মূল নকশায় রাসিকের তিন বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ শেষের দাবি

আপডেট: মে ১, ২০১৭, ৪:২৮ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক



রাজশাহী সিটি করপোরেশনের অধীনৈ নির্মাণাধীন দারুচিনি প্লাজা, স্বপ্নচূড়া ও  সিটি সেন্টার মুল নকশায় সম্পন্ন করে মর্কেটের দোকানঘর অবিলম্বে ব্যবসায়ীদের কাছে হস্তান্তরের দাবি জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে নগরীর ঐতিহ্যবাহী সোনাদীঘির অস্তিত্ব রক্ষা, অবৈধ দখলদারদের কবল থেকে ভূবনমোহনপার্ক  কেন্দ্রিয় শহিদ মিনার মুক্ত করে সৌর্ন্দয্য ফেরানোর জোর দাবি জানানো হয়েছে। গতকাল রোববার নগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে মানববন্ধন ও সমাবেশ থেকে এসব দাবি করেন রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের নেতৃবৃন্দ। রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, ও সাধারণ মানুষও অংশ নেন।
সমাবেশ থেকে বক্তারা বলেন, বাণিজ্যিক প্রসার ও আধুনিক বিপনী-বিতান গড়ে তোলার আশা নিয়ে নগরীতে একাধিক বহুতল ভবন নির্মান কাজ ৫ বছর আগে শুরু হলেও নানা জটিলতায় সেগুলোর সব কাজ বন্ধ রয়েছে। এসব ভবনে ব্যবসার আশায় ব্যবসায়ীরা অগ্রিম অর্থলগ্নি করে চরম বিপাকে পড়েছেন। বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও তারা আলোর মুখ দেখছেন না। অনেকে এসব ভবনে ফ্লাট হিসেবে আগাম টাকা দিয়ে বুকিং দিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের বুঝিয়ে দেয়ার কথা থাকলেও তিন চার বছরের বেশী সময় পেরিয়ে গেছে। এ বিষয়ে সিটি করপোরেশন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন বক্তারা। তারা বলেন, সিটি করপোরেশনের প্রকৌশল দফতর থেকে এগুলো দেখভাল ও বুঝিয়ে দেয়ার কথা থাকলেও এখন বিষয়টি রহস্যজনক কারণে এড়িয়ে চলছে করপোরেশন।
সমাবেশ থেকে অবিলম্বে সিটি সেন্টার নির্ধারিত নকশা অনুযায়ী নির্মান কাজ শেষ করে আগামী ঈদের আগেই ব্যবসায়ীদের কাছে  দোকান হস্তান্তরের দাবি জানানো হয় । এছাড়া নগরীতে নির্মাণাধীন আরো দুটি বাণিজ্যিক কেন্দ্র দারুচিনি প্লাজা ও স্বপ্নচূড়া ভবনও নকশা বহির্ভূত ভাবে নির্মান করা হচ্ছে অভিযোগ করে বক্তারা বলেন, মুল নকশা অনুযায়ী এসব ভবন দ্রুত নির্মাণ করে ব্যবসায়ীদের বুঝিয়ে দিতে হবে। অন্যথায় অর্থলগ্নিকারী ব্যবসাযীরা তীব্র প্রতিবাদ ও আন্দোলন গড়ে তোলার পাশাপাশি আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি লিয়াকত আলীর সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন, পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, রাজশাহী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সরকার, মহানগর অওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, ওয়ার্কার্স পাটির মহানগর সাধারণ সম্পাদক দেবাশিষ প্রামাণিক দেবু, ভাষাসৈনিক মোশাররফ হোসেন আখুঞ্জি, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ডা. আবদুল মান্নান, আইনজীবী এন্তাজুল হক বাবু, হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি অনিল কুমার সরকার, লেখক প্রশান্ত সাহা, সাংবাদিক হাসান মিল্লাত, রিয়াজ আমেদ খান, নারী নেত্রী কল্পনা রায়, অধ্যাপক নারগিস সেলি, মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান আলী বরজাহান, সেলিনা খাতুন, আফরোজা খান হেলেন, রাজশাহী চেম্বারের সাবেক পরিচালক এম. শরিফ, সুভাষ চন্দ্র হেম্ব্রন, শাহ মোহাম্মদ জিয়া, আলাউদ্দিন আল আজাদ. আব্দুল মতিন, অলক কুমার দাস প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, রাজশাহী সিটি করপোরেশন হঠাৎ করেই নাগরিকদের জন্য হোল্ডিং ট্যাক্স বৃদ্ধি করে নগরবাসীর মাথায় বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে। সম্প্রতি মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ট্যাক্স কমানোর ঘোষণা দিলেও বাস্তবে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেন নি। বক্তারা অবিলম্বে বর্ধিত কর বাতিলের জোর দাবি জানান। এছাড়া সিটি সেন্টারের একটি ফ্লোরে  নগরীর সব বইয়ের মার্কেট স্থাপনের জোর দাবি জানান।
প্রসঙ্গত, রাজশাহী সিটি করপোরেশন ২০১১ সালের শেষের দিকে একটি ক্লিনিক ও ৭টি বহুতল বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ করার উদ্যেগ নেয়। ২০১৪ সালের মধ্যে কাজগুলো শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ওই ভবনগুলো এখন নির্মাণের কোনো অগ্রগতি নেই। চুক্তি অনুযায়ী তিন বছরের মধ্যে কাজগুলো শেষ করার কথা থাকলেও বেশিরভাগের নির্মাণ কাজ এখনো শুরু হয় নি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ