মুজিবনগর সরকার দিবস আজ

আপডেট: এপ্রিল ১৭, ২০১৮, ১২:৩৩ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু কর্তৃক বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার ধারাবাহিকতায় ওই বছরের ১৭ এপ্রিল বর্তমান মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলার আ¤্রকাননে শপথ গ্রহণ করে বাংলাদেশের প্রথম সরকার। শপথ গ্রহণের পর থেকেই বৈদ্যনাথতলার নাম হয় মুজবনগর এবং ১৭ এপ্রিল হয় গৌরবের মুজিবনগর দিবস।
নবগঠিত সরকারের রাষ্ট্রপতি হন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, উপ-রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদ। মন্ত্রী সভার অন্য সদস্যরা হলেন, খন্দকার মোশতাক আহমদ (পররাষ্ট্র , আইন ও সংসদ), এম মনসুর আলী (অর্থ বাণিজ্য ও শিল্প ) এবং এএইচএম কামারুজ্জামান (স্বারাষ্ট্র, সরবরাহ, ত্রাণ, পুনর্বাসন ও কৃষি)। ১৮ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদের প্রথম সভায় মন্ত্রিদের দপ্তর বণ্টন করা হয়।
এর আগে ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গৌরবোজ্জ্বল দিন। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর বর্বরোচিত হামলা চালানোর পর একই বছরের এ দিন আনুষ্ঠানিকভাবে সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্র রূপে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠা ঘোষণা করা হয়।
একইসাথে প্রবাসী সরকার এক অধ্যাদেশ জারি করে এবং ২৬ মার্চ’এর প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণাকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন ও অনুমোদন করা হয়।
এই সরকারের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয় এবং ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি সেনাবাহিনী আত্মসমর্পণ করে। অভ্যূদয় হয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ-এর।
আক্ষরিক অর্থে বা শারীরিকভাবে অনুপস্থিত অর্থাৎ যুদ্ধের পুরো ৯ মাস পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি থ্কালেও ফলত এবং আত্মিকভাবে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের প্রতিটি ঘরে ঘরে এবং রণাঙ্গনে সদা সর্বত্র বিরাজমান ছিলেন। তাঁর নামেই সরকার ও মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয়েছে। রণাঙ্গনে মুক্তিযোদ্ধারা ‘জয় বাংলা’, ‘জয় বঙ্গবন্ধু’ বলে শত্রুর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে। পাকিস্তানের প্রায় ৯৩ হাজার প্রশিক্ষিত ও মতাদর্শভাবে ধর্মোন্মাদ সেনাসদস্যকে পরাজিত করে মাত্র ৯ মাসের মধ্যে বিজয় অর্জন করার প্রধান অনুঘটক ছিলো মুজিবনগর সরকার।