‘মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনকে সহজ করতে হবে’

আপডেট: মার্চ ৬, ২০১৭, ১২:০৯ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক



মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনকে সহজ করতে হবে, যাতে করে কোনো গ্রাহক হয়রানির শিকার না হয়। তাহলে বৈধ পথে রেমিটেন্স পাঠানোর হার বাড়বে বলে মনে করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ। গত শুক্রবার এনটিভি অনলাইনকে এসব কথা বলেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক এ গভর্নর।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানান যায়, প্রবাসী বাংলাদেশিরা চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরের ফেব্রুয়ারিতে ৯৩ কোটি ৬২ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছে। গত বছরের এই সময়ের চেয়ে ২০ কোটি ডলার বা ১৭ দশমিক ৬০ শতাংশ কম। গত বছর ফেব্রুয়ারিতে এসেছিল ১১৩ কোটি ৬২ লাখ ডলার।
জানা যায়, একক মাস হিসাবে ফেব্রুয়ারি মাসে গত ছয় বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থায় চলে এসেছে। ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ৯২ কোটি ৮৮ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিটেন্স দেশে পাঠিয়েছিলেন।
সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, বিদেশ থেকে কেউ বৈধ পথে রেমিটেন্স পাঠাতে চাইলে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের বিষয়ে কিছু প্রশ্ন করা হয়। যখন দেশে টাকা পাঠানো হয়, তখন অনেক খোঁজখবর নেওয়া হয়। কার কাছে অর্থটা যাবে, কে সেই ব্যক্তি- এ বিষয়ে কাগজপত্র চাওয়া হয়। পরে যাচাই-বাচাই করা হয়। এটাকে সাধারণ গ্রহকরা হয়রানি মনে করেন।
সাবেক এ গভর্নর বলেন, প্রবাসীরা রেমিটেন্স পাঠাচ্ছেন না এমন নয়, তাঁরা পাঠাচ্ছেন তবে বৈধ পথে না পাঠিয়ে অবৈধ পথে পাঠাচ্ছেন। বৈধ পথ আর অবৈধ পথে রেমিটেন্স পাঠানো খরচের ব্যবধান হচ্ছে চার থেকে পাঁচ টাকা। এটার ব্যবধান কমানো দরকার।
সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, সুদান, লিবিয়া, ওমানসহ বেশকিছু দেশে আয় অনেক কমেছে। অন্যদিকে কুয়েত নিয়ম-কানুন অনেক কঠোর করেছে। ফলে সে দেশের কোনো শ্রমিক অন্য দেশে যেতে পারেন না। যার প্রভাব রেমিটেন্স পাঠানোর ক্ষেত্রে পড়েছে।
সাবেক গভর্নর আরো বলেন, ব্যাংকগুলোর আরো বেশি তৎপর হওয়া উচিত। পাশাপাশি রেমিটেন্স পাঠানোর ফি কমানোর দরকার বলে তিনি মনে করেন।
মানিলন্ডারিং প্রতিরোধে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সম্প্রতি কয়েক দফায় দেশের ব্যাংকগুলোর সঙ্গে বৈঠকসহ দূতাবাসগুলোতে চিঠি পাঠানো হয়েছে। রেমিটেন্সের পতনের কারণ অনুসন্ধানের জন্য একটি কমিটি গঠন করেছে। এর পরেও বাড়ছে না দেশে পাঠানো রেমিটেন্সের প্রবাহ।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগের প্রতিবেদনে দেখা যায়, প্রতি অর্থবছরে রেমিটেন্স-প্রবাহ বাড়লেও গত অর্থবছরে এসে আড়াই শতাংশ কমে যায়। যা চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরেও অব্যাহত রয়েছে। অর্থবছরের প্রথম মাস তথা জুলাইয়ে ১০০ কোটি ৫৫ লাখ ডলারের রেমিটেন্স আসে, যা বিগত ৩৪ মাসের মধ্যে ছিল সর্বনিম্ন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত আগস্ট মাসে ১১৮ কোটি ৩৬ লাখ, সেপ্টেম্বরে ১০৫ কোটি ৬৬ লাখ এবং অক্টোবরে ১০১ কোটি ডলারের রেমিটেন্স দেশে আসে। নভেম্বরে মাত্র ৯৫ কোটি ১৪ লাখ ডলার রেমিটেন্স আসায় বিগত ৭২ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন রেমিটেন্সের রেকর্ড হয়। এরপর ডিসেম্বর মাসে রেমিটেন্স আসে ৯৫ কোটি ৮৭ লাখ ডলার। জানুয়ারি মাসে রেমিটেন্স আসার গতি একটু বেড়ে ১০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যায়। সর্বশেষ ফেব্রুয়ারি মাসে রেমিটেন্স আসে ৯৩ কোটি ৬২ লাখ ডলার।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, বাংলাদেশে রেমিটেন্স প্রেরণকারী প্রথম সারির ১০টি দেশের পরিসংখ্যান দেখলে দেখা যায় যে তার মধ্যে আটটি দেশ থেকেই রেমিটেন্স কমেছে।