মিতুর পাখি প্রেম

আপডেট: আগস্ট ১০, ২০১৯, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ

রুহুল আমিন রাকিব


মা কই তুমি? আরে শুনতে পাচ্ছ না আমার কথা! মিতুর কণ্ঠ শুনে তাড়াতাড়ি করে ওয়াশরুম থেকে বাহিরে আসে মা। আরে এই কি! তোমার এ অবস্থা কেন মা-মনি?
বৃষ্টিতে ভিজে শরীর একি করে ফেলছো! তোমারে না বারবার মানা করছি বৃষ্টিতে ভিজবে না।
যাও রুমে যাও, তাড়াতাড়ি করে কাপড় পাল্টাও। মায়ের ধমক শুনে, চুপসে যাওয়া বেলুনের মতো মুখটা বন্ধ করে নিজের রুমে যায় মিতু। মনে মনে ভাবে মা যে কেন বুঝতে চায় না আমার কথাগুলো। আচ্ছা আমাদের তো থাকার জন্য কত সুন্দর ঘর আছে। রোদ বৃষ্টি এলেও আমাদের কোন রকম সমস্যা হয় না। অথচ পাখিগুলোর কোন ঘর নেই। রোদ,বৃষ্টি আসলে পরেও ওদেরকে পুকুর পাড়ের ওই আম গাছে থাকতে হয় সব সময়। আজ সকাল থেকে বৃষ্টি পড়ছে, ইচ্ছে করলেও তাই স্কুলে যাওয়া হয়নাই মিতুর। চার দেওয়ালের বন্দি ঘরে, জানালার কাছে বসে পাখিগুলোর ভিজে যাওয়া দেখছিল। আহা! কত কষ্ট হচ্ছে পাখিগুলোর। গাছের পাতার নিচে আশ্রয় খুঁজতে ব্যস্ত সবাই। হঠাৎ করে আকাশ থেকে বড় বড় শিলা পাথর পড়তে শুরু করল। মিতুদের টিনের চালে যেন খই ফুটছে, শিলা পাথর অনেক সময় ধরে পড়ল।
মিতু আপন মনে তাকিয়ে আছে জানালার গ্রিল ধরে। পুকুর পাড়ের আম গাছের নিচে অনেকগুলো পাখি পড়ে আছে। পাখিগুলো দেখে ভীষণ কষ্ট পায় মিতু। বৃষ্টি তখনও থামে নাই, হয়তো একটু পরে পাড়ার দুষ্টু ছেলেদের দল এসে পাখিগুলো ধরে নিয়ে যাবে।
মিতু এক দৌড়ে ঘর থেকে পুকুর পাড়ে যায়। একে একে পাখিগুলো ধরে আম গাছের ডালে বসিয়ে দেয়। শিলা বৃষ্টির আঘাতে পাখিগুলোর পালকে আঘাত পেয়েছে। ইশ! কয়েক’টা পাখি মরে পড়ে আছে! মিতু অনেক কষ্ট পায় মৃত্যু পাখিগুলো দেখে।
মিতু মনে মনে কল্পনা করে বড় হয়ে পাখির প্রতি সবাইকে ভালোবাসা জন্মাতে ও কাজ করবে। পাখিদের জন্য নির্জন বাসা তৈরি করে দিবে বিভিন্ন গাছের ডালে। নিজে বৃষ্টিতে ভিজলেও পাখিগুলোর জীবন বাঁচাতে পেরে আনন্দিত মিতু!
তবে এই পাখিগুলোর প্রতি কেন যে একটুও মায়া হয় না মায়ের! বৃষ্টিতে একটু ভিজছি বলে কত বকা দিল। অথচ প্রতিদিন, রোদ,বৃষ্টিতে ভিজছে নিরিহো পাখিগুলো। মনের ভিতর কত কিছু ভেবে চলছে মিতু। এক দিন স্যার ক্লাসে বলছে পাখি আমাদের পরিবেশকে সুন্দর রাখে। নানা রকম পাখির কলতানে রোজ সন্ধ্যা নামে ধরার বুকে। আবার রবির আলোও ফুটে পাখির কিচিরমিচির ডাক শুনে। অথচ দিনে দিনে এই পাখির প্রতি আমাদের অবহেলা বেড়েই চলছে।