মাদক বিরোধী অভিযান : প্রাসঙ্গিক ভাবনা

আপডেট: জুন ৩, ২০১৮, ১:৪৩ পূর্বাহ্ণ

হাবিবুর রহমান স্বপন


দেশে এখন চলছে মাদকবিরোধী অভিযান। এ পর্যন্ত মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশ ও র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে শতাধিক ব্যক্তি। ধারণা করা হচ্ছে এই সংখ্যা বাড়তেই থাকবে।
পাঁচটি সরকারি সংস্থার সমন্বিত জরিপে মাদক ব্যবসায়ী ও পৃষ্ঠপোষকদের একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে। গত এক দশকে দেশে ভয়াবহ আকারে মাদকের প্রসার ঘটেছে। মাদকের ভয়াবহ ছোবলে যুব সমাজ প্রায় ধ্বসের দ্বারপ্রান্তে। অপরাধ প্রবণতা বেড়েছে সর্বত্র। এমতাবস্থায় সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মাদক নির্মূলের।
মাদকের ব্যাপক বিস্তার তো একদিনে হয়নি। কিভাবে এর বিস্তার লাভ হলো এই নিয়ে গবেষণা করলে রীতিমতো অবাক হওয়ার বিষয়। এই বিষয়ে কেউ যদি পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের ইচ্ছা পোষণ করেন তার জন্যে বহু তথ্য উপাত্ত বিদ্যমান রয়েছে সরকারের গোয়েন্দা বিভাগ সমূহের কাছে।
সম্প্রতি সমাপ্ত পুলিশের অপরাধ বিষয়ক ত্রৈমাসিক সভায় পুলিশ সুপার পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন, মাদক বাণিজ্যের সঙ্গে পুলিশের মাঠ পর্যায়ের সদস্য ও কর্মকর্তারা জড়িত। দেশের বিভন্ন থানায় ওসি, এসআই পদায়নে রেঞ্জ ডিআইজিরা ২০ থেকে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নিয়ে থাকেন। পোস্টিং পাওয়ার পর কর্মকর্তারা ঘুষের টাকা আদায় করেন মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে।
ইয়াবাসহ মাদকের ব্যবসা করতে হলে প্রশাসনকে ঘুষ দিতেই হবে। এই ঘুষের টাকার পরিমাণ কত তা শুনলে চোখ-ছানাবড়া হবেই। বিভিন্ন সংবাদপত্রে এতদসংক্রান্ত খবরাখবর পড়ে অবহিত হলাম প্রতিদিন শত শত কোটি টাকার কারবার হয় মাদকের ব্যবসায়!
এই টাকা কে পায় বা নেয়? স্থানীয় প্রশাসন, রেঞ্জ, জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়, গোয়েন্দা বিভাগের এক শ্রেণির কর্মকর্তা এবং মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক শ্রেণির কর্মকতা নিয়মিত এই টাকা পেয়ে থাকে। তাদের কারণেই দেশব্যাপি মাদকের দ্রুত বিস্তার ঘটেছে। মাসে কোটি টাকা তারাসহ একশ্রেণির রাজনীতিবিদ পায়। কিছু রাজনীতিবিদের নির্বাচনী ব্যয়ভার ও মাস্তান নিয়োগের কাজটিও করে থাকে মাদক ব্যবসায়ীরা। এসব দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের পারিবারিক অনুষ্ঠান, বিদেশ ভ্রমণ ও স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের বিভিন্ন ব্যয়ভার বহন করে থাকে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীরা। তারাই মাদকের গডফাদার হিসেবে চিহ্নিত। পুলিশ সদর দপ্তরের কাছে নাকি তালিকাও আছে কোনো কোনো অফিসার এই মাদক কারবারীদের সঙ্গে অপকর্মে লিপ্ত।
সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে সারাদেশে মাদক নির্মুল অভিযান পরিচালনাকালে গুরুত্বপূর্ণ অনেক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। অধিকাংশ জেলায় স্থানীয় প্রশাসন, রেঞ্জ, জেলা পুলিশ কার্যালয় ও গোয়েন্দা পুলিশ বিভাগে নতুন কোনো কর্মকর্তা যোগদান করলে, অভিযোগ আছে প্রথমে তাকে ১০ হাজার থেকে ১ লাখ, ৫ লাখ, ১০লাখ এমনকি এক কোটি টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিয়ে থাকে মাদকব্যবসায়ীরা। চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার দক্ষিণ রূপকাণিয়া গ্রামের মঞ্জুরুল আলম মাদকের গডফাদার হিসেবে পরিচিত। সে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তালিকাভূক্ত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী। সম্প্রতি মাদক বিরোধী অভিযানে বন্দুকযুদ্ধে মঞ্জু নিহত হয়েছে। সামান্য একজন ছোট কাপড় ব্যবসায়ী মাদকদ্রব্যের ব্যবসা করে মাত্র কয়েক বছরে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়। তাকে কয়েক দফা মাদক মামলায় গ্রেফতারও করা হয়। ২০১২. ২০১৪ এবং ২০১৫ সালে সে হয় গ্রেফতার পুলিশের হাতে। যখনই সে ধরা পড়েছে তার কাছে পাওয়া গেছে লক্ষাধিক পরিমাণ ইয়াবা। সর্ববৃহৎ চালানটিতে নারায়ণগঞ্জে ধরা পড়ে, তার কাছে পাওয়া যায় প্রায় সাড়ে ৫ লাখ পিস ইয়াবা। মঞ্জুর আত্মীয়-স্বজনরা জানায় পুলিশ ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার সখ্য ছিল। গ্রেফতার হওয়ার মাত্র ক’দিন আগেও সে মোটা টাকা দিয়েছে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে। ১৫ টিরও বেশি মামলার আসামী মঞ্জু ক্রস ফায়ারে নিহত হওয়ার পর আরও অনেক তথ্য বেরিয়ে আসছে।
টঙ্গীর টোকাই বাচ্চু ছিল উক্ত এলাকার বড় মাদক ব্যবসায়ী। ফুটপাথের দোকানদার বাচ্চু ট্রাক থেকে সব্জি চুরি করে বিক্রি করতো। এক রাজনীতিবিদের হাত ধরে সে হয়ে ওঠে মাদকের ব্যবসায়ী। ইয়াবা বিক্রি করে হয় কোটিপতি। তার সঙ্গে পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগের কতিপয় কর্তার প্রকাশ্যেই ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে। বাচ্চু পুলিশ কর্মকর্তাদের দামি উপঢৌকন প্রদান করে বহাল তবিয়তে চুটিয়ে মাদক ব্যবসা করেছে বছরের পর বছর। এর জন্য তাকে কোনো কোনো অফিসারকে ২ কোটি টাকা পর্যন্তও ঘুষ দিতে হয়েছে। প্রতি সপ্তাহে কয়েক কোটি টাকা দিতে হয়েছে বাচ্চুকে অবাধে মাদকদ্রব্যের ব্যবসা করতে।
বাচ্চুকে একবার বস্তি থেকে গ্রেফতার করে গাজীপুর পুলিশের একজন কর্মকর্তা। পরে দফা রফা হয় (ছাড়া পায়) বাচ্চুর নিজস্ব নিশান এক্স টেইল জিপ এবং ৫০ লাখ টাকা দিয়ে ছাড়া পায়। গাজীপুর টঙ্গি এলাকায় যে পুলিশ অফিসারই এসেছে সেই অফিসারই বাচ্চুর কাছে ঘুষ এবং দামি মোবাইল, ফ্রিজ, স্বর্ণালঙ্কার উপহার পেয়েছেন। কমপক্ষে পাঁচবার ধরা পড়েও তাকে জেল হাজতে যেতে হয়নি। ঘুষের টাকাই তাকে জেল হাজত থেকে রক্ষা করেছে। বস্তিবাসী বাচ্চুর এখন তিনটি স্ত্রী। অনেক জমিজমা। এরশাদ আমলের টোকাই বাচ্চু বিএনপি আমলে থাকতো মিছিল-মিটিংয়ে। এখন ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক আশ্রয়ে সে থাকে শান শওকতে। ঘুষ প্রদানের কারণে দফায় দফায় ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্যের দামও বাড়াতে হয় বাচ্চুকে।
এমন উদাহরণ প্রচুর। পাবনা শহরে মাদক ব্যবসায়ী ক্ষমতাসীন দলের এক নেতা এবং তার ভাই জামিল। কয়েকদফা তাকে পুলিশ ধরেছে তাতে তার ব্যবসা বন্ধ হয় নাই। এছাড়া এক যুব নেতা যিনি ‘জয় বাংলা’ সেøাগান দিয়ে সম্প্রতি অপর এক আওয়ামী লীগ নেতার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুর করে। এর পরেও মামলা মিমাংসা করতে বাধ্য হন ক্ষতিগ্রস্ত আওয়ামী লীগের হোটেল ব্যবসায়ী। রাজনীতির আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে মাদক দ্রব্যের ব্যবসা করে সে এখন কোটিপতি। নাম তার মামুন। আগে বিদেশে ছোট চাকরি করতো। এখন তার নামের আগে ইয়াবা যুক্ত হয়ে হয়েছে ‘ইয়াবা মামুন’। দামি গাড়িতে চলাফেরা তার এবং সাঙ্গপাঙ্গরা চলাফেরা করে দামি মোটর সাইকেলে। এখন সে শহরতলীতে বিশাল অট্টালিকা করেছে। মামুনের বাড়িতে পুলিশের আনাগোনা দেখা যায়।
সম্প্রতি বদলি হয়ে যাওয়া একজন পুলিশের গোয়েন্দা কর্মকর্র্তা জানান, মামুন সদর থানার পুলিশ অফিসারদের দামি ফ্রিজ, টেলিভিশন, জামা-কাপড়সহ নানা উপঢৌকন দিয়ে থাকে। শুধু তাই নয় তার সঙ্গে পুলিশের বেশ সখ্য। থানায় মাঝে-মধ্যেই মামুনকে দেন দরবার করতে দেখা যায়। ইয়াবা মামুনের রয়েছে অস্ত্রধারী ক্যাডার বাহিনী। তাদের সঙ্গে মাঝে মধ্যেই ঝামেলা হয় প্রতিপক্ষের। পাবনা শহরের একজন ধনাঢ্য ব্যবসায়ী তার গডমাদার।
বাচ্চু, মঞ্জু, মামুনদের মতো উদহরণ প্রচুর। প্রতিটি জেলায়, উপজেলা থেকে গ্রাম পর্যায়ে মাদক দ্রব্যের বিস্তার ঘটেছে। আর এমন সব মাদক ব্যবসায়ীর উদ্ভব হয়েছে হাজার হাজার।
বাংলাদেশে মাদকদ্রব্যের ব্যাপক প্রসার লাভ করে আশির দশকে। তখন হেরোইন নামের বিষাক্ত মাদকদব্যে আসক্ত হয় যুবকেরা। হেরোইন এর নেশায় বহু পরিবার ধ্বংস হয়ে গেছে। কোটিপতি পরিবারের সন্তানেরা হেরোইন সেবনের কারণে পুরো পরিবার নিঃস্ব হয়ে গেছে। মৃত্যুও হয়েছে বহু মাদকাসক্তের। আবার মাদকের ব্যবসা করে বহু ব্যক্তি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে। এছাড়াও নানা ধরনের মাদকদ্রব্য বাংলাদেশের বাজারে বিকিকিনি হয়ে থাকে। যেমন বাংলা মদ ও বিদেশি মদ, গাঁজা, চরস, হাসিস, শীষা, ফেন্সিডিল ইত্যাদি। বর্তমানে সহজলোভ্য ইয়াবা ট্যাবলেট। মাদকদ্রব্যের ব্যবসা যারা করে তারা সর্বদাই আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর কতিপয় সদস্যের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে নেয়। এতে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু অসৎ কর্মচারিও বেশ লাভবান হয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নামের একটি দপ্তর আছে আমাদের দেশে। সীমিত সংখ্যক জনবল নিয়ে চলে দপ্তরটি। এই দপ্তর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ করে, নির্মূল করে না। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ করার চেয়ে এখন জরুরি হয়ে পড়েছে নির্মূল করার।
মাদকদ্রব্যের প্রসার হয়েছে ক্যান্সারের মতো। চিকিৎসা শাস্ত্রে বলা হয় ক্যান্সার যখন প্রাথমিক পর্যায়ে থাকে তখন তা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। কিন্তু যখন তা ছড়িয়ে পড়ে শরীরে তখন নিরাময় অসম্ভব হয়ে পড়ে। আমাদের দেশে মাদকদ্রব্যের ব্যবহার ক্রমান্বয়ে ছড়িয়ে পড়েছে। কিছু অসৎ ব্যক্তি এই ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছে। তাদের মদদদাতা কিছু অসৎ রাজনীতিবিদ। আবার কিছু অসৎ প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারি এর সঙ্গে জড়িত।
এখন সরকার মাদকের ভয়াবহতা থেকে জাতিকে রক্ষা করতে শুরু করেছে মাদকবিরোধী অভিযান। এই অভিযানে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হচ্ছে মাদক ব্যবসায়ীরা। কেউ বলছেন এটি হত্যাকা-, আবার এর বিপরীতে সরকারি লোকজন বলছেন এটি ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মৃত্যু। বিচার বহির্ভুত হত্যাকা- আমাদের দেশে সংবিধান সম্মত না। সংবিধানে প্রতিটি নাগরিকের বাঁচার অধিকার সংরক্ষণ করা আছে। কিন্তু মৃত্যু তো হচ্ছে প্রতিদিনই আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর হতে।
শুধু কি মাদকের কারবারীরাই এর জন্য দায়ী? দায় কি বর্তায় না প্রশাসনের উপর? কী করে মাদকদ্রব্যের এতো প্রসার ঘটলো?
মাদক ব্যবসায়ীদের সম্পদ রাতারাতি বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই সাথে যেসব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে তাদের হিসাবটাও নিতে হবে। আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের সঙ্গতি নেই যেসব পুলিশ অফিসারের তাদের ব্যাপারে সরকারকে একটি কঠিন আইনানুগ সিদ্ধান্ত নিতে হবে। হ্যাঁ, এ প্রসঙ্গে বলতেই হয়, আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হলে কি করণীয়। ক্রস ফায়ারে মৃত্যু যেহেতু প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে,অতএব সংক্ষিপ্ত বিশেষ আদালতে বিচার করে শাস্তি দেয়ার বিধান করতে হবে।
আবারও বলতে হয়, ‘আমরা আইনের শাসন চাই না, চাই ন্যায়ের শাসন।’ কারণ আইনের শাসনে আমাদের ভয় আছে। বঙ্গবন্ধুসহ জাতীয় নেতাদের হত্যা করার পর আইন করে (ইনডেমনিটি) হত্যাকা-ের বিচার বন্ধ করা হয়েছিল। অর্থাৎ বেআইন দিয়ে আইনকে প্রতিরোধ করা হয়েছিল। অত্রএব আমরা চাই ন্যায়ের শাসন। ন্যায় ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হলে দরকার অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা। অবৈধ আয়ের উৎস এবং অবৈধ আয় বন্ধ করতে হবে প্রথম। এর জন্য দরকার ন্যায়ের শাসন।
মাদকের ব্যবসায়ী বা কারবারিদের প্রতিরোধ করার পাশাপাশি প্রতিরোধ করতে হবে ঘুষখোরদের। যারা ঘুষের বিনিময়ে নানা অপকর্ম করার পথ প্রশস্ত করে দেয় তাদের ব্যাপারে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
সরকারেরই বিভিন্ন সংস্থার দেয়া তথ্যে দেখা যাচ্ছে মাদকের প্রসার ঘটার পেছনে কতিপয় পুলিশ, গোয়েন্দা বিভাগ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের সদস্যসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তারা জড়িত। যেহেতু এটি পরিস্কার যে কিছু অসাধু সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারির নিজ নিজ স্বার্থ হাসিলের কারনেই মাদকদ্রব্যের প্রসার ঘটেছে, অতএব তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে হবে সরকারকেই।
পুলিশের ওসি, পুলিশ সুপার, ডিআইজি, আইজি, র‌্যাবের কর্মকর্তাসহ গোয়েন্দা বিভাগের সকল কর্মকর্তার সম্পদের হিসাব নেয়া এবং রাখা হোক এবং তাদের কার্যকলাপ মনিটরিং করা হোক। যারা ইতোমধ্যেই সম্পদের পাহাড় বানিয়েছেন তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে রাষ্ট্রীয় তহবিলে জমা করা হোক।
দুর্নীতি রোধে এখনই কঠিনতম সিদ্ধান্ত নিতে হবে। অনেকেই অবৈধ অর্থ কামিয়ে দেশে বিদেশে নিজের নামে এবং নিকটাত্মীয়দের নামে স্থাবর অস্থাবর সম্পদ করেছে, সে সবেরও হিসাব নিতে হবে।
দেশটা তো জনগণের। বহু ত্যাগের বিনিময়ে এই দেশ পেয়েছি আমরা। কিছু লোক রাষ্ট্রীয় চেয়ারে অফিসার পদে বসে লুটেপুটে খাবে এ জন্য তো দেশ স্বাধীন হয়নি। আর যারা রাজনীতিবিদ ক্ষমতাসীন তাদেরও দেশের প্রতি দায়িত্ব থাকতে হবে। জনগণের টাকায় ক্রয় করা দামি গড়িতে চড়ে জনগণের সঙ্গে বা দেশের জনগণের সঙ্গে যারা বেঈমানি করছেন তাদের ভয় ডর বলতে কিছু নেই বলেই মনে হয়। প্রকাশ্যে ঘুষ-দুর্নীতি চলছে, এর প্রতিকার নেই। সরকারি জমি, জলা, বালু সবই চলে যাচ্ছে অপকর্মকারীদের দখলে। এখনই সময় তা রক্ষা করার।
এখন দরকার একজন সৎ রাষ্ট্রনায়কের এবং কিছু সৎ অফিসারের। ইতালির মতো। নব্বইয়ের দশকে ইতালিতে শুদ্ধি অভিযান হয়েছিল। মাত্র এক’শ জন সৎ ম্যাজিস্ট্রেট এবং সম সংখ্যক পুলিশ অফিসার দুর্নীতি বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। বহু দুর্নীতিবাজ ব্যক্তি ভয়ে তাদের বাড়ি-ঘর সম্পদ রেখে দেশ থেকে পালিয়ে যায়। পালিয়ে যাওয়াদের মধ্যে বহু সামরিক অফিসার ও পুলিশ অফিসার ও আমলা ছিল। সরকার দুর্নীতিবাজদের জন্য সময় নির্ধারণ করে দেয় দেশে ফিরে আয়-ব্যয়ের (সম্পদের) হিসাব দেয়ার জন্য। যারা ফিরে আসে তারা আদালতে বিচারের সম্মুখিন হয়। অনেকেরই জেল-জরিমানা এবং অবৈধ আয়ে করা সম্পদ বাজেয়াপ্ত হয়। আবার অনেকে ভয়ে আর দেশেই ফেরে নাই। বাজেয়াপ্ত করা সম্পদ দিয়ে বহু গরিবের কর্মসংস্থান হয়েছে সেদেশে।
সংবাদমাধ্যমেই দেখলাম মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকেই মাদক ববসায়ীরা তাদের মাদকের টাকায় নির্মাণ করা বাড়ি-ঘরে তালা ঝুলিয়ে পলাতক হয়েছে।
আমাদের জাতিগতভাবে একটা কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমাদের কিছু লোকের মানসিকতাটাই এমন এদেশে লুটপাট করে সম্পদ করাটা যেন অতিরিক্ত যোগ্যতা। তাদের ভুল ভাঙাতে এখনই সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
এখন প্রশ্ন, ‘বিড়ালের গলায় ঘণ্টাটা বাঁধবে কে?’

হাবিবুর রহমান স্বপন [email protected]
(লেখক ; সাংবাদিক, কলামিস্ট)
০১৭১০৮৬৪৭৩৩