মান্দায় বিপদ সীমায় আত্রাই নদীর পানি

আপডেট: জুলাই ১৬, ২০১৯, ১২:২১ পূর্বাহ্ণ

মান্দা প্রতিনিধি


মান্দায় আত্রাই নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে তলিয়ে গেছে পাড় সংলগ্ন ফসলি জমি সোনার দেশ

নওগাঁর মান্দায় হু-হু করে বাড়ছে আত্রাই নদীর পানি। গত ৪৮ ঘণ্টায় এ নদীর পানি বেড়ে বিপদসীমায় অবস্থান করছে। কয়েকদিনের টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে পাহাড়ি ঢলে নদীর এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
গতকাল সোমবার বিকেল ৫টায় এ সংবাদ লেখার সময় নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। আগামি ৪৮ ঘণ্টা এ নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে। এদিকে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তলিয়ে যেতে শুরু করেছে নদীর পাড় সংলগ্ন জমির ফসল।
নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে আত্রাই ও ফকিরনি নদীর উভয় তীরে অন্ততঃ ২০টি পয়েন্ট ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। এসব পয়েন্টে আগে থেকেই তদারকির দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দারা।
জানা গেছে, আত্রাই নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করার সঙ্গে সঙ্গে মদনচক, উত্তর লক্ষ্মীরামপুর, বানডুবি, কালিকাপুর, কামারকুড়ি, ছোটবেলালদহ, খুদিয়াডাঙ্গা, বুড়িদহ, পশ্চিম নুরুল্লাবাদ, বাগাতিপাড়া, জোতবাজার, গোয়ালমান্দা, পারনুরুল্লাবাদ, নিখিরাপাড়া, চকরামপুর, কয়লাবাড়ি, দ্বারিয়াপুর বেড়িবাঁধ, খুদিয়াডাঙ্গা পূর্বপার, বাইবুল্যা পয়েন্ট ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। এসব এলাকার লোকজন স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে দিনরাত পাহারা দিয়ে বাঁধ টিকিয়ে রাখেন। এসময় নির্ঘুম রাত কাটে স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণের পর থেকে আজ পর্যন্ত এসব বাঁধে আর সংস্কার করা হয়নি। এ কারণে দুইধারের মাটি কেটে গিয়ে বাঁধগুলো সংকুচিত হয়ে পড়ছে। এছাড়া পুরাতন বাঁধে রয়েছে ইঁদুরের অসংখ্য গর্ত। বন্যার পানি বাঁধে এসে চাপ দিলে এসব গর্ত দিয়ে পানি বাঁধের অপর পারে চলে যায়। শুষ্ক মৌসুমে এসব স্থানে সংস্কার করা হলে বর্ষা মৌসুমে অনেকটাই নিরাপদে বসবাস করতে পারবেন নদীপাড়ের মানুষ।
নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুধাংশু কুমার সরকার জানান, নদীর পানি হু-হু করে বাড়ছে। সোমবার সন্ধ্যার দিকে পানি বিপদসীমা অতিক্রম করবে। আগামি ৪৮ ঘণ্টা পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে। আবহাওয়া পরিষ্কার হলে বৃহস্পতিবারের দিকে এ নদীর পানি কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে পাউবোর সকল কর্মকর্তা-কর্মচারির ছুটি বাতিল করে কাজে নামানো হয়েছে। এরা সার্বক্ষণিক ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে তদারকি করছেন। বন্যা মোকাবেলায় সকল প্রকার প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানান তিনি।
মান্দা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সরদার জসিম উদ্দিন জানান, উপজেলার ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে নজরদারি করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে সুজনসখী খেয়াঘাটের ভাঙনস্থানে যেসব গর্তের সৃষ্টি হয়েছিল তাৎক্ষণিক মাটি দিয়ে সেগুলো ভরাট করে দেয়া হয়েছে। বন্যা মোকাবেলা উপজেলা প্রশাসন সবধরণের প্রস্তুতি নিয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ