বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী

মুক্তিযোদ্ধা সেলিম হত্যার একবছর পূর্ণ হচ্ছে কাল || হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সোচ্চাররাও এখন নিশ্চুপ

আপডেট: February 5, 2020, 12:19 am

সেলিম সরদার, ঈশ্বরদী


ঈশ্বরদীর চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামী লীগ নেতা মোস্তাফিজুর রহমান সেলিম হত্যার এক বছর পূর্ণ হচ্ছে কাল বৃহস্পতিবার। গত বছর ৬ ফেব্রুয়ারি পাকশীর রূপপুর গ্রামে মুক্তিযোদ্ধা সেলিমকে তার নিজ বাড়ির সামনে সন্ত্রাসীরা গুলি করে হত্যা করে। গত এক বছর ধরে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে মুক্তিযোদ্ধা-জনতা বারবার মানববন্ধন, বিক্ষোভসহ নানা কর্মসূচি পালন করলেও এখনো এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের কোন কুলকিনারা করতে পারেনি পুলিশ। এদিকে হত্যাকাণ্ডের পরপরই সেলিম হত্যায় জড়িত সন্দেহ করে পাকশীর ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি এনামুল হক বিশ্বাসকে গ্রেফতার করার দাবিতে আন্দোলন করেন মুক্তিযোদ্ধা-জনতা।
এই হত্যাকাণ্ডের এজাহারভুক্ত আসামী ইউপি চেয়ারম্যান এনাম বিশ্বাসের ছোট ভাই যুবলীগ নেতা আরজু বিশ্বাস, ছেলে রকি বিশ্বাসসহ ৪ জনকে পুলিশ সেসময় অস্ত্রসহ গ্রেফতার করলেও তারা জামিন পেয়ে এখন মুক্ত। ছাত্রলীগ নেতা সচিনকে গ্রেফতারের পর সে ছাড়া পেয়ে মধ্যপ্রাচ্যে পাড়ি জমিয়েছে।
সেসময় আওয়ামী লীগ-যুবলীগের একাধিক নেতা ও মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে অনেকেই প্রকাশ্যে এনাম বিশ্বাসের নাম উচ্চারন করে তার বিরুদ্ধে জোরালো বক্তব্য দিয়েছেন, তার ফাঁসির দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন অথচ এক বছর পর আজ বুধবার সেই এনাম বিশ্বাসকে সাথে নিয়েই পাকশীতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘মুক্তিযোদ্ধা-জনতার সংবর্ধনা অনুষ্ঠান।
পাকশীর আমতলা এলাকায় এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হবে আজ। সংবর্ধনা প্রদান করা হবে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন বহির্বিশ্বে জনমত গঠনে ভূমিকা পালনকারী মো. রবিউল আলম, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা সাবেক সচিব রশিদুল আলম ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ এমপিকে। এ উপলক্ষ্যে মুক্তিযোদ্ধা অ্যাড. কাজী সদরুল হক সুধাকে আহবায়ক, মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুল ইসলাম ও পাকশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পাকশী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এনামুল হক বিশ্বাসকে যুগ্ম আহবায়ক করে ‘মুক্তিযোদ্ধা-জনতা সংবর্ধনা কমিটি’ নামে একটি আয়োজক কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এই আয়োজনে পাকশীর চেয়ারম্যান এনাম বিশ্বাসকে যুগ্ম আহবায়ক করায় মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে সেলিম হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদমুখর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে। আর নিহত মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহমান সেলিমের পরিবারে সৃষ্টি হয়েছে গভীর হতাশা। সেলিমের ছেলে তানভির রহমান তন্ময় এসব বিষয়ে প্রশ্ন রেখে বলেন, পাকশীর এই রাজনৈতিক দুরবস্থা দেখে আমার প্রশ্ন জেগেছে আমার পিতার হত্যার বিচার কি আমি আদৌ পাবো ?
এসব বিষয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ-যুবলীগের একাধিক নেতা ও মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন তাদের নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করে বলেন, এখন এসব বলে আর লাভ কি ? এদিকে একসময় যারা মুক্তিযোদ্ধা সেলিম হত্যার প্রতিবাদে সোচ্চার ছিলেন তাদেরও এখন মিলে মিশে একসাথেই চলতে দেখা যাচ্ছে বলে হতাশা ব্যাক্ত করেন তারা। সেলিম হত্যার প্রতিবাদে প্রকাশ্যে চেয়ারম্যান এনাম বিশ্বাসকে দায়ি করে জোরালো বক্তব্য দেওয়া পাকশী ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সভাপতি সাইফুজ্জামান পিন্টুকে প্রশ্ন করলে তিনি ‘এসব বিষয়ে পরে কথা বলবেন’ বলে জানান কিন্তু পরে আর তিনি কথা বলেননি। আন্দোলনকারী একধিক মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশ্ন করলে তারা সেলিম হত্যায় এনাম বিশ্বাস জড়িত বলে মন্তব্য করলেও পত্রিকায় নাম প্রকাশ করতে চাননি। উল্টো তারা প্রশ্ন করেন এসব করে আর কি লাভ ?
নিহত সেলিমের স্ত্রী দিলারা বেগম তার স্বামী হত্যার বিচার দাবি করে বলেন, আমার স্বামী একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছে অথচ তাকে হত্যাকারীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ায়, পুলিশ ধরেনা, এই রূপপুরে একের পর এক খুন হচ্ছে কিন্তু কোন হত্যাকাণ্ডেরই বিচার না হওয়ায় খুনিরা বারবার পার পেয়ে আরো হিংস্র হয়ে উঠছে। মোস্তাফিজুর রহমান সেলিমের স্ত্রী দিলারা বেগম জানান, স্থানীয় প্রভাবশালী চক্র ক্ষমতার জোরে এলাকায় ভুয়া কৃষকের তালিকা তৈরি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে, সে তালিকা চ্যালেঞ্জ করেন আমার স্বামী। সরকারের কাছে দেওয়া ওই ভুয়া তালিকা প্রণয়নকারীরাই তাদের ‘পথের কাঁটা’ সরিয়ে দিতে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।
ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বাহাউদ্দিন ফারুকী জানান, মুক্তিযোদ্ধা সেলিম হত্যা মামলাটি বর্তমান পিবিআই পুলিশের কাছে তদন্তনাধিন রয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ