃষক তহিদুল জানান, প্রতি বছরের মত এবারো ৩ বিঘা জমিতে গম চাষ করেছি। এ পরিমাণ জমি থেকে গত বছরের মত এবারো ৪২ মণ গম পাওয়ার আশা করছি। গত বছর গমের দাম মণ প্রতি পেয়েছি ৮০০ টাকা। যার বাজার মূল্য ছিল ৩৩ হাজার ৬’শ টাকা। এবারো সমপরিমাণ টাকা পাওয়ার আশা করছি।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ জাহাঙ্গীর আলম প্রামানিক জানান, কৃষকরা যেন গম চাষে কোন প্রকার সমস্যায় না পড়েন এ জন্য আমরা সর্বাক্ষণিক নজর রাখছি। কৃষি বিভাগ কৃষকদের পাশে থেকে তাদের নানা পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বাম্পার ফলন হবে বলে তিনি আশা করেন।
এ বিষয়ে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও সাবেক সংসদ সদস্য ড. আকরাম হোসেন চৌধুরী বলেন, বরেন্দ্র অঞ্চলের ভূ-গর্ভের পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া থেকে রক্ষা করতে ধান চাষের পাশাপাশি অল্প ছেচের ফসল বেগুন, আলু, ভুট্টা, সরিসা, পেঁয়াজ, রসুন, আদাসহ গম চাষ করে আর্থিকভাবে যেমন লাভবান হবে তেমনি ভূ-গর্ভের পানির স্তরও ঠিক থাকবে। বরেন্দ্র অঞ্চলের ভূ-গর্ভের পানির স্তর ঠিক রাখতে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সর্বাক্ষনিক কাজ করে যাচ্ছে।