মহাসড়কে অতিরিক্ত গতির গাড়ির বিরুদ্ধে স্পিডগান

আপডেট: জানুয়ারি ১৪, ২০১৮, ১২:৩৭ পূর্বাহ্ণ

বড়াইগ্রাম প্রতিনিধি


মহাসড়কে অতিরিক্ত গতির গাড়ির বিরুদ্ধে স্পিডগান দিয়ে গতি পরিমাপ করছেন এসআই ননী গোপাল-সোনার দেশ

মহাসড়কে দুর্ঘটনা রোধে নির্ধারিত গতিসীমা লংঘন করা বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকারসহ চলাচলকারী গাড়ির বিরুদ্ধে স্পিডগান (গতি পরিমাপের যন্ত্র) নিয়ে অভিযানে নেমেছে নাটোরের বনপাড়া হাইওয়ে পুলিশ। একইসঙ্গে দুর্ঘটনা সৃষ্টিকারী থ্রি-হুইলার, ব্যাটারিচালিত এবং শ্যালোমেশিন চালিত ভটভটি ও শব্দ দূষণকারী হাইড্রোলিক হর্নের বিরুদ্ধেও অভিযান চালাচ্ছেন তারা।
বাড়তি ব্যবস্থার কারণে চলতি জানুয়ারি ও গত ডিসেম্বর মাসে মহাসড়কে দুর্ঘটনা অনেক কমে গেছে বলে জানান বনপাড়া হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ননী গোপাল। তিনি বলেন, মহাসড়কে বিশেষ করে বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কে প্রতিমাসেই দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটতো। গতমাস থেকে শীতের সঙ্গে ঘনকুয়াশা শুরু হয়েছে। আর কুয়াশায় দুর্ঘটনার পরিমান বেড়ে যায়। তাই তীব্রশীত উপেক্ষা করে মহাসড়কে দাঁড়িয়ে স্পিডগান দিয়ে অভিযান চালনো হচ্ছে। এরফলে ডিসেম্বর ও চলতি জানুয়ারি মাসে মহাসড়কে কোন দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটে নি।
ওসি বলেন, বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কে নিরাপদ গতিসীমা ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার। কিন্তু সড়কটি খুবই ভালো হওয়ায় গতি বাড়িয়ে দেয় চালকরা। এছাড়া অভারটেকিং মানসিকতা, থ্রি-হুইলার, অসর্তকতার সঙ্গে পথচারী পারাপারের ফলেও ঘটে দুর্ঘটনা। গতিসীমা ৯০ কিলোমিটার অতিক্রম করলে সেই গাড়ি চালকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। আর ৮০ কিলোমিটারের বেশি গতি থাকলে তাদের থামিয়ে শর্তক করে দেয়া হয়। প্রায় প্রতিদিন ২-৩টি করে মামলা করতে হয়। এছাড়া হাইড্রোলিক হর্ন থাকলে তা খুলে নেয়া হচ্ছে। থ্রি হুইলার, ব্যাটারিচালিত এবং শ্যালোমেশিন চালিত ভটভটি জব্দকরাসহ তাদের বিরুদ্ধেও অভিযান চালানো হচ্ছে।
গতকাল শনিবার চালানো অভিযানের সময় সকাল সাড়ে ১০টায় বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কে লাথুরিয়া এলাকায় সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে দেখা গেছে স্পিডগান হাতে গাড়ির গতি মাপছেন এসআই ননী গোপাল। এসময় একটি প্রাইভেটকার ও টাবুলাইন নামে একটি বাসকে থামার নির্দেশ দেওয়া হলো। স্পিডগানে দেখা গেল প্রাইভেটকারটির গতি ১১১ কিলোমিটার এবং বাসটির গতি ৯৭ কিলোমিটার। গতিসীমা লংঘনের অভিযোগে ওই দুই গাড়ির নামে পৃথক দুইটি মামলা করে নির্ধারিত গতিতে গাড়ি চালানো পরামর্শ দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
টাবু লাইনের চালক বাবুল বলেন, আমি এই সড়কে প্রথম এসেছি। একটি রির্জাভ ভাড়া নিয়ে যাচ্ছি। সড়কটি ভালো এবং যথেষ্ট ফাকা তাই এমন চালানো। তবে গতি মেনে চলা উচিৎ ছিলো আমার।
এ বিষয়ে বনপাড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিএম শামসুন নুর বলেন, মহাসড়কে নানা অভিযানের ফলে দুর্ঘটনার পরিমান অনেকটা কমে গেছে। চেষ্টা চলছে আরো কমিয়ে আনার। তবে অভিযানের সফলতার জন্য পথচারী সর্তকতা এবং চালকদের মানসিকতার পরিবর্তন প্রয়োজন।