মেয়র হিসেবে খায়রুজ্জামান লিটনকে নির্বাচিত করার প্রয়োজনীয়তা

আপডেট: জানুয়ারি ১৩, ২০১৮, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ

মো. আবদুল কুদ্দুস


রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সাবেক সফল মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন। তিনি সম্প্রতি তাঁর ফেইসবুক আইডি থেকে নি¤্নােক্ত পোস্টটি দিয়েছেন। তাঁর এই আবেগঘন পোস্টটি রাজশাহীর স্থানীয় পত্রপত্রিকা ও অনলাইন পত্রিকায় লিড নিউজ হিসেবে স্থান পেয়েছে। আমি তাঁর একজন সামান্য শুভাকাক্সিক্ষ হিসেব তাঁর সর্ম্পর্কে কিছু কথা লেখার চেষ্টা করছি। আশা করছি রাজশাহীর মানুষ খায়রুজ্জামান লিটনের সেই ডাকে সাড়া দিয়ে আধুনিক রাজশাহী বিনির্মাণে একাট্টা হবেন। দেশের সর্বস্তরের জনগণের সুবিধার্থে তাঁর পোস্টটি হুবুহু তুলে ধরছি-

Friends,
It has been a long, long to me since I shared my views with you all. I apologize for that. I thank you all for regularly posting all the pictures of my activities. My absence was not intentional. I was engulfed in a sea of sufferings, sorrows and torments from which I had to fight back alone, of course with the help of Allah Subhanatala and few others like my family members.

Now, I feel like a new sun of the new year peeping up in the East, only to become radiant soon and enlighten others with it’s bright light. I feel the surge within myself to be the Liton again and complete his mission to help others, to develop his beloved City and then the country also.

Viewers, will you please give me the opportunity to serve you again, to fulfill the dream that is yet to be completed. I need another five years to complete my vision regarding Rajshahi where our children, grand children will live happily and pray for us. Let it be a city of education, city of health care where people from all over Bangladesh will come and praise. Let it be a city full of economic activities with small, medium and large garments as well as other industries.

Rajshahi will be more peaceful, green, clean and livable city in Bangladesh.

WILL YOU GIVE ME THE CHANCE, FRIENDS?

জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহিদ এএইচএম কামারুজ্জামানের সুযোগ্য সন্তান এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে তিনি পারিবারিকভাবে চতুর্থ প্রজন্মের একনজন জনপ্রিয় নেতা। এই পরিবারের প্রথম প্রাণপুরুষ হাজী লাল মোহাম্মদ সরদার এমএলএ (১৮৪৮-১৯৩৬)। বাংলাদেশ বিনির্মাণে এবং আধুনিক রাজশাহী প্রতিষ্ঠার নেপথ্যে এই পরিবারের ভূমিকা অসীম। সম্পূর্ণ রাজনৈতিক এই পরিবারের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ হলেন, জনাব আব্দুল হামিদ মিয়া এমএলএ(১৮৮৭-১৯৭৬), এএইচএম কামারুজ্জামান হেনা (১৯২৩-১৯৭৫) বাংলাদেশের শহিদ জাতীয় চার নেতার অন্যতম এবং বর্তমান তরুণ প্রজন্মের আদর্শ জননেতা এএইচএম খায়রুজ্জমান লিটন (১৯৫৯-) প্রত্যেকেই সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান। তাঁরা ইচ্ছে করলে সবাই আরাম-আয়েস করে ঘরে বসে অথবা বিদেশে পাড়ি দিয়ে বিলাসবহুল জীবনযাপন করতে পারতেন। কারণ তাদের অর্থবিত্তের কোনো অভাব ছিল না। কিন্তু তাঁরা তা করেন নি। গতানুগতিক জীবনধারা পরিহার করে জীবনের সমস্ত সময় তাঁরা সকলেই কালের পরিক্রমায় স্বাধীন স্বার্বভৌম বৈষম্যহীন উন্নত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় কাজ করে গেছেন এবং আজ অবধি মানবকল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন। ক্ষুধা দারিদ্রমুক্ত সুবজ শ্যামল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় বেঈমান দস্যুদের বন্দুকের নলে বুকের তাজা রক্ত কোরবান দিতে তাঁরা (শহিদ এএইচএম কামারুজ্জামান) পিছুপা হন নি। এতো কিছুর পরও বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে তাঁরা নিজেদের এলাকা তথা রাজশাহী এবং এ অঞ্চলের মানুষের কথা ভুলে যান নি। রাজশাহীর মাটি ও মানুষের প্রতি তাঁদের পরিবারের প্রতিটি সদস্যদের রয়েছে গভীর টান। জনগণও তাই তাঁদের ভালোবাসে। শান্তিময় রাজশাহী, সবুজ রাজশাহী, পরিচ্ছন্ন রাজশাহী, শিক্ষানগরী হিসেবে রাজশাহী প্রতিষ্ঠায় তাঁদের রয়েছে অনবদ্য ভূমিকা।
এখন আসছি পারিবারিক কৃতিত্বের সীমানা পেরিয়ে খায়রুজ্জমান লিটনের রাজশাহী মহানগর বিনির্মাণে একক স্বপ্ন ও শ্রমের কথা নিয়ে। যেদিন থেকে খায়রুজ্জমান লিটন রাজনীতিকে হাতেখড়ি করে নিয়েছেন সেদিন থেকেই রাজশাহী মহানগরী ও এর আশেপাশের গণমানুষের ভাগ্য উন্নয়ন, বঞ্চনা ও নিপীড়নের হাত থেকে মুক্ত করতে প্রাণপণ পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। দেশের তথা রাজশাহীবাসীর শত দুর্যোগ মুহূর্তেও তিনি এ এলাকার মানুষের সঙ্গ ছেড়ে কোথাও সামান্য সময়ের জন্যও চলে যান নি। সদা সর্বদা মানুষের জীবনের উন্নয়নের জন্য কাজ করে গেছেন এবং আজ অবধি নিজের জীবন বাজি রেখে কাজ করেই চলেছেন। একটি দেশের তথা একটি এলাকা তথা আপামর জনসাধারণের ভাগ্য উন্নয়নে দরকার হয় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা। খায়রুজ্জমান লিটন রাজশাহীবাসীর বিপুল ভোটে এক মেয়াদে (২০০৮-২০১৩) মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। এর বেশি সময় তিনি ক্ষমতায় থেকে জনগণের উন্নয়নে কাজ করবার সুযোগ পান নি। তারপরও তিনি অন্য নেতাদের মতো রাগে ক্ষোভে হতাশায় নিমজ্জিত না হয়ে কোনো ধরনের কোনো লোভে প্রভাবিত না হয়ে তিনি সবসময় জনগণের পাশে রয়েছেন। ক্ষমতা কিংবা টাকার লোভের বশবর্তী হয়ে তিনি রাজশাহীর কোনো মানুষকে হয়রানি করেছেন এমন ঘটনা তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বিরল। দুর্নীতির কথা তাঁর ক্ষেত্রে কোনোভাবেই প্রযোজ্য নয়।
যে কোনো বিপদে আপদে যেকোনো শ্রেণি পেশার মানুষ, যেকোনো প্রগতিশীল ও সমাজসেবামূলক সংগঠন ও এর সদস্যবৃন্দ যে, যেভাবে যে অবস্থায় যেখানে তাঁকে ডেকেছেন তিনি তাদের ডাকে সাড়া দিয়ে সেখানে হাজির হয়ে তাঁদের কথা শুনেছেন, শুনেছেন দুঃখি মানুষের কথা। পরিস্থিতি বিবেচনা করে তিনি সাধ্যমতো এসব মানুষের পাশে থেকেছেন। তাঁর উদ্যোম আর পরিশ্রম দেখে কেউ মুগ্ধ না হয়ে পারে না। একটি উদাহরণ দিতে পারি, এই যেমনÑ তিনি গতবছর আরবি রমজান মাসে রাজশাহী ও এর আশেপাশের বিভিন্ন পেশাজীবী ও রাজনৈতিক সংগঠন এবং পারিবারিক প্রায় শতাধিক ইফতারের দাওয়াতে যোগ দিয়েছেন। এজন্য তাঁকে দিনে পাঁচটিরও বেশি ইফতারের দাওয়াতে যোগ দিতে হয়েছে। তিনি এসব ইফতারের দাওয়াতে পৌঁছে মানুষের সাথে কথা বলেছেন। কারো দাওয়াত তিনি ফিরিয়ে দেন নি। যেখানে গিয়ে ইফতারের সময় হয়েছে তিনি সেখানে বসেই সকলকে সাথে নিয়ে ইফতার করেছেন। জগতে এমন ত্যাগ কয়জন মানুষ করতে পারে? রোজা রেখে পড়ন্ত বেলায় যেখানে শরীর চলতেই চায় না সেখানে তিনি এই নগরীর পাড়ায় পাড়ায়, মহল্লায় মহল্লায়, মানুষের অলি-গলিতে গিয়ে তাদের দুঃখ-দুর্দশার কথা শুনেছেন। সমবেতভাবে হাত তুলে সবার জন্য মহান সৃষ্টিকর্তার নিকট সুখি সমৃদ্ধ জীবনের জন্য দোয়া পড়েছেন। ক্ষমতাসীন দলের নেতা হিসেবে তিনি এসব না করে ঘরে বসে নামি-দামি পণ্যের সমাহারে/ফলাহারে ইফতার সেরে ফেলতে পারতেন। কিন্তু তিনি এসব করেন নি। কারণ তিনি জনগণের নেতা। মজলুম জনতার আশার দিশারী নেতা। আসলে জনগণের নেতা তো তিনিই যিনি সমাজের জনগণের জমিজমা, মামলা মোকদ্দমা সংক্রান্ত বিরোধসহ শিক্ষা, চিকিৎসা ও অন্যান্য সকল বিষয় ভালো জানেন ও বুঝেন এবং কোনো রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ছাড়াই সেসবের শান্তিপূর্ণ সমাধান করতে পারেন। খায়রুজ্জামান লিটন সেই যোগ্যতা অর্জন করেছেন। তিনি এমন মাপের নেতা যাঁর সারা দেশে সব শ্রেণির মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা ও প্রবেশাধিকার আছে। আন্তর্জাতিকভাবে তাঁর এবং তাঁর পরিবারের সুখ্যাতি রয়েছে। এমন নেতা রাজশাহীতে আর কয়জন আছে?
মাত্র পাঁচ বছরের নগর ভবন পরিচালনায় মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন এটিকে জনগণের প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিণত করতে পেরেছিলেন। সেই পাঁচটি বছরে তার দৃঢ়তায় রাজশাহী মহানগরীর চেহারা পাল্টে গিয়েছিলো। শহরটি নিয়েছিলো সবুজে শ্যামলে ভরপুর এক ঝকঝকে রূপ। প্রশস্ত রাস্তা আর তাতে রংবেরঙের আলোকসজ্জা পুরো রাজশাহীকে পৃথিবীর মাঝে চাকচিক্যের এক নতুন আভিজাত্যে তুলে ধরেছিলো। তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণে কয়েক বছর আগেও যে রাজশাহীর মানুষ লাকড়ি দিয়ে রান্নাবান্নার কাজ সারতো তারা এখন গ্যাস দিয়ে রান্না করছে। রাজশাহীবাসীর বিনোদনের গুরুত্বপূর্ণ স্পট পদ্মা গার্ডেন কে তিনি গড়ে তুলেছেন পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে। করেছেন অত্যাধুনিক। হাজার হাজার মানুষ এখানে প্রতিদিন পরিবারের সাথে বিনোদনে অংশগ্রহণ করতে আসে। অথচ আমাদের সেই মহান নেতা আজ নগর ভবনের বাহিরে! তাই আগামী মার্চ-এপ্রিলের (সম্ভাব্য) সময়ে মধ্যে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে জাতির পিতার কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার আস্থাভাজন খায়রুজ্জামান লিটন ভাইকে সকলের নিরুঙ্কুশ সমর্থন দিয়ে নির্বাচিত করে নগর ভবনে মেয়রের চেয়ারে বসানো অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। উঁচু শ্রেণি থেকে শুরু করে কুলি-মজুর সকলের নেতা লিটন ভাই আমাদেরই সমর্থনে গড়ে তুলতে পারেন আগামীর পরিচ্ছন্ন, শিল্পোন্নত বাসযোগ্য অত্যাধুনিক রাজশাহী মহানগরী।
লেখক: শিক্ষক, বিজনেস স্টাডিজ বিভাগ ও সহকারী প্রক্টর, নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, রাজশাহী

[email protected]