মিয়ানমার থেকে বিদ্যুৎ আমদানির পরিকল্পনা

আপডেট: জুলাই ৩১, ২০১৭, ১:২১ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


মিয়ানমার থেকে বিদ্যুৎ আমদানির পরিকল্পনার কথা জানালেন প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘মিয়ানমার থেকে ক্রসবর্ডার পাওয়ার ট্রেড-এর মাধ্যমে বিদ্যুৎ আমদানি করা যেতে পারে।’ শনিবার (২৯ জুলাই) ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি আয়োজিত ‘জ্বালানি নিরাপত্তা ২০৩০: চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
রাজধানীর লেকশোর হোটেলে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. তাজুল ইসলাম। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) খনিজ সম্পদ বিভাগের অধ্যাপক ড. ম তামিম। আগামী এক বছরের মধ্যে বিদ্যুৎ খাতের সিস্টেম লস সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বলেন, ‘২০১৯ সালে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনে আসবে। নিজস্ব কয়লা ব্যবহার বা গভীর সমুদ্রে কূপ খনন ও গ্যাস উৎপাদন প্রক্রিয়া কিছুটা সময়সাপেক্ষ হওয়ায় সরকার তরল জ্বালানি নির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে।’ আগামী বছরের মধ্যে শিল্পখাতে গ্যাস সরবরাহ প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিদ্যুৎ খাতে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের উপর গুরুত্বারোপ করার পাশাপাশি নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিত করারও তাগিদ দেন জ্বালানি উপদেষ্টা। অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে বিভিন্ন মাত্রায় বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী শিল্প-কারখানা স্থাপনেরও আহ্বান জানান তিনি।
মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ‘সরকার বর্তমানে কয়লা থেকে ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। সোলার এনার্জির মাধ্যমেও বিদ্যুতের চাহিদা মেটানোর সুযোগ রয়েছে।’ জ্বালানি স্বল্পতা দূরীকরণে সরকার প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নে যথেষ্ট গুরুত্বারোপ করছে বলেও জানান তিনি।
ডিসিসিআই সভাপতি আবুল কাসেম খান বলেন, ‘দেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির ধারাকে অব্যাহত রাখার স্বার্থে জ্বালানি উৎপাদন ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে।’ জ্বালানি নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানের মধ্যে আন্তঃসীমান্ত জ্বালানি বাণিজ্য চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
অধ্যাপক ড. ম তামিম বলেন, ‘অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের ধারা অব্যাহত রাখার জন্য বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অপরিহার্য। বাংলাদেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চাহিদা মেটাতে দক্ষ মানবসম্পদ একটি বড় প্রতিবন্ধকতা এবং তা দূরীকরণের জন্য সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকেও এগিয়ে আসতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানির চাহিদা ও উৎপাদন বিষয়ে সঠিক তথ্য সংগ্রহ এবং তার ভিত্তিতে বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে।’ তিনি প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে বিদ্যুৎ আমদানির উদ্যোগ নেওয়ার আহবান জানান। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান ড. সেলিম মাহমুদ বলেন, ‘সরকার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের জন্য সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে এবং তা বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।’
পিআরআইর নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মানসুর বলেন, ‘বিদ্যুৎ খাতের বড় প্রকল্পগুলোকে দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করতে হবে।’ রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর ড. মুশফিকুর রহমান প্রাথমিক জ্বালানির উৎস নিশ্চিতকরণের পাশাপাশি মজুদ কয়লা উত্তোলন ও ব্যবহারের উপর গুরুত্বারোপ করেন। ইসিপিভি চিটাগাং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার রেজওয়ানুল কবির বলেন, ‘বড় বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের ক্ষেত্রে ঋণ প্রবাহ নিশ্চিতকরণ ও গভীর সমুদ্র এলাকায় কূপ অনুসন্ধানে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ প্রয়োজন।’ আলোচনায় আরও অংশ নেন এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার ম্যাগাজিনের মোল্লা এম আমজাদ হোসেন।
বিদ্যুৎ বিভাগের সাবেক সচিব ড. এম ফওজুল কবির খান মুক্ত আলোচনা সঞ্চালনা করেন। মুক্ত আলোচনায় চট্রগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান খালেক ইকবাল, ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি মতিউর রহমান, আসিফ ইব্রাহীম, সাবেক পরিচালক খায়রুল মজিদ মাহমুদ, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর আবরার আনোয়ার, বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোহাম্মদ আলী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউক্লিয়ার বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, ঢাকা চেম্বারের আহবায়ক এম এস সিদ্দিকী, পরিচালক সেলিম আকতার খান আলোচনা করেন। -বাংলা ট্রিবিউন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ