মার্কিন টেলিযোগাযোগ খাতে প্রবেশের উদ্যোগ শুরুতেই ট্রাম্প প্রশাসনের বাধার মুখে চায়না মোবাইল

আপডেট: জুলাই ৫, ২০১৮, ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


চায়না মোবাইলের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ঠেকানোর উদ্যোগ নিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত সোমবার ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে চীনের রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণাধীন টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠানটির যুক্তরাষ্ট্রে কার্যক্রম শুরুর আবেদন প্রত্যাখ্যানের সুপারিশ করা হয়েছে। চীনভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটির এ উদ্যোগকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি মনে করা হচ্ছে। খবর রয়টার্স।
বিশ্বের সর্ববৃহৎ টেলিযোগাযোগ সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান চায়না মোবাইল। এর সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা ৮৯ কোটি ৯০ লাখ ছাড়িয়েছে। চীনের টেলিযোগাযোগ খাতে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে আছে এ প্রতিষ্ঠান। ২০১১ সালে চায়না মোবাইল টেলিযোগাযোগ খাতের অন্যতম বাজার যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি অন্যান্য দেশে কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়। এরই অংশ হিসেবে মার্কিন ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশনে (এফসিসি) আবেদন করেছিল প্রতিষ্ঠানটি।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশনস অ্যান্ড ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এনটিআইএ) এক বিবৃতিতে বলা হয়, এফসিসির উচিত, চায়না মোবাইলের যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য দেশে কার্যক্রম সম্প্রসারণের আবেদন অস্বীকার করা। বিভিন্ন দেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি উল্লেখ করে এনটিআইএর বিবৃতি প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে পোস্ট করা হয়েছে।
মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের এক কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে এনটিআইএর পক্ষ থেকে বলা হয়, চায়না মোবাইলের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে প্রতিষ্ঠানটিকে যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি মনে করা হচ্ছে। বিষয়টি ঘিরে চায়না মোবাইলের তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
গত এপ্রিলে জেডটিই করপোরেশনের ওপর বিক্রয় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। এ কারণে জেডটিইর কাছে আগামী সাত বছর কোনো ধরনের যন্ত্রাংশ বা সফটওয়্যার বিক্রি করতে পারবে না মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো। নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ইরান ও উত্তর কোরিয়ায় টেলিযোগাযোগ সরঞ্জাম সরবরাহের কারণে এ বিক্রয় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল মার্কিন বাণিজ্য বিভাগ। নিষেধাজ্ঞার কারণে অস্তিত্ব সংকটে পড়ে জেডটিই। বাধ্য হয়ে প্রতিষ্ঠানটি প্রধান ব্যবসায়িক কার্যক্রমগুলো স্থগিত করে। জেডটিইর ওপর আরোপিত বিক্রয় নিষেধাজ্ঞার মধ্য দিয়ে ওয়াশিংটন-বেইজিংয়ের মধ্যে বাণিজ্যযুদ্ধ তীব্র আকার ধারণ করে। অনিশ্চয়তার মধ্যে চীনা প্রতিষ্ঠানটিকে উদ্ধারে সহায়তার হাত বাড়ান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জেডটিইকে শিগগিরই ব্যবসায় ফেরানোর আশ্বাস দেন তিনি।
জেডটিইকে ব্যবসায় ফেরাতে এরই মধ্যে ওয়াশিংটন-বেইজিংয়ের মধ্যে একটি চুক্তি হয়েছে। জরিমানা ও জামানত দিয়ে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা থেকে পরিত্রাণ পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। পাশাপাশি শর্ত অনুযায়ী, এরই মধ্যে নিজেদের পরিচালনা পর্ষদে বড় ধরনের রদবদল এনেছে।
জেডটিইর বিষয়ে ওয়াশিংটন-বেইজিং সমঝোতায় পৌঁছলেও সম্প্রতি চীন থেকে ৩ হাজার ৪০০ কোটি ডলার মূল্যের আমদানি পণ্যে নতুন করে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যা ৬ জুলাই থেকে কার্যকর হবে। ট্রাম্প প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তের জবাবে বেইজিংয়ের পক্ষ থেকেও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি পণ্যে নতুন করে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেয়া হয়। এতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যযুদ্ধের তীব্রতা আরো বেড়ে যায়। বিদ্যমান অনিশ্চতার মধ্যেই চায়না মোবাইলের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ঠেকাতে ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগী হওয়ার তথ্য এল।
চায়না মোবাইল কমিউনিকেশনস করপোরেশন চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিযোগাযোগ কোম্পানি। সর্বশেষ গত ডিসেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, এর ৭৩ শতাংশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে দেশটির সরকার। চায়না মোবাইলের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আবেদন প্রত্যাখ্যানের খবর প্রকাশের পর গতকাল এর শেয়ারদর কমেছে ২ দশমিক ৬ শতাংশ, যা চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
সিঙ্গাপুরভিত্তিক দাইওয়া সিকিউরিটিজের বিশ্লেষক রামাকৃষ্ণ মারুভাদা বলেন, চীনের টেলিযোগাযোগ খাতে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে আছে চায়না মোবাইল। এর আয়ের সিংহভাগ আসে স্থানীয় বাজার থেকে। কাজেই প্রতিষ্ঠানটির বৈশ্বিক সম্প্রসারণের আবেদন বিষয়ে এফসিসি যে সিদ্ধান্তই নিক, এর ব্যবসায় খুব বেশি প্রভাব পড়বে না।
তিনি বলেন, চীনা টেলিযোগাযোগ, নেটওয়ার্ক সরঞ্জাম ও তথ্যপ্রযুক্তি সরঞ্জাম নির্মাতাদের পণ্যের নিরাপত্তা এবং ব্যবসায় গোপনীয়তা বিষয়ে বরাবরই সন্দেহ প্রকাশ করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। চায়না মোবাইলের বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসন এমন সময় সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে, যখন ওয়াশিংটন-বেইজিংয়ের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক ক্রমে অবনতির দিকে ধাবিত হচ্ছে। জেডটিইর পর চীনভিত্তিক আরেক টেলিকম সরঞ্জাম ও ডিভাইস নির্মাতা হুয়াওয়ের বিষয়েও তদন্ত শুরুর কথা জানিয়েছিল মার্কিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছেনি ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। তথ্যসূত্র: বণিক বার্তা