মুকাদ্দিমের ঈদ

আপডেট: জুন ১৫, ২০১৯, ১:০৩ পূর্বাহ্ণ

মিনহাজ উদ্দীন শরীফ


গরীব ঘরের ছেলে মুকাদ্দিম খুব শান্ত শিষ্ট। দশম শ্রেণির ছাত্র। পড়ালেখায় খুব ভালো। চার ভাইবোনের মধ্যে মুকাদ্দিম সবার ছোট। মুকাদ্দিমের ঈদের কেনাকাটা এখনো শেষ হয়নি। অথচ বাকি তিন ভাইবোনের কেনাকাটা ঐ কবেই শেষ। মুকাদ্দিম বাবার কাছে মুখ ফুটে বলতে পারে না; ‘বাবা আমারও ঈদের নতুন পোশাক লাগবে।’ আর বাবা ও নতুন জামা দেওয়ার প্রয়োজন মনে করে না। মুকাদ্দিম’কে কেন্ জানি না ওর বাবা প্রতিনিয়ত সব সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করে রাখে। মুকাদ্দিমের ‘মা’ অনেক আগেই মরা গিয়েছে। তাই মুকাদ্দিমের দুঃখ বা খোঁজ নেওয়ার মতো কেউ নেই এই বিশাল ধরণীর বুকে। মুকাদ্দিম ২০১৭ সালে ”Year change Exam’ এ উত্তীর্ণ হয়ে General scholarship পেয়েছিল! ঐ থেকে সামান্য কিছু টাকা দিয়ে কয়েকটা স্বল্প দামের গেঞ্জি ও তিনটা প্যান্ট ক্রয় করে। মুকাদ্দিম কয়েকটা গেঞ্জি আর প্যান্ট দিয়ে বেশ এক বছর পার করে দেয়। এমনিতে মুকাদ্দিম খুব পরিস্কার – পরিচ্ছন্ন থাকতে ভালোবাসে। এজন্য মুকাদ্দিমের পুরনো সেই কাপড় গুলো দেখতে অনেকটা নতুনের মতো লাগে।
গতরাতে এক টেবিলে মুকাদ্দিম আর বাবা খেতে বসলো। তখন বাবা বলতেছেন কি রে মুকাদ্দিম তোর কি কোন্ কিছু লাগবে? মুকাদ্দিম বললো জ্বি পুরনো কয়েকটা জামা আছে। বাবা বলল ঐ গুলা তো পুরনো জামা! মুকাদ্দিম মনে মনে খুব খুশি কারণ হয়তো এবছর মুকাদ্দিম নতুন জামা পড়ে ঈদের নামাজ আদায় করতে পারবে। বাবা বললো আচ্ছা তোর জন্য আগামীকাল জামা ক্রয়ের ব্যবস্থা করবো। এই কথা শুনে মুকাদ্দিম রাতে পড়তে না বসে একটু আগেই ঘুমানোর চেষ্টা করে। কারণ গতকাল ঈদের কেনাকাটা করতে হবে আর তাদের হাট বাড়ি থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরান্তে। তাই ভোর বেলা উঠতে হবে ভেবে ঘুমিয়ে যায়। সকালে ঘুম থেকে উঠে মুকাদ্দিম বাবাকে এখানে ওখানে খোঁজাখুঁজি করছে কিন্তু বাবার আর দেখা পায়নি। মুকাদ্দিম বড় আশা নিয়ে গেটের সামনে ঐ সকাল থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত অপেক্ষা করে। অবশেষে বাবা সন্ধ্যা ৭টা৩০ মিনিটে বাসায় ফিরে তারপর মুকাদ্দিম আর নিজে থেকে জামার কথা বলেনি। বাবা বলে মুকাদ্দিম তোর জন্য সকালে জামা কিনতে যাবো। কিন্তু আগামীকাল ৮টা১৫মিনিটে ঈদের নামাজ শুরু হবে। মুকাদ্দিম নতুন জামার আশা বাদ দিয়ে। পুরনো কাপড় গুলো হুইল পাউডারে ভিজিয়ে দেয়। তারপর রাত ১০টায় কাপড় গুলো শুকাতে দেয় বেলকনিতে।
ভোরে উঠে গিয়ে দেখে প্রায় কাপড় গুলা শুকিয়ে গেছে। তারপর মুকাদ্দিম হাতে সাবান ও গামছা নিয়ে নদীর ঘাটে চলে যায়। সেখানে গোসল করে বাড়িতে ফিরে এসে ঐ কাপড় গুলো ইস্ত্রিরি করে। এটা ওটা করতে করতে প্রায় নামাজের সময় ঘনিয়ে আসছিল তাই মুকাদ্দিম Ready  হয়ে Mosqueপ্রাঙ্গণে চলে যায়। এবং নামাজের জন্য প্রস্তুত হয়। অবশেষে ঈদের নাম শেষে করে উরৎবপঃ কবরস্থান গিয়ে– দাদা;দাদি;নানা;নানি ও বিশ্বের সকল মৃত ব্যক্তিদের আত্মার শান্তির জন্য মহান আল্লাহ পাকের কাছে দু’হাত তুলে প্রার্থনা করে। ( লেখক : দশম শ্রেণি, জলসুখা কৃষ্ণ গোবিন্দ পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়। আজমিরিগঞ্জ; হবিগঞ্জ।)