মাদক চোরাকারবারির সম্পদ জব্দ নেপথ্যের গডফাদারদের খুঁজে বের করতে হবে

আপডেট: জুন ৩, ২০১৯, ১২:৫২ পূর্বাহ্ণ

ভ্যানচালক কোটি টাকা মূল্যের সম্পদের মালিক। একজন ভ্যানচালক কীভাবে কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালক বনে গেল? এটা দেশ জুড়েই আলোচনা বিষয়। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশসহ দেশের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়েছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার তালিকাভুক্ত শীর্ষ মাদক কারবারি ও ইয়াবা ডন হিসেবে পরিচিত কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার নুরুল হক ভুট্টোর পরিবারের দুটি বিলাসবহুল বাড়ি জব্দ করেছে পুলিশ। যে এক সময় ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতো।
ইয়াবা ব্যবসার টাকায় গড়ে ওঠা এসব রাজকীয় বাড়ি ও বাড়ির মালামাল আদালতের নির্দেশে জব্দ করা হয়। এখন থেকে এসব বাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ করবে পুলিশ। জব্দ করা দুটি বাড়ির মূল্য ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকার বেশি বলে জানিয়েছে পুলিশ। শনিবার সকাল থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এসব বাড়ি ও বাড়ির মালামাল জব্দে অভিযান চালায় পুলিশ।
পুলিশের তথ্যমতে, কক্সবাজার সীমান্তে অনেক লবণ চাষি, দিনমজুর, রিকশা ও ভ্যানচালক ইয়াবা বেচাকেনা করে টেকনাফে রাজকীয় বাড়ি বানিয়েছেন। সারাদেশে মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হলে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায় তালিকাভুক্ত এসব ইয়াবা কারবারি। এর মধ্যে অনেকেই গ্রেফতার ও বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। ইয়াবার টাকায় যারা অবৈধ সম্পদের মালিক বনে গেছেন পর্যায়ক্রমে তাদের একই পরিণতি হবে।
প্রথমবারের মত শীর্ষ কোনো মাদক ব্যবসমায়ীর সম্পদ জব্দ করা হলো। মাদক এমনই একটি ব্যবসায় পন্থা যদদ্বারা রাতারাতি কোটিপতি বনে যাওয়া যায়। দেশে মাদকের সাথে সংশ্লিষ্ট থেকে জিরো থেকে হিরো বনে যাওয়া কোটিপতির সংখ্যা নেহাতই কম নয়। সরকার মাদকের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স দেখাচ্ছে। এবং সেটি সরকারের নানা তৎপরতার মধ্য দিয়ে প্রতিভাত হচ্ছে। মাদক চোরাচালান বা ব্যবসায় এমনই আকর্ষণ যে, মৃত্যু ঝুঁকি নিতেও পিছুপা হচ্ছে না তারা। অর্থের প্রবাহ এতই ব্যাপক যে মাদক চোরাচালান ও ব্যবসাটাও সংশ্লিষ্টদের কাছে আসক্তির মতই হয়ে গেছে। সংবাদ মাধ্যমের খবর অনুযায়ী বৃহস্পতিবার রাতে দেশের ১ নম্বর মাদক চোরাকারবারী সাইফুল কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। এর আগে তার দুই ভাইও বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। তার পরেও সাইফুল মাদক চোরাচালানের সাথে সম্পৃক্ত ছিল।
সাইফুলের মত মাদক চোরাচালানি দেশে আরো আছে। তাদের ব্যাপারেও কঠোর সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় এসেছে। পলাতক যারা রয়েছে একইভাবে তাদেরও সম্পদ জব্দ করার উদ্যোগ নিতে হবে। আর যারা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে তাদেরকেও চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। মাদক চোরাচালানের সাথে অদৃশ্য গডফাদার যারা রয়েছেন তাদের নাগাল পাওয়া না গেলে মাদকের ভয়াবহতা রুখে দেয়া সম্ভব হবে না। সাময়িক পরিস্থিতির উন্নতি মনে হলেও তা সময়মত মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ