মুক্তিযোদ্ধা সেলিম হত্যাকাণ্ড || ঈশ্বরদীতে স্বতঃস্ফুর্ত হরতাল পালন

আপডেট: জুলাই ৩০, ২০১৯, ১২:৫৮ পূর্বাহ্ণ

ঈশ্বরদী প্রতিনিধি


ঈশ্বরদীর চাঞ্চল্যকর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহমান সেলিম হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে ঈশ্বরদীতে সর্বাত্মক হরতাল পালিত হয়েছে। গতকাল সোমবার বেলা ১২টা পর্যন্ত অর্ধদিবস হরতাল পালনকালে ঈশ্বরদীর সকল দোকান পাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। ঈশ্বরদী থেকে লোকাল ও দুরপাল্লার কোন বাস, ট্রাক, অটোরিক্সাসহ কোন যানবাহনও চলাচল করেনি। হরতাল চলাকালে ঈশ্বরদীর সকল রাস্তা-ঘাট, বাজারসহ সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে ব্যবসায়ীরা স্বতঃস্ফুর্তভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে হরতালের সমর্থন জানান। শহরের কলেজ রোড, চাঁদ আলী মোড়, পোস্ট অফিস মোড়, রেলগেট, আলহাজ্ব মোড়সহ বিভিন্ন পয়েন্টে ব্যাপক পিকেটিং করেন মুক্তিযোদ্ধা-জনতা। সকাল ৬টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত ঈশ্বরদীর রাস্তায় সাইকেল, রিক্সা, মোটর সাইকেলসহ কোন যানবাহন চলাচল করেনি। ঈশ্বরদীর জিরো পয়েন্ট রেলওয়ে গেটের ট্রাফিক আইল্যান্ডে হরতাল চলাকালীন দীর্ঘসময়ব্যাপি পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। পথসভায় বক্তব্য দেন মুক্তিযোদ্ধা আবদুল খালেক, ফজলুর রহমান ফান্টু, গোলাম মোস্তফা চান্না, হবিবুল ইসলাম, সিরাজ উদ্দিন বিশ্বাস, রফিকুল ইসলাম, মুক্তিযুদ্ধের শহিদ স্মৃতি পাঠাগারের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাক আহমেদ কিরণ, ঈশ্বরদী পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইছাহক আলী মালিথা, আওয়ামী লীগ নেতা সাইফুজ্জামান পিন্টু, সিরাজুল ইসলাম, এনামুল হক, প্রেসক্লাবের সভাপতি স্বপন কুমার কুন্ডু, জাসদ নেতা জাহাঙ্গীর আলম, যুবলীগ নেতা আনোয়ার হোসেন, মেজবুল হোসেন প্রমুখ।
প্রসঙ্গতঃ গত ৬ ফেব্রুয়ারি রাত ৯টার দিকে মুক্তিযোদ্ধা ও পাকশী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান সেলিম রূপপুর বিবিসি বাজার থেকে রূপপুর গ্রামে বাড়িতে যাওয়ার সময় তার নিজ বাড়ির দরজার সামনে দুর্বত্তরা তাকে গুলি করে হত্যা করে। এখন পর্যন্ত এই ৬ মাসে আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করতে পারেনি পুলিশ। আলোচিত এই হত্যা মামলাটি অবশেষে পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এ হস্তান্তর করা হয়েছে।