মাদক ব্যবসায়ীর তালিকায় স্কুল ছাত্র মাদকবিরোধী অভিযান প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে!

আপডেট: জুলাই ৬, ২০১৮, ১২:৫৮ পূর্বাহ্ণ

গোদাগাড়ীতে মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকায় স্কুল ছাত্রের নাম এসেছে। রাজশাহী মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর গোদাগাড়ী উপজেলার মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা তৈরি করে। গত মঙ্গলবার একটি জাতীয় দৈনিকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের তালিকার কিছু নাম প্রকাশ করা হয়। ওই তালিকায় গোদাগাড়ীর শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীদের নাম বাদ গেলেও মহিশালবাড়ী আল-ইসলাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণির এক ছাত্রের নাম দেখে এলাকাবাসী হতবাক হয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য মতে, মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে তালিকাভুক্ত ওই ছাত্রের বাবা দরেদ্র কৃষক। তার ছেলে কিংবা তার পরিবার মাদকের মত গর্হিত কাছে লিপ্ত হতে পারে তা এলাকাবাসী বিশ্বাস করতে নারাজ। গ্রামবাসীর ধারণা যে, প্রকৃত মাদক ব্যব্সায়ীগের আড়াল করতেই তালিকায় স্কুল ছাত্রের নাম ভুক্ত করা হয়েছে। ওই ছাত্র বর্তমানে নব শ্রেণির পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। কিন্তু ইতোমধ্যেই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের সদস্য পরিচয়ে ওই ছাত্রকে তার বাড়িতে খোঁজ করা হয়েছে। অবশ্য অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেছেন।
ইতোমধ্যে মাদকবিরোধী অভিযানের সফলতার ব্যাপারে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, যা দেশবাসীর কাছে মোটেও প্রত্যাশিত নয়। বরং দেশবাসী মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স দৃঢ়ভাবে সমর্থন করছে। মাদক ব্যবসার সাথে যারা ওতপ্রোতভাবে জড়িত তাদের নাগাল কিন্তু এখনো মেলেনি। তাদের অধিকাংশই এখনো শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আওতার মধ্যে আসে নি। বলা যায় ধরাছোঁয়ার বাইরেই তারা রয়ে গেছে। ওই প্রতিবেদনেই উল্লেখ করা হয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের তালিকায় মাদারপুরের শরিফুল, মহিশালবাড়ীর জিয়াসহ শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীদের নাম নেই। এটাকে তালিকা করার ত্রুটি বলা যায়, না অন্য কিছু। তবে এটাতো বলাই যায় এর ফলে মাদকবিরোধী অভিযানই প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।
যে ছাত্রের নাম তালিকায় এসেছে সে যদি প্রকৃত অর্থেই নির্দোষ হয় তাহালে তার মানসিক বিপর্যয়ের দায় কে নেবেÑ যখন কি না ওই ছাত্র পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে এবং মানসিক অস্থিরতা ও ভীতির কারণে তার পরীক্ষাও আশানুরূপ নাও হতে পারে। ব্যাপারটি শুধু ছত্রেরই নয়Ñ দরিদ্র পরিবারটিরও। সব সময় ভীতি ও আতঙ্কের মধ্যে তাদের থাকতে হচ্ছে। এই মানসিক যন্ত্রণার দায় কে নেবে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের অধিকর্তা তদন্তের কথা বলেছেন, কিন্তু সেটা কত দিনে? বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে ওই ছাত্র নির্দোষ হলে তাকে তালিকামুক্ত করা হোক। অন্তত ওই ছাত্র নিশ্চিন্তে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ