মিয়ানমার সেনাবাহিনির দায় স্বীকার কৌশল হলেও সত্যের সূচনা হয়েছে

আপডেট: জানুয়ারি ১৩, ২০১৮, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ

রোহিঙ্গাদের প্রতি মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় মিয়ানমার বেশ সমালোচনার মুখে আছে। অনেকটা এঘরে অবস্থার মত। বন্ধুরাষ্ট্র যারা আছে তারাও মিয়ানমারের মানবাধিকার লঙ্গনের বিষটিকে এড়িয়ে যেতে পারছে নাÑ যদিও তারা বিশ্ব ফোরামে মিয়ানমারকেই সমর্থন জানাচ্ছে। সেটাও দুএকটি দেশ। এই পরিস্থিতির মধ্যে মিয়ানমারের সেনাবাহিনি সেদেশে রোহিঙ্গাদের ওপর পরিচালিত গণহত্যার দায় কিছুটা হলেও স্বীকার করে নিয়েছে। বুধবার দেশটির সেনাপ্রধান ১০ রোহিঙ্গাকে সেনাবাহিনি হত্যা করেছে বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। ২০১৭ এর আগস্টের পর থেকেই মিয়ানমারের সেনাবাহিনি রাখাইনে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠির ওপর নিপীড়ন, ধর্ষণ, হত্যা ও অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি অস্বীকার করে আসছিল। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশ সহ দেশ- বিদেশের সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের বরাত দিয়ে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, রোহিঙ্গাদের হত্যার এই স্বীকারোক্তিকে মিয়ানমার সেনাবাহিনির একটি কৌশল মাত্র। বিশ্লেষকদের মতে, বিচার বহির্ভুত হত্যাকাণ্ডের দায় এড়াতে এই কৌশল নেয়া হতে পারে। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি’র এক প্রতিবেদনে এমনটাই উঠে এসেছে।
উল্লেখ্য, ২০১৭ এর আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইনে নিরাপত্তা বাহিনির তল্লাশি চৌকিতে হামলা চালায় আরসা সদস্যরা। জবাবে ২৫ আগস্ট থেকে রোহিঙ্গা অধ্যুষিত অঞ্চলে অভিযান জোরদার করে মিয়ানমার সেনাবাহিনি। স্থানীয় বৌদ্ধদের সহায়তায় সেখানে বহু বাসিন্দাকে হত্যা ও ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়। ত্রাণ সংস্থাগুলোর হিসাবে এই পর্যন্ত অভিযানের কারণে প্রতিবেশি বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে সাড়ে ছয় লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা নাগরিক। জাতিসংঘ ওই অভিযানকে জাতিগত নিধনের পাঠ্যপুস্তকীয় অভিযান বলে মন্তব্য করে।
মিয়ানমার সেনাবাহিনির এই স্বীকারোক্তি কৌশলগত হলেও এটা একটা সত্যের সূচনা করেছে। হত্যা, ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগ করে রোহিঙ্গাদের বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ এবং প্রতিবেশি দেশে পালিয়ে যেতে বাধ্য করার ঘটনা যে সংঘটিত হয়েছে সেটা সংক্ষিপ্ত আকারে হলেও স্বীকার করে নিয়েছে মিয়ানমার সেনাবাহিনি। তদন্তের ক্ষেত্রেও এই দায় সহায়ক হবে। সেনাবাহিনির স্বীকারোক্তিই সাক্ষ্য দেয় যে, রোহিঙ্গাদের ওপর হত্যাযঞ্জ চালান হয়েছে। এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এখন মানবাধিকার কমিশনের সে দেশে প্রবেশের দ্বার উন্মোচনের সূত্রপাত হতে পারে। এ ব্যাপারে অগ্রগতি প্রত্যাশা করা যায়। সেনাবাহিনি যেটুকু স্বীকার করেছে সেটুকুও তদন্ত করে দেখা যেতে পারে। এ ব্যাপারে জাতিসংঘ তাদের উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে বলেই আমাদের ধারণা।
বিষয়টি এখানে শেষ হয়ে যায় না। বাংলাদেশে সাড়ে ৬ লাখ রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুর দায় মিয়ানমারের ওপর আছে। উদ্বাস্তুদের দ্রুত তাদের দেশে নাগরিক মর্যাদার সাথে পুনর্বাসনের বিষয়টি খুবই গুরুত্বপর্ণ। সে দায় জাতিসংঘেরও। এ ব্যাপারে মিয়ানমারকে দ্রুত উদ্যোগ নিতেও বাধ্য করতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ