মাংসের বিকল্প কাঁঠাল

আপডেট: জুলাই ৩, ২০১৮, ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


এ সময় বিভিন্ন মজার ফলে বাজার ভরপুর থাকলেও, কাঁঠাল উপেক্ষা করা কঠিন। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, ভারতের বিভিন্ন অংশ, জ্যামাইকা ও দক্ষিণ আমেরিকায় মানুষের মধ্যে প্রোটিনের চাহিদা পূরণে মাংসের বিকল্প হিসেবে কাঁঠালের জনপ্রিয়তা দ্রুত বেড়ে চলছে।
যারা আমিষভোজী কিংবা নিরামিষভোজী, উভয়েরই খাদ্য তালিকায় রাখা উচিত কাঁঠাল। কেননা কাঁঠালে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি থাকে। এটি প্রোটিনে সমৃদ্ধ (বিচিবিহীন এক কাপ কাঁঠালে ২.৮ গ্রাম প্রোটিন থাকে, যা আপনার দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় প্রোটিনের ৫ শতাংশ)। এছাড়া এতে ক্যালসিয়াম, থায়ামিন, ভিটামিন এ ও কার্বোহাইড্রেট রয়েছে। এটি শক্তি ও ডায়েটারি ফাইবারেও সমৃদ্ধ এবং স্যাচুরেটেড ফ্যাট বা কোলেস্টেরল থেকে মুক্ত। এমনকি কিছু অঞ্চলে কাঁঠাল উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ডায়রিয়া, যক্ষ্মা, জ্বর ও লিভার সিরোসিসের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়।
যেহেতু এই ফল উৎপাদন সহজ এবং একটি কাঁঠালগাছ থেকে বছরে ২০০টি পর্যন্ত কাঁঠাল পাওয়া যেতে পারে, তাই খাদ্য ঘাটতি পূরণে কাঁঠাল চাষের উদ্যোগ নেওয়া উচিত, বিশেষ করে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে।
বাজারে আপনি আপাতদৃষ্টিতে দুই ধরনের কাঁঠাল দেখতে পাবেন, একটি হচ্ছে পাকা ও অন্যটি কাঁচা। কাঁচা কাঁঠাল মিষ্টি ও মচমচে এবং পাকা কাঁঠাল সাধারণত নরম ও কম মিষ্টি হয়। বিশ্বের অনেক দেশে ক্যানে করেও কাঁঠাল বিক্রয় করতে দেখা যায়। ভিগান শেফ ও সেন্ট পিটার্সবার্গ ফ্লোরিডায় অবস্থিত কমিউনিটি ক্যাফের মালিক ম্যান্ডি কেয়েসের মতে, ‘যদি আপনি কাঁঠালকে মসলাদার খাবার হিসেবে খাওয়ার পরিকল্পনা করেন, তাহলে কাঁচা কাঁঠাল বেছে নিন। আমরা গবেষণা করে পেয়েছি যে এক্ষেত্রে ক্যানের কাঁচা কাঁঠাল সহজেই পরিবেশনযোগ্য।’
কিছু ফলের মতো কাঁঠালের সবকিছুই খাওয়া যায় না। কাঁঠালের বিচি সিদ্ধ করে, রোস্ট করে অথবা গুঁড়ো করে খাওয়া যায়- এটি নির্ভর করছে আপনি কোন ধরনের খাবার তৈরি করবেন তার ওপর। এই ফলের কমলা-হলুদ বর্ণের রসালো কোয়াই একে নানাভাবে খাওয়ার উপযোগী করে তুলেছে। কাঁঠালের কোয়া দিয়ে আইসক্রিম, চিপস, জ্যাম, স্যূপ, ক্যান্ডি ও আরো অনেক কিছু বানানো যায়। আপনি ফলের সালাদে এটি ব্যবহার করতে পারবেন, অথবা জ্যাম, জেলি বা চাটনিতে।
কেয়েস গত গ্রীষ্মে তার রেস্টুরেন্টে বারবিকিউ স্টাইলের কাঁঠালের ডিশ (কাঁঠালের স্যান্ডুইচ) করেছিলেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা কাঁঠাল তেলে ভাজার পরে বারবিকিউ সস ও মসলায় ধীরে ধীরে শেকি এবং তারপর একটি স্লো কুকারে অল্প আঁচে রাখি।’ কেয়েস এই সিজনে এই রেসিপিকে ট্যাকোতে রূপান্তর করেন, ‘কাঁঠাল সাধারণত ১০ থেকে ২০ মিনিট ধরে তেলে ভাজা হয়, তারপর প্রায় এক ঘণ্টা ধরে শেঁকা হয় এবং এরপর ক্রকপটে যত বেশি সময় রাখা হবে তত বেশি স্বাদ হবে।’
যদি আপনি ভেজিটেরিয়ান অথবা ভেগান হন, তাহলে আপনি জানেন যে পর্যাপ্ত প্রোটিন পাওয়া কতটা চ্যালেঞ্জিং। আপনার ভালো স্বাস্থ্যের জন্য প্রতিদিন প্রোটিনের কোটা পূরণ করতে কাঁঠাল কেনার কথা বিবেচনা করতে পারেন। তথ্যসূত্র : রিডার্স ডাইজেস্ট