মেঘালয়ের নির্বাচনে কেনেডি, নেহেরু, ইয়ান বথাম কেন প্রার্থী?

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১৮, ১২:২১ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক



ভারতের মেঘালয় রাজ্য বিধানসভার ভোটে নেমেছেন ইয়ান বথাম। কেনেডিও লড়ছেন ওই ভোটে। তবে এবার অ্যাডল্ফ হিটলার নেই প্রার্থীদের মধ্যে, কিন্তু নেহরু রয়েছেন।
যদি এই নামগুলো দেখে মনে হয় এঁরা কেউ ইংল্যান্ডের সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডার অথবা আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট অথবা ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী, তাহলে ভুল হবে।
মেঘালয়ের বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা থেকে পাওয়া গেছে এরকমই সব বিখ্যাত ব্যক্তিদের নাম।
যেমন সদ্য ম্যানেজমেন্ট পাশ করা যুবক ইয়ান বথাম সাংমা ভোটে লড়ছেন সলমানপাড়া কেন্দ্র থেকে উত্তরপূর্বাঞ্চলের স্থানীয় রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল পিপলস পার্টির টিকিটে।
তিনি যে প্রার্থীকে রীতিমতো চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছেন, তাঁর পিতৃদেব ভোটে জিতেছিলেন কী না জানা যায় না, তবে কংগ্রেস দলের সেই প্রার্থীর নাম উইনারসন সাংমা।
‘ইয়ান বথাম’-এর তাঁর আরেক দলীয় সতীর্থর নাম আবার ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন ডব্লু মোমিন।
সিনিয়র এই রাজনীতিবিদ সত্যিই ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন কী না, জানা নেই, তবে তিনি একসময়ে কংগ্রেস দলের হয়ে ভোটে জিতেছিলেন, আর এবারে সেখান থেকে টিকিট না পেয়ে দাঁড়িয়েছেন ন্যাশনাল পিপলস পার্টির হয়ে – মান্দিপাথার কেন্দ্র থেকে।
ন্যাশনাল পিপলস পার্টির নেতা ববিথ সাংমা বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, “এঁদের নামগুলো একটু অদ্ভূত ঠিকই, কিন্তু আমরা দলীয় টিকিট দেয়ার সময়ে এটাই খেয়াল রেখেছি যে প্রার্থীরা কতটা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছতে সক্ষম। এঁদের মধ্যে একজন তো আগে ভোটে জিতে ছিলেন, তিনি খুবই জনপ্রিয় নেতা আর অন্যজন তরুণ হলেও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তাই ওদের নামগুলো অদ্ভূত হলেও তাতে রাজনৈতিক প্রচারে আলাদা করে প্রভাব পড়ছে না।”
কংগ্রেসে যেমন ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন আছেন, তেমনই আছেন কেনেডি। পুরো নাম কেনেডি কর্নেলিয়াস খেইরেম। মফলাং কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হয়েছেন তিনি।
আবার যাঁর নাম নেহরু, তিনি কংগ্রেস ছাড়া অন্য কোনও দলের প্রার্থী হয়েছেন, এটা ভেবে কেউ অবাক হতেই পারেন। তবে ঘটনাচক্রে নেহরু নামধারী যে দুজন প্রার্থী আছেন এবারের মেঘালয় ভোটে, তাঁদের দুজনের কেউই কংগ্রেস প্রার্থী নান।
নেহরু সুতিং লড়ছেন পাইনুর্লসা থেকে আর অন্য একজন নেহরু ডি সাংমা ভোটে নেমেছেন গামবিগ্রে থেকে।
এখানেই শেষ নয়।
ভোটার তালিকায় রয়েছেন মইরাং কেন্দ্রের মিসেস ‘ইউরেকা’ লিঙদো, এবং সুতনা-সাইপুঙ কেন্দ্রে ‘হোপফুল’ বামন।
শিলংয়ের স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেলের সাংবাদিক জো থাঙ্কিয়্যু বলছিলেন, “এরকম অনেক মজার মজার নাম রয়েছে খাসি উপজাতীয়দের মধ্যে। আমারই দুজন সহকর্মী রয়েছেন, একজনের নাম ‘সেকশন’ যে অফিসে এলেই আমরা বলি ‘সেকশন ১৪৪’এল। আরেকজনের নাম সিঙ্গল স্টার। সে কোথাও গিয়ে যখন নিজের পরিচয় দেয় ‘হাই আই অ্যাম সিঙ্গল’ বলে, বিশেষত তিনি যদি নারী হন, তাহলে ওকে জবাবে শুনতে হয়েছে, ‘শোনো বাপু, তুমি সিঙ্গল না ম্যারেড সেটা জেনে আমি কী করব!”
“তো নির্বাচনেও এধরনের মজার মজার নাম নিয়ে প্রার্থীরা থাকবেন, এটাই স্বাভাবিক। একজন বেশ জনপ্রিয় প্রার্থী আছেন, তাঁর নাম হিমালয়। তাঁর পেছনে অনেকেই মজা করে বলে ‘দেখো সেই কতদূর থেকে হিমালয় চলে এসেছে মেঘালয়ে। সামনাসামনি হয়তো কেউ মজা করে না রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের নিয়ে, কিন্তু পেছনে সকলেই হাসি মস্করা করে,” বলছিলেন জো।
তবে এবারের নির্বাচনের প্রার্থী তালিকার এইসব হিল্যারিয়াস, অর্থাৎ মজার নাম দেখে যদি এখনও আপনার হাসি না পেয়ে থাকে, তাহলে আসুন আপনার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিই ‘হিল্যারিয়াস পোচেন’এর সঙ্গে। তিনি নংখ্রেম কেন্দ্র থেকে ভোটে লড়তে নেমেছেন।
তবে শুধু মেঘালয়ে নয়, ভারতের অন্যান্য অনেক রাজ্যেই ছেলে মেয়েদের এমন সব নাম রাখা হয় – যা নিয়ে তাদের বড় হয়ে হাসির পাত্র হয়ে উঠতে হয়।
কিছুদিন আগে ঝাড়খন্ড রাজ্যের পুলিশের কাছ থেকে জানতে পেরেছিলাম যে কাশ্মির, পাকিস্তান আর জাপানকে খুঁজছে তারা। তাদের পেছনে আবার লাগানো আছে ‘রকেট’।
পরে বোঝা গেল এক পুলিশকর্মীকে মারধরের ঘটনায় তিন ভাইকে খোঁজা হচ্ছে – যাদের নাম কাশ্মির কুমার রকেট, পাকিস্তান কুমার রকেট আর জাপান কুমার রকেট। তিনজনেই এলাকার পরিচিত দুষ্কৃতি!
তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা