মাতৃদুগ্ধ খাব কোথায়? আদালতের দ্বারস্থ ৯ মাসের শিশু

আপডেট: ডিসেম্বর ৭, ২০১৮, ১২:১০ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


ফের প্রকাশ্যে স্তন্যপান করানো নিয়ে বাধার সম্মুখিন হলেন এক নারী। এবার ঘটনাস্থল বেঙ্গালুরুগামী বিমান। তবে এবার আর সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের মন্তব্য জানিয়ে চুপ থাকেন নি মা। সরাসরি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। পিটিশন ফাইল করেছেন তাঁর ন’মাসের শিশুর নামে।
কিছুদিন আগে কলকাতার সাউথ সিটি শপিং মলে স্তন্যদান করতে গিয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে বাধা পেয়েছিলেন অভিলাষা দাস অধিকারি নামে এক নারী। এবার একই ঘটনা ঘটল নেহা রাস্তোগির সঙ্গেও। কোলকাতা থেকে বাবা মায়ের সঙ্গে বেঙ্গালুরু যাচ্ছিল ন’মাস বয়সের শিশু অভিজ্ঞান রাস্তোগি। চেক-ইন থেকে বেঙ্গালুরুতে বিমান নামা পর্যন্ত প্রায় তিন ঘণ্টা সময় লাগে। মা নেহার অভিযোগ, বিমানবন্দরে পৌঁছে খিদে পায় অভিজ্ঞানের। তাই তিনি ছেলেকে স্তন্যদান করতে যান। ঠিক তখনই বাধা আসে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে। তাঁকে স্পষ্ট জানিয়ে দেয়া হয়, বিমানবন্দর স্তন্যপান করানোর জায়গা নয়। তিনি যেন ছেলেকে নিয়ে অন্য কোথাও যান। এরপরই নার্সিং রুমের খোঁজ করেন নেহা। কিন্তু কর্তৃপক্ষ জানায়, তাদের এমন কোনও ব্যবস্থা নেই। তিনি চাইলে শৌচালয়ে গিয়ে ছেলেকে স্তন্যদান করতে পারেন। স্বভাবতই অসম্মত হন নেহা। তবে তখনকার মতো বিষয়টি ধামাচাপা পড়ে যায়। কিন্তু তারপর বিমানেও একই ঘটনার মুখোমুখি হতে হয় তাঁকে। সেখানেও কেবিন ক্রুরা জানায় বিমানে স্তন্যপান করানো যাবে না। গোটা ঘটনায় চরম অপমানিত হন নেহা। দিল্লি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি।
তবে আদালতে অভিযোগ তিনি দায়ের করেন নি। পিটিশনার হিসেবে ছেলে অভিজ্ঞান রাস্তোগির নাম দেয়া রয়েছে। নিজের অধিকার নিয়ে আদালতের কাছে প্রশ্ন তুলেছে অভিজ্ঞান। জানতে চেয়েছে, মাতৃদুগ্ধ পানের অধিকার তার আছে। তা সত্ত্বেও কেন তাকে স্তন্যপান করতে দেয়া হচ্ছে না। অভিজ্ঞানের বাবা জানিয়েছেন, স্তন্যপান নিয়ে দেশে কোনও নির্দিষ্ট আইন নেই। ফলে শিশুকে স্তন্যপান করতে গিয়ে একাধিক জায়গায় অপমানের শিকার হতে হচ্ছে নারীদের। এর একটি নির্দিষ্ট গাইডলাইন তৈরি হওয়া দরকার। ১৩ ফেব্রুয়ারি শুনানির দিন ধার্য করেছে আদালত।
কিছুদিন আগে সাউথ সিটি মলের মধ্যে শিশুকে স্তন্যদান করতে গিয়ে অপদস্থ হন অভিলাষা দাস অধিকারী নামে এক নারী। তাঁর অভিযোগ, তিনি তাঁর কোলের শিশুকে মলে স্তন্যদান করাতে গেলে কর্মীরা এসে বাধা দেয়। তাঁকে শৌচালয়ে গিয়ে স্তন্যদান করতে বলা হয়। গোটা ঘটনার কথা সোশ্যাল মিডিয়ায় জানান তিনি। পরিস্থিতি ক্রমশ ঘোরালো হতে থাকে। বেগতিক দেখে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হয় মল কর্তৃপক্ষ। বরখাস্ত করা হয় অভিযুক্ত কর্মীকেও। তথ্যসূত্র: সংবাদ প্রতিদিন