মুমিনের মাওলা আলী (আ)

আপডেট: জুন ১২, ২০১৮, ১:১৬ পূর্বাহ্ণ

ড. হাসান রাজা


মানব সভ্যতার ইতিহাসে যে কয়জন মহাগুণী মহাজন পৃথিবীতে সত্য, ন্যায় আর আত্মদর্শী জীবনাদর্শের প্রচার এবং প্রসারে নিজ জীবন উৎসর্গ করেছেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম মাওলা আলী (আ)। তিনি ছিলেন বিশ্বের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব মাওলানা মুহাম্মাদ (আ)-এর আমৃত্যু সহযোগী সহচর আপন চাচাতো ভাই এবং জামাতা। তিঁনি ইসলামের ইতিহাসের প্রথম পুরুষ যিনি মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর কাছে প্রথম বাইয়াত গ্রহণ করে পবিত্র আত্ম সমর্পণের ধর্ম ইসলাম গ্রহণ করেন মাত্র ১০ বছর বয়সে। পৃথিবীর আদি উপাসনালয় মক্কার পবিত্র কাবা গৃহে তিনিই একমাত্র মানব সন্তান হিসাবে ৫৯৮ খ্রিস্টাব্দ ১৩ রজব ২৩ পূ.হি. শুক্রবার জন্মলাভ করেন। তাঁর পিতা ছিলেন হযরত আবু তালেব ইবনে আব্দুল মুত্তালিব ও মাতা ছিলেন ফাতিমা বিনতে আসাদ। হযরত মাওলানা মুহাম্মদ (স.), মাওলা আলী (আ), জগৎ জননী মা ফাতিমাতুজ্জাহরা (আ) ছাড়াও পাক পাঞ্জাতনের অন্যতম দু’জন সদস্য মাওলা হাসান (আ) ও মাওলা হোসাইন (আ) – এর জনক ছিলেন মাওলা আলী (আ)। যাঁদেরকে বেহেস্তের সরদার হিসাবে আল্লাহর রাসুল (স.) ঘোষণা দেন। মাওলা আলীর উপাধি ছিলো আল্ মুরতজা। তিনি জীবদ্দশায় যতগুলো যুদ্ধের নেতৃত্ব দান করেন তার প্রত্যেকটিতে জয়লাভ করেন এ জন্য তাঁকে আসাদুল্লাহিল গালিব বা আল্লাহর সিংহ হিসাবেও আখ্যায়িত করা হয়। মানব ম-লীর মধ্যে সর্বোচ্চ অনুসরণীয় আদর্শ মাওলানা মুহাম্মদের (স.) পরেই মাওলা আলী (আ)-এর স্থান। আল্লাহর পরম ইচ্ছায় আল্লাহর রাসুল (স.) তার প্রাণপ্রিয় তনয়া হযরত ফাতিমা (আ)-এর সাথে তাঁর আমৃত্যু সহযোগী মাওলাা আলী (আ)-এর পবিত্র বিবাহবন্ধন সম্পন্ন করেন। তিনি ৬৩ বছর বয়সে ১৯ রমজান ইরাকের কুফায় ভোরবেলা ফজরের সালাত আদায় করার সময় এক অভিশপ্ত খারিজি কর্তৃক বিষাক্ত তরবারীর আঘাতে মারাত্মকভাবে আহত হন এবং ৬৬১ খ্রি. ৪০ হিজরি সোমবার ২১ রমজান শাহাদাত বরণ করেন। ইরাকের নাজফে তাঁর রওজা মোবারক অবস্থিত। তিঁনি ছিলেন জ্ঞান, প্রজ্ঞা, সত্য, ন্যায়, সাহস, নেতৃত্ব, বিজয়, আত্মত্যাগ ও আধ্যাত্মিক নির্মোহ জীবন-যাপনের প্রতীক। পবিত্র আল কোরানে হযরত মুসা (আ)-এর ভাই হযরত হারুনকে নিয়ে যেমন আল্লাহর আয়াত রয়েছে তেমনি মাওলা আলী করম আল্লাহ ওয়াজহুর সম্পর্কেও পবিত্র কোরানে আল্লাহর আয়াত নাজিল হয়েছে। তাঁকে কেন্দ্র করেই মুহাম্মদী ইসলামের পবিত্র আধ্যাত্মিক জীবনদর্শন পূর্ণ আত্ম-সমর্পণের জ্ঞান এলমে মারেফতের পরিচয়ে আজও বাইয়াত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মানব সমাজে গুরু-মুর্শেদ, সুফি-সাধকগণ প্রচার করে চলেছেন। তাঁর জীবনের পরম আদর্শের অসামান্য দলিল তার লেখা গ্রন্থ ‘নাহাজ আল বালাগা’ শুধু ধর্মীয় সমস্যা সমাধানের আত্মদর্শী ফয়সালায় নয় অন্যদিকে বিশ্বসাহিত্যেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাঁর কবিতার মধ্যে সাধক জীবনের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম আধ্যাত্মিক জীবনদর্শনের আলাকিত পাঠ অতূলনীয়ভাবে সর্বকালের জন্য উপস্থিত রয়েছে। তাঁকে নিয়ে হযরত মুহাম্মদ (স)-এর অসংখ্য হাদিস বর্ণিত হয়েছে। মাওলানা মুহাম্মদ (স) বলেছেন- ‘আমি জ্ঞানের শহর, আলী তার দরজা। আমি আর আল্লাহ ছাড়া আলীকে কেউ চিনে না, আলী আর আল্লাহ ছাড়া আমাকে কেউ চিনে না এবং আমি আর আলী ছাড়া আল্লাহকে কেউ চিনে না। আলী যেদিকে মুখ ফিরায় ইসলাম সে দিকে মুখ ফিরায়, আলীর যে শত্রু সে আল্লাহর শত্রু।’ সকল সাহাবা কেরামের মধ্যে মাওলা আলীর (আ) নবী প্রেম ছিলো অভূতপুর্ব, সকলের চেয়ে বেশি। তার অসংখ্য প্রমাণের একটি হচ্ছে, মদিনাতে হিজরতের রাতে কাফের কওমেরা হযরত মুহাম্মদকে (স) হত্যার উদ্দেশ্যে হযরত মুহাম্মদ (স)-এর বাড়ি ঘেরাও করলে রাতের আঁধারে হযরত মুহাম্মদকে (স.) মদিনার পথে চলে যেতে সাহায্য কোরে হযরত মুহাম্মদের পবিত্র বিছানায় নিজের জীবনকে তুচ্ছ কোরে মওলা আলী (আ) রাত্রি যাপন করেন। কাফেররা হযরত মুহাম্মদকে (স) হত্যা করতে এসে তরবারি চালানোর প্রারম্ভে বিছানায় চাাদর আচ্ছাদিত ব্যক্তিই যে হযরত মুহাম্মদ (স) সেটি নিশ্চিত হওয়ার সময় কাফেররা দেখতে পায় যে, তিনি মুহাম্মদ নন মাওলা আলী (আ)। আল্লাহ ও রাসুলের প্রতি সর্বস্ব নিবেদনের এই নজিরবিহীন বীরত্বগাঁথা অসামান্য রাসুল প্রেমের প্রতীক স্বরূপ। আল্লাহতায়ালাও তাই হযরত মুহাম্মদের (স) অবর্তমানে তাঁর একমাত্র যোগ্য প্রতিনিধি হিসাবে সারা জাহানের সকল মুমিন নর-নারীর আত্মমুক্তির গুরুভার অর্পণ করেন মাওলা আলীর (আ) কাধে। উল্লেখ্য যে, হযরত মুহাম্মদ (স) জীবনে একবার মাত্র হজ পালন করেছিলেন। যাকে বলা হয় বিদায় হজ। তিনি তার প্রিয় জন্মভূমিকে চিরবিদায় জানিয়ে তাঁর জন্মভূমি ত্যাগের প্রাক্কালে যে ভাষণ দেন তাকে বলা হয় বিদায় হজের ভাষণ। মক্কায় অবস্থিত সকলকে বিদায় সম্ভাষণ জানিয়ে হজের এহরামের পোশাক না খুলেই মহানবী (স) মদিনার পথে রওনা হন। প্রায় সোয়া লক্ষ লোক তাঁর সহযাত্রী ছিলেন। ১৮ জিলহজ্জ তারিখে তিনি ‘গাদিরে খুম’ নামক একটি জায়গায় উপস্থিত হলে তাঁর উপর কোরানের সব শেষের পূর্বের আয়াতটি নাজিল হয়। সেখানে মহান আল্লাহপাক ঘোষণা দেন : ‘হে রাসুল, আপনার রব হইতে যাহা নাজেল করা হইয়াছে তাহা পৌঁছাইয়া দিন। আর যদি তাহা না করেন তাহা হইলে তাঁহার (আল্লাহর) রেসালাত পৌঁছাইয়া দেওয়া হইল না। আল্লাহ আপনাকে মানব ম-লী হইতে লইয়া আসিবেন। নিশ্চয় আল্লাহ কাফের দলকে হেদায়েত করেন না (আল কোরান ৫ : ৬৭)।’ এই আয়াতে আল্লাহতায়ালা বললেনÑ হে রাসুল, যে কথা আলীর মাওলাইয়াত ঘোষণা করার বিষয়ে নাজেল করা হয়েছিল তা এখন পৌঁছিয়ে দিন। আর তা যদি না করেন তবে আল্লাহর রেসালাত মানব ম-লীর কাছে পৌঁছিয়ে দেওয়া হয় না। কারণ শিঘ্রই আল্লাহ আপনাকে জনম-লী থেকে তাঁর গভীর সান্নিধ্যে টেনে নিবেন; অর্থাৎ আপনার কর্মময় জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটতে চলেছে। এ মতাবস্থায় যদি নবুয়তের কার্যাবলীর এন্তেজাম করার যোগ্য প্রতিনিধি নিয়োগ কোরে জনগণের কাছে তাকে উপস্থাপন না করেন তা হোলে আল্লাহর রেসালাত জনগণের কাছে পৌঁছিয়ে দেওয়া হোলো না। ‘রেসালাত’ অর্থ প্রতিনিধিত্ব। নবী বিদায় গ্রহণ করবেন। নবী আল্লাহর প্রতিনিধি। হযরত আলীকে (আ) আল্লাহর প্রতিনিধিত্ব করবার উপযুক্ত করে গোড়ে তোলা হয়েছে। নবীর পরে রেসালাতের কাজে আলীই (আ) একমাত্র তাঁর যোগ্য প্রতিনিধি। জনম-লীতে রাসুলের পরে তাঁর স্থলাভিষিক্ত করার নির্দেশক সংবাদ এর কিছুকাল আগেই নাজেল করা হয়েছে। কিন্তু রাসুল (স) বিশেষ একটি কারণে তাৎক্ষণিক তা প্রচার থেকে বিরত ছিলেন। এই নির্দেশক সংবাদ নাজেল হওয়ার সময় তিনি তা প্রকাশ না করে বিরাট জনতার মধ্যে আদেশ প্রাপ্ত হয়ে বিশেষ পরিবেশ এবং উপযুক্ত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তা প্রকাশ করার ইচ্ছা পোষণ করেন। এর অন্তর্নিহিত কারণ তিনি খুব ভালোভাবেই জানতেন যে, আলীর (আ) এই মওলাইয়াত বা প্রতিনিধিত্ব হিংসার বশবর্তী হোয়ে কিছু লোকেরা তা অস্বীকার করবে। তারা পরবর্তীতে আলীর (আ) বিরুদ্ধে গভীর চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হোয়ে প্রকৃত ধর্মকে বিনষ্ট করার চেষ্টা চালাবে। এই জন্যই তিনি ওই পরিবেশে সংবাদটি জনগণের কাছে না পৌঁছিয়ে তাকে অধিক কার্যকরি করার লক্ষ্যে উপযুক্ত পরিবেশের অপেক্ষায় ছিলেন। হজ সেরে যাত্রাপথে গাদিরে খুম নামক জায়গায় তা কার্যকরি করার জন্য আল্লাহতায়ালা পুনরায় আদেশ দান করলেন। যাত্রাপথে ওহি লাভের আশা করেই তিনি এহরামের পোশাক না খুলেই রওনা দেন, যাতে লোকেরা এই ওহির গুরুত্ব অত্যধিক মনে করে। এক দিকে আল্লাহর কাছ থেকে ওহি আগমন অন্য দিকে এহরাম অবস্থায় বিরাট জনতার মধ্যে তার আগমন এবং ঘোষণা। উপস্থিত লক্ষাধিক লোকেরা সেই ওহিকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেছিল। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, রাসুল (স) -এর আশঙ্কায় সত্য হয়েছিল। নবীর অন্তর্ধানের পর এই নির্দেশকে ছিন্নভিন্ন করে পরবর্তী সময়ে খলিফারা সমাজ থেকে তার পরিচিতি নিশ্চিহ্ন করতে সকল ক্ষমতা আরোপ করেন। কিন্তু পৃথিবী থেকে এই পরম সত্য একেবারে নিশ্চিহ্ন করা সম্ভব হয় নি। মূলত এসব কারণেই হযরত মুহাম্মদ (স) বিশেষ পরিবেশে অত্যধিক মানুষকে এর সঙ্গে জড়িয়ে দেন। ইসলামের ইতিহাসে আজও যারা মাওলা আলীকেই (আ) মহানবীর (স) একমাত্র যোগ্য উত্তরাধিকার হিসাবে গাদিরে খুমের ঘটনাকে মনে-প্রাণে বিশ্বাস করেন তাদেরকে ‘শিয়া’ (অর্থ অনুসারী) বলেন তারা, যারা ওই ঘটনাকে মানেন না অর্থাৎ সুন্নি ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের লোকেরা।
‘গাদির’ অর্থ জলাশয়, খুম একটি জায়গা। খুম নামক জলাশয়ের কাছে কোরানের উল্লিখিত আয়াতটি এইভাবে নাজিল হয় : ‘ইয়া আইউহার রসুল বাল্লেগ মা উনজিলা ইলাইকা মির রাব্বেকা আন্না আলীউন মাওলাল মোমেনীন। অইনলাম্ তাফআল ফালা বাল্লাগতা রেসালাতাহু। আল্লাহ ইয় সেমুকা মিনান নাস।’ হযরত ওসমান -এর সংকলিত কোরান থেকে এই ‘আন্না আলিউন মাওলাল মোমেনিন’ কথাটি বাদ দেওয়া হয়। হযরত মুসার (আ) ভাই হারুনের নামে যেমন কোরানে উল্লেখ রয়েছে তেমনি হযরত মুহাম্মদ (স) -এর নামের সাথে সাথে মাওলা আলীর (আ) নামও কোরানে উল্লেখ ছিল। এই আয়াত নাজেল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মহনবী (স) পথিমধ্যে সেই স্থানেই থেমে যান। তিনি কাফেলার পূর্ববর্তী ও পশ্চাদবর্তী সকলকে একসঙ্গে করে আলীর (আ) অভিষেক ক্রিয়া সু-সম্পন্ন করেন। এই কাজে তিনি উটের উপর বসার কয়েকটি আসন একত্রে একের পর এক স্থাপন করে মিম্বর তৈরি কোরে এরপর জনতার উপর অবর্তীর্ণ বাণী পেশ করলেন। সেখানে তিনি ভাষণে বললেন : ‘আলাসতু আওলা বেকুম্ মিন্ আনফুসিকুম?’ ‘আওলা’ অর্থ নিজের জীবন থেকে যিনি অধিক প্রিয় এবং সর্ব বিষয়ে অধিকার প্রাপ্ত। যার জন্য প্রয়োজন হওয়া মাত্র জীবন উৎসর্গ করা যায় তিনিই আওলা।
কালু : ‘বালা ইয়া রাসুলাল্লাহ (আ)’ অর্থাৎ আমি কি তোমাদের আপন জীবন থেকে অধিক আওলা নই ? উত্তরে লোকেরা বলল : হ্যাঁ, হ্যাঁ ইয়া রাসুলাল্লাহ (আ)। জনগণ থেকে এইভাবে স্পষ্ট স্বীকৃতি লাভের পর হযরত মুহাম্মদ (স) মাওলা আলী (আ)-এর দুই হাত ধরে জনতার সামনে তাকে তুলে ধরলেন এবং বললেন : ‘ মান্ কুন্তুম মাওলাহু ফাহাজা আলীউন মাওলাহু আল্লাহুমা ওয়ালে মান ওয়ালাহু, আদা মান আদাহু, অনসুর মান নাসারা, অখ্জুল মান খাজালা, ফাল্ ইয়াস হাদিল্ হাজেরুল খায়েরা।’ অর্থ : ‘ আমি যার মাওলা আলী তার মাওলা। হে আল্লাহ, তুমি তাকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো যে তাকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করে, তাকে শত্রু রূপে গ্রহণ করো যে তাঁর সঙ্গে শত্রুতা করে এবং সাহায্য করো তাকে যে সাহায্য করে এবং লাঞ্ছনা দাও তাকে যে লাঞ্ছনা দেয়’। এই অবস্থায় জনতার মুখে উচ্চারিত ‘মারহাবা মারহাবা’ শব্দে গাদিরে খুমের আকাশ-বাতাস মুখরিত ও আলোকিত হয়ে উঠল। রাসুল (আ)-এর আদেশ অনুসারে ইসলামের নব নিযুক্ত নেতার কাছে এসে উপস্থিত সকলেই তিন দিনব্যাপি এই আনুগত্যের বাইয়াত গ্রহন করল। হযরত ওমর বিন খাত্তাব মওলা আলী (আ)-এর কাছে বাইয়াত গ্রহণ করার সময় বললেন : ‘বাখ্ খিন বাখ্ খিন ইয়া আলী ইবনে আবি তালেব…।’ আর্থাৎ তুমি ধন্য, ধন্য হে আবু তালিবের সন্তান আলী…। এই কথার ভাবধারা ছিলো এই রকম যে, আজ থেকে তুমি সকাল-সন্ধ্যা সকল মুমিন নরনারী কর্তৃক স্মরণীয় এবং প্রশংসিত হতে থাকবে। অর্থাৎ আল্লাহর এবাদত করতে গেলে তাঁর যে গুণকীর্তণ করতে হয় তার সাথে নবীর মাধ্যম ছাড়া উহা গ্রহণযোগ্য হয় না। তেমনি আজ থেকে মাওলা আলী (আ) সেই স্থানের অধিকারী হলেন। মূলত এরপর থেকে আল্লাহ্র গুণকীর্তণের সঙ্গে মাওলা আলীর (আ) উছিলা এবং মাধ্যম গ্রহণ করা ব্যতিরেখে মুসলমান নরনারীর কোনো এবাদত আল্লাহর কাছে গ্রহণীয় হবে না, কেননা মাওলা আলী (আ) হলেন মহান আল্লাহ্কর্তৃক মনোনীত মহানবী (স)-এর একমাত্র যোগ্য শিষ্য, অনুসারী ও স্থলাভিষিক্ত মাওলাল মুমেনীন। পরবর্তী সময়ে দেখা যায় মহানবী (স)-এর দেহত্যাগের পর তাঁর স্থলাভিষিক্ত মাওলা আলী (আ)-এর এই নেতৃত্ত্বকে অস্বীকার করে কথিত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় হযরত আবু বকর ইসলামের প্রথম খলিফা নির্বাচিত হন। এরপর গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে রহিত করে একনায়কতন্ত্র কায়েম করে হয়রত ওমর ইসলামের দ্বিতীয় খলিফার ক্ষমতা কুক্ষিগত করেন। এরপর একই ধারায় খেলাফত লাভ করেন হযরত ওসমান। সবশেষে ইসলামের ঘোর সংকটে জনতার দাবীর মুখে চতুর্থ খলিফা হিসাবে মাওলা আলী (আ) দ্বায়িত্বভার নিতে বাধ্য হন। পরবর্তীতে ইরাকের কুফায় এক মসজিদে ভোরবেলা ফজরের সালাত আদায়কালে অভিশপ্ত খারিজি আব্দুর রহমান ইবনে মুলজেম বিষাক্ত তরবারী দিয়ে তাঁকে পেছন থেকে আঘাত করার ফলে তিঁনি ১৮ রমজান ৪০ হিজরী গুরুতর আহত হন এবং তিনদিনের মাথায় আজকের এই দিনে তথা ২১ রমজান সোমবার ৬৩ বছর বয়সে তিঁনি শাহাদাত বরণ করে মহান আল্লাহর সান্নিধ্যে চলে যান। তাঁর প্রতি সমগ্র মানব জাতির পক্ষ থেকে সালাম এবং সমর্পণ।
লেখক : গবেষক
যধংংধহৎধলধথৎধল@ুধযড়ড়.পড়স