মহারাষ্ট্রে সরকার গড়ছে সেনা-এনসিপি-কংগ্রেস

আপডেট: নভেম্বর ১৬, ২০১৯, ১:০০ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


শেষপর্যন্ত নির্বাচিত সরকার পেতে চলেছে ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্য। অনেক আলোচনা আর টানাপোড়েনের পর একসঙ্গে সরকার গড়তে সম্মত হয়েছে শিবসেনা, এনসিপি এবং কংগ্রেস। কোনও দলই সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ না দিতে পারায় বর্তমানে রাজ্যেটিতে রাষ্ট্রপতির শাসন জারি রয়েছে।
ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির (এনসিপি) প্রধান শারদ পাওয়ার বলেছেন, এবার শিবসেনার সঙ্গে এনসিপি-কংগ্রেস জোট হাতে হাত ধরে সরকার গঠন করবে মহারাষ্ট্রে। যদিও প্রথমে কিছুতেই শিবসেনার সঙ্গে সরকার গড়তে কংগ্রেস রাজি না হওয়ায় নির্ধারিত সময়ে সরকার গঠনে সব দলই ব্যর্থ হয়।
তবে শেষপর্যন্ত আদর্শগতভাবে শিবসেনার সঙ্গে মতভেদ থাকলেও একজোট হয়ে ওই তিন দল পূর্ণ মেয়াদের সরকার চালাবে বলেও আত্মবিশ্বাসী এনসিপি প্রধান। এনডিটিভি জানাচ্ছে, আগামীকাল শনিবার রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করে সরকার গঠনের অনুমতি চাইবে তিন দলে জোট।
মহরাষ্ট্রের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির নেতা শারদ পাওয়ার বলেছেন, ‘অবশ্যই মহারাষ্ট্রে তিন দলীয় জোট সরকার গঠিত হবে। শুধু তাই নয় পাঁচ বছরের পূর্ণ মেয়াদ পূরণ করবে এই সরকার। আমরা সবাই এই সরকারের পাঁচ বছর থাকা অবশ্যই নিশ্চিত করবো।’
গত সপ্তাহেই শিবসেনা-এনসিপি-কংগ্রেস মিলে সরকার গড়লে সেই সরকার ছয় মাসের বেশি টিকবে না বলে পূর্বাভাস দেন কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপির নেতা ও মহারাষ্ট্রের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ। প্রসঙ্গত, বিজেপিই এবার মহরাষ্ট্রের নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আসনে জয়ী হয়েছিল।
বিজেপি নেতারে এমন মন্তব্যকে কটাক্ষ করে এনসিপি প্রধান শারদ পাওয়ার বলেন, ‘আমি বেশ কয়েক বছর ধরে দেবেন্দ্রজিকে চিনি। তবে আমি জানতাম না যে তিনি জ্যোতিষ বিদ্যারও ছাত্র ছিলেন।’
শিবসেনা চাইছে তাদের দল থেকেই পূর্ণ মেয়াদের মুখ্যমন্ত্রী হোক। এনসিপি প্রধান শারদ পাওয়ারকে সাংবাদিকরা এমন প্রশ্ন করলে তিনি জবাব দেন, ‘যদি কেউ (শিবসেনা) মুখ্যমন্ত্রী পদ দাবী করে তাহলে নিশ্চয়ই বিষয়টি বিবেচেনা করে দেখবো কী করা যায়।’
এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিবসেনাকে সমর্থন দেয়ার প্রশ্নে শরদ পাওয়ারের দল এনসিপি থেকে শর্ত দেয়া হয়। সেখানে নিজেদের দল থেকেও একজনকে মুখ্যমন্ত্রী দেয়ার দাবি করে দলটি। আর সেটা হবে মুখ্যমন্ত্রীর পদ ভাগাভাগি করে। অর্ধেক মেয়াদের একদলের বাকি মেয়াদে আরেকদলের।
সাবেক জোটসঙ্গী বিজেপিকেও এমন প্রস্তাব দিয়েছিল শিবসেনা। তারা বিজেপি অর্ধেক মেয়াদে মুখমন্ত্রিত্ব দেয়ার শর্ত দেয়। কিন্তু বিজেপি তা মানতে রাজি না হলে জোট থেকে বেরিয়ে আসে শিবসেনা। কেন্দ্র থেকে নিজেদের মন্ত্রীকেও পদত্যাগ করিয়ে নেয়। তাই বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়েও সরকার গঠন করতে পারেনি।
বিভিন্ন সূত্রের বরাতে এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এনসিপিও শিবসেনাকে একই সমীকরণে ক্ষমতা ভাগাভাগির প্রস্তাব দিয়ে সরকার গড়তে চায়। আর এটা সত্য হলে মহারাষ্ট্রে আড়াই বছরের মেয়াদে দুই দল থেকে দুজন মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনার কথাও উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না।
তবে এনসিপির আরেক নেতা নবাব মল্লিক ইঙ্গিত দিয়েছেন, পুরো পাঁচ বছরের জন্য শিবসেনারই কেউ মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকবেন। আর উপ-মুখ্যমন্ত্রীর পদে উলোট পালট করে কংগ্রেস ও এনসিপি পাবে। যদিও তিনি বিষয়টি সম্বন্ধে নিশ্চিত করে কিছু জানাতে পারেননি।
শনিবার বেলা তিনটায় শিবসেনা-এনসিপি এবং কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধি দল মিলে মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল ভগত সিং কোশিয়ারির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সরকার গঠনের দাবি জানাবে। কালকে জানা যাবে মহারাষ্ট্রে কি রাষ্ট্রপতির শাসনই জারি থাকবে নাকি সরকার গঠন করবে বিজেপি বিরোধী এই জোট।
তথ্যসূত্র: জাগোনিউজ