মিয়ানমারের মিথ্যাচার ও উস্কানি জাতিসংঘের শক্তিশালী ভূমিকা চাই

আপডেট: মার্চ ১৩, ২০১৮, ১২:২৩ পূর্বাহ্ণ

রাখাইনে সংখ্যালঘু মুসলিমদের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধন ও গণহত্যার অভিযোগের সপক্ষে সুস্পষ্ট প্রমাণ দেখতে চেয়েছে মিয়ানমার।
জেনেভায় ৮ মার্চ সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মিয়ানমারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা থাউং তুন এ দাবি উত্থাপন করেন। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশসহ দেশে ও বিদেশের সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী মিয়ানমারের নিরাপত্তা উপদেষ্টা মিথ্যাচার করেছেন যে, রাখাইনে মুসলিম সম্প্রদায়ের বেশিরভাগ এখনও সেখানেই বসবাস করছে। যদি সেখানে গণহত্যাই চালানো হত তবে তারা সবাই পালিয়ে যেত।
মানবাধিকার নিয়ে বড় তামাশা আর কী হতে পারে। গণহত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ এবং ৬ লক্ষাধিক মানুষকে দেশত্যাগে বাধ্য করার মত জঘন্য অপরাধ ঢাকতে মিয়ানমার এখন মিথ্যাচারে লিপ্ত হয়েছে। কিন্তু সত্যকে তো ঢেকে রাখা যায় না। মানবতার বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধ তামাদিও হয় না। বাংলাদেশসহ দেশে দেশে তার যথেষ্ট প্রমাণ আছে।
বাংলাদেশে দ্বিতীয় পর্যায়ে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় লাভের ৬ মাস ইতোমধ্যেই অতিক্রান্ত হয়েছে। মায়ানমার সেনাবাহিনীর মানবতার বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের প্রতিবাদে সোচ্চার আজ সারা পৃথিবীর মানুষ। জাতিসংঘসহ মানবাধিকার সংস্থাগুলো অকাট্য প্রমাণের বিস্তর তথ্য-উপাত্ত ইতোমধ্যেই উপস্থাপন করেছে। যা বিশ্ব বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরগুলি বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান, মন্ত্রী, জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংস্থার নির্বাহীগণ এবং সর্বশেষ নোবেল বিজয়ী তিন নারী সরেজমিন দেখে গেছেন। রোহিঙ্গাদের দুঃখ-দুর্দশা দেখে, তাদের উপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্মম হত্যাকা-, ধর্ষণ ও নির্যাতনের কথা শুনে তারা কেঁদেছেন।
সাম্প্রতিক এক তথ্য মতে, মায়ানমারের আরাকান রাজ্যে বর্তমানে ৭৯ হাজার রোহিঙ্গা জীবনমৃত্যুর মুখে বসবাস করছে। অথচ সাড়ে ৬ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে আছে। এই শরণার্থীরা ২০১৭ সালের ২৫ মার্চের পর বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এর দুই যুগ আগে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া আরো ৪ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অবস্থান করছে। এরা সকলেই তালিকাভুক্ত শলণার্থীÑ এর চেয়ে অকাট্য প্রমাণের আর কী আছে? বরং মায়ানমারের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের উপর চালানো হত্যাযজ্ঞ, অগ্নিসংযোগসহ অন্যান্য প্রমাণ লোপাট করার চেষ্টা চালাচ্ছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) প্রমাণসহ তা উপস্থাপনও করেছে।
রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের জন্য বাংলাদেশ ও মিয়ামারের মধ্যে একটা সমঝোতাও হয়েছে। সে অনুযায়ী প্রথম দফায় ৮ হাজারের অধিক রোহিঙ্গা শরণার্থীকে স্বদেশে ফিরিয়ে নেয়ার জন্য মায়ানমারকে একটি তালিকা দিয়েছে বাংলাদেশ। ওই শরণার্থীরা বর্তমানে নো ম্যানস ল্যান্ডে অবস্থান করছে। কিন্তু মিয়ানমার বিষয়টি নানা অজুহাত সৃষ্টি করে উদ্যোগ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া প্রলম্বিত করছে। তারপরই মায়ানমার নিরাপত্তা উপদেষ্টার মন্তব্য মায়ানমার রোহিঙ্গা শরণার্থী সমস্যার সমাধান চায় কি না তা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। মায়ানমার মিথ্যাচার করেই বিশ্ব বিবেককে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। মায়ানমার সেনাবাহিনী সীমান্তে একতরফা উস্কানিও দিয়ে যাচ্ছে। রোহিঙ্গা সমস্যাসার সমাধান তারা চায়Ñ তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহের কারণ সৃষ্টি হয়েছে। সমস্যাটি শুধু একার বাংলাদেশের নয়। এটি মানবাধিকারের প্রশ্নে সারা বিশ্বের সমস্যা। জাতিসংঘসহ বিশ্বের দেশ সমূহের চাপ সৃষ্টি করে মিয়ানমারকে সমস্যা সমাধানে বাধ্য করতে হবে। এ ক্ষেত্রে জাতিসংঘের শক্তিশালী ভূমিকার দরকার আছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ