মিরপুর ও টাঙ্গাইলে জঙ্গি অভিযান

আপডেট: সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৭, ১২:৫৫ পূর্বাহ্ণ

জঙ্গিরা এখনও তৎপর!


বর্তমান সরকার বরাবরই বলে আসছে দেশে জঙ্গি নির্মূল হয়নি। তবে তেমন শঙ্কা নেই। আইনশৃঙ্খলাবাহিনী সর্বদা জঙ্গি নির্মূলে কাজ করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিতকায় সবশেষ রাজধানীর মিরপুরের জঙ্গি আস্তানা থেকে ৭টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে টাঙ্গাইলে জঙ্গি অভিযান পরিচালনা করেছে র‌্যাব। এর সূত্র ধরে মিরপুরের জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালানো হয়েছে। তবে জঙ্গিরা এখনও বেশ তৎপর রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের দক্ষতা দিয়ে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে মোকাবিলা করে অভিযানগুলো শেষ করছে। কারণ এর আগে দেশে বড় বড় জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে সাফল্যতা দেখাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এতে করে দেশের মানুষের মধ্যে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর প্রতি দিন দিন বাড়তে থাকছে আস্থা। জঙ্গি মোকাবিলা করার জন্য বর্হিবিশ্বের দিকে আমাদেরকে তাকিয়ে থাকতে হয় না। আর এক্ষেত্রে বর্তমান শেখ হাসিনার সরকার বড় ভূমিকা পালন করে আসছে।
রাজধানীর গুলশানে একটি রেস্তোরাঁয়, কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় ঈদ জামাত সহ বেশ কিছু জঙ্গি হামলা মোকাবিলা করেছে দেশের চৌকস আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
বিশেষ করে গুলশানে বেশ কয়েকজন বিদেশি নিহত হওয়ায় স্তম্ভিত হয়েছিল সারা বিশ্ব। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়েও উৎকণ্ঠা বেড়েছিল। আবার কোথায় কখন জঙ্গি হামলা হয়-এমন আতঙ্ক বিরাজ করেছিল সারা দেশে। এতে করে দেখা দিয়েছিল কিছুটা স্থবিরতা। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নানামুখী তৎপরতা ও সরকারের সর্বাত্মক উদ্যোগে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ কমে গেছে। সন্ত্রাসের নিন্দা জানিয়ে বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ্বাস দিচ্ছে সারা বিশ্ব। বাংলাদেশও বিদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ উদ্যোগ নিচ্ছে। সামাজিক-সাংস্কৃতিক-রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর সক্রিয়তায় জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি হচ্ছে। রাস্তায় নেমে এসেছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। প্রতিবাদে মুখর হয়েছেন সংস্কৃতিকর্মীরা। মসজিদে মসজিদে উচ্চারিত হয়েছে জঙ্গিবাদবিরোধী খুতবা।
এদিকে জঙ্গিবাদি তৎপরতার সঙ্গে দেশের একশ্রেণির তরুণ ও শিক্ষার্থী জড়িয়ে পড়ার ঘটনা সাধারণ মানুষকে ভাবিয়ে তুললেও মানুষের চোখও খুলে দিয়েছে। তরুণ-শিক্ষার্থীরা কী কারণে, কিসের মোহে জঙ্গিবাদি তৎপরতার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে তা অনুসন্ধান ও বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করেছে কমবেশি সবাই। পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থী-সংস্কৃতিকর্মী থেকে শুরু করে নানা শ্রেণিপেশার মানুষ ও প্রতিষ্ঠান এক মাসেরও বেশি সময় ধরে দেশব্যাপী যে নানামাত্রিক কর্মসূচি পরিচালনা করছেন তাতে দেশের মানুষের মধ্যে জঙ্গিবিরোধী এক ধরনের সচেতনতা তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের নিরাপত্তামূলক বিভিন্ন পদক্ষেপের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের নানামুখী উদ্যোগের ফলে অনেকটা স্বস্তির পরিবেশ ফিরে এসেছে। তবে জঙ্গিদের ক্ষেত্রে আমাদের সকলকে সর্তক থাকতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ