মূলধন ঘাটতি পূরণে ১২১৪ কোটি টাকা চায় রূপালী ব্যাংক

আপডেট: অক্টোবর ২৯, ২০১৮, ১২:১০ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতে মূলধন ঘাটতি পূরণ অত্যন্ত জরুরি বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংক লিমিটেড। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী ২০১৯ সালের মধ্যে ব্যাংকটির বর্তমান অনুমোদিত মূলধন ৭০০ কোটি টাকা বাড়িয়ে ২ হাজার ৩২৭ কোটি টাকা করা দরকার বলে জানিয়েছে ব্যাংকটি। এজন্য সরকারের কাছ থেকে নতুন করে ১ হাজার ২১৪ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়েছে ব্যাংকটি। যদিও চলতি অর্থবছরের বাজেটে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল রূপালী ব্যাংককে।
ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলামের কাছে পাঠানো চিঠিতে মূলধন বাড়াতে অর্থ বরাদ্দের পাশাপাশি ২:১ অনুপাতে রাইট শেয়ার ইস্যুরও অনুমতি চেয়েছে রূপালী ব্যাংক। গত সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে এ চিঠি পাঠিয়েছে ব্যাংকটি। চিঠিতে ব্যাংকের বর্তমান মূলধনচিত্র, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মূলধন সংরক্ষণসংক্রান্ত নীতিমালার শর্ত ও তা পূরণে গৃহীত পদক্ষেপ তুলে ধরা হয়েছে।
ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আতাউর রহমান প্রধান স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাসেল-৩ নীতিমালার আলোকে ২০১৯ সালের মধ্যে রূপালী ব্যাংককে ২ হাজার ৩২৭ কোটি টাকা মূলধন সংরক্ষণ করতে হবে। বর্তমানে অনুমোদিত মূলধন ৭০০ কোটি টাকা হওয়ায় তা ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ। এ লক্ষ্যে বিদ্যমান একটি শেয়ারের বিপরীতে দুটি রাইট শেয়ার ইস্যু করতে আগ্রহী পর্ষদ সদস্যরা। প্রতিটি শেয়ারের অভিহিত মূল্য ১০ টাকার সঙ্গে ২০ টাকা প্রিমিয়ামসহ মোট ৩০ টাকা নির্ধারণের কথাও বলছে ব্যাংকটি।
রাইট শেয়ার ইস্যুর পরিকল্পনা অনুমোদন পেলে প্রতিটি শেয়ারে ৩০ টাকা করে ২ হাজার ১০০ কোটি টাকার মূলধন পাবে রূপালী ব্যাংক। এতে ৯ দশমিক ৮১ শতাংশ শেয়ারের মালিকানায় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে আসবে ২০৬ কোটি টাকা। আর ৯০ দশমিক ১৯ শতাংশ শেয়ারে সরকারকে দিতে হবে ১ হাজার ৮৯৪ কোটি টাকা। যদিও সরকারি অংশে এরই মধ্যে গত কয়েক বছর বাজেট বরাদ্দ থেকে ৩৮০ কোটি ও চলতি অর্থবছর ৩০০ কোটি টাকা পেয়েছে রূপালী ব্যাংক। ফলে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার মূলধন চাহিদা পূরণে এখনো ১ হাজার ২১৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দিতে হবে সরকারকে।
মূলধন বাড়াতে ব্যাংকটির নেয়া উদ্যোগ তুলে ধরে আতাউর রহমান প্রধান জানিয়েছেন, রূপালী ব্যাংক প্রয়োজনীয় মূলধন ঘাটতি পূরণে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির পর প্রতি বছর শেয়ারহোল্ডারদের স্টক ডিভিডেন্ড প্রদানের মাধ্যমে পরিশোধিত মূলধন ৩৭৭ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। বর্তমানে অনুমোদিত মূলধন ৭০০ কোটি টাকা হওয়ায় প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতে তা বাড়ানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা হয়েছে। এ লক্ষ্যে চলতি বছরের ৭ জুন সাত বছর মেয়াদি ৬০০ কোটি টাকার সাব-অর্ডিনেটেড বন্ড বিক্রি করেছে। তবে বন্ড ইস্যুর তৃতীয় বছর থেকে ক্রেতাপ্রতিষ্ঠানকে বছরে ১২০ কোটি টাকা করে পাঁচ বছরে তা পরিশোধ করতে হবে। সর্বশেষ ২০১৭ সালে ব্যাংকটির মূলধন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা।
মূলধন বাড়ানোর যৌক্তিকতা তুলে ধরে রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, দেশে বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাংকগুলোর মধ্যে শুধু রূপালী ব্যাংকের মূলধন কম। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুসারে প্রতিটি ব্যাংকের ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে (রিস্ক ওয়েটেড অ্যাসেট) ২০১৯ সালের মধ্যে ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ মূলধন সংরক্ষণ করতে হবে। কোনো ব্যাংক ওই পরিমাণ মূলধন সংরক্ষণে ব্যর্থ হলে বৈদেশিক বাণিজ্যসহ ব্যবসা সম্প্রসারণে হুমকির সম্মুখীন হবে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি), বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনসহ (বিপিসি) বড় অনেক প্রতিষ্ঠানের ঋণপত্র খোলা কষ্টসাধ্য হবে। এছাড়া পরিশোধিত মূলধন কম হওয়ায় একক গ্রাহক ঋণসেবা ঠিকভাবে দিতে পারছে না ব্যাংকটি। এতেও অন্যান্য ব্যাংকের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়তে হচ্ছে।