মোবাইল ইন্টারনেটের ওপর ভ্যাট এখনই কমছে না

আপডেট: আগস্ট ২, ২০১৮, ১২:৫৮ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


মোবাইল ইন্টারনেটের ওপর থেকে ভ্যাট কমার প্রক্রিয়া ঝুলে গেছে। বিষয়টি এখন ‘সময় সাপেক্ষ’ হয়ে গেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) শীর্ষ কর্মকর্তারা ‘নির্ধারিত’ বিদেশ সফরে থাকায় সেপ্টেম্বরের শেষ অথবা অক্টোবরের আগে এ সমস্যার সমাধান হচ্ছে না।
আইএসপিগুলো (ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান) ১৫ শতাংশের পরিবর্তে ৫ শতাংশ ভ্যাট না নিলে লাইসেন্স বাতিলের মতো সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে জানা গেছে। তবে মোবাইল অপারেটররা আগের হারেই ভ্যাট নিয়েও রেহাই পাচ্ছে। মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর সংগঠন অ্যামটবের যুক্তি, ভ্যাট বিষয়ে এনবিআর যে এসআরও জারি করেছে সেখানে সুনির্দিষ্ট কোড উল্লেখ না থাকায় মোবাইল অপারেটররা ইন্টারনেটের ওপর ভ্যাট আগের মতো ১৫ শতাংশই নিচ্ছে গ্রাহকের কাছ থেকে।
সংসদে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেট পাসের দিন ইন্টারনেটের ওপর ভ্যাট ১৫ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়। এ খবরে আশান্বিত হন ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা।
জানা গেছে, বাজেট পাসের পর জারি করা এসআরও-তে মোবাইল ইন্টারনেট নিয়ে ‘ভুল’ থাকায় অপারেটররা এখনও ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট নিচ্ছে। গত ১৫ জুলাই সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে রাজস্ব বোর্ডের বৈঠকের পরে সিদ্ধান্ত হয়েছে, মোবাইল অপারেটরগুলো ১৫ শতাংশ ভ্যাট আইনত নিতে পারবে। এটা অবৈধ হবে না।
এদিকে ১ জুলাই থেকে আইএসপিগুলো গ্রাহকদের কাছ থেকে ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপরে ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট নিচ্ছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, অনেক আইএসপি এখনও আগের মতো ১৫ শতাংশ হারেই ভ্যাট নিচ্ছে।
এ বিষয়ে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারদের সংগঠন আইএসপিএবি জানিয়েছে তারা সরকারের নির্দেশে ১ জুলাই থেকে ইন্টারনেট সেবার ওপর গ্রাহক স্তরে ৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করে আসছে। কোথাও কোনও ব্যতিক্রম হলে জানাবেন।’ তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আইএসপি সেবাদাতাদের বিটিআরসির লাইসেন্স নিয়ে কাজ করতে হয়। তাদের জন্য আইএসপিএবির সদস্যপদ বাধ্যতামূলক। অভিযোগ পেলে আইএসপির সদস্যপদ বাতিল হবে এবং তাতে লাইসেন্সও বাতিল হবে।’
অন্যদিকে, মোবাইল ফোন অপারেটররা ইন্টারনেট প্যাকেজ বিক্রির ওপর এখনও ১৫ শতাংশই ভ্যাট নিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে অ্যামটবের যুক্তি হলো, ভ্যাট বিষয়ে এনবিআর যে এসআরও জারি করেছে সেখানে সুনির্দিষ্ট কোড উল্লেখ না করায় অপারেটররা ইন্টারনেটের ভ্যাট ১৫ শতাংশই রাখছে। এ-সংক্রান্ত যে এসআরও জারি করা হয়েছে সেখানে ইন্টারনেট সংস্থার ‘এস ০১২’ সার্ভিস কোডের আওতায় ‘এস ১২.১৪’ কোডের জন্যই শুধু এই নির্দেশনা কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে, যা শুধু আইএসপিগুলোর ক্ষেত্রে কার্যকর। অ্যামটবের দাবি, মোবাইল অপারেটরগুলোর এ-সংক্রান্ত কোড হলো ‘এস ১২.১০’।
এ অবস্থায় মোবাইল অপারেটরদের ইন্টারনেটের ওপর ভ্যাট কমানোর নির্দেশনা মানার ‘বাধ্যবাধকতা’ না থাকায় এবং বিষয়টির নতুন করে সুরাহা না হওয়ায় মোবাইল অপারেটররা মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে ইন্টারনেটের ওপর ১৫ শতাংশই ভ্যাট রাখছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এসআরও জারি করার সময় তাড়াহুড়োর কারণে এমনটা হয়েছে। সেপ্টেম্বরের শেষে বা অক্টোবর মাসের শুরুর দিকে বিষয়টির সংশোধন হতে পারে। সে পর্যন্ত মোবাইল ইন্টারনেটে গ্রাহকদের ১৫ শতাংশ হারেই ভ্যাট দিতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে গত ১৫ জুলাই ইন্টারনেট সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে বৈঠকে বসে এনবিআর। বৈঠকে আইএসপিগুলোর সংগঠন আইএসপিএবির কাছ থেকে সমস্যা সমাধানের প্রস্তাব আহ্বান করা হয়।
প্রস্তাবে কী থাকছে জানতে চাইলে সংগঠনটির সভাপতি আমিনুল হাকিম বলেন, ‘আমাদের প্রস্তাবনায় থাকছে এনটিটিএন-এর (ভূগর্ভস্থ ক্যাবল সেবা) ভ্যাট ৫ শতাংশ এবং আইআইজি’র (ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে) ওপর ৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হোক। এটা করা সম্ভব হলে কস্ট অব প্রোডাক্ট খুব বেশি বাড়বে না। যেটুকু বাড়বে সেটুকু সমন্বয় করে এবং গ্রাহকের ওপর কোনও ধরনের বাড়তি বিলের বোঝা না চাপিয়েই আমরা ইন্টারনেট সেবা দিতে পারবো।’
ভ্যাট শূন্যে নামিয়ে আনার দাবি উত্থাপন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের দাবি ছিল এনটিটিএন ও আইআইজির ওপর ধার্য ভ্যাট শূন্য করে দেওয়ার। কিন্তু এনবিআর আমাদের দাবি আমলে না নিয়ে নেতিবাচক মনোভাবে পোষণ করে।’
ইন্টারনেট ব্যবসায়ীরা বলছেন, গ্রাহকের ভ্যাট ৫ শতাংশ করা হলেও আইএসপিগুলোর ওপর এনটিটিএন সেবার ১৫ শতাংশ এবং আইআইজির ওপর ৫ শতাংশ ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর) আরোপ করা হয়েছে।
জানা যায়, এনটিটিএন প্রতিষ্ঠানগুলোর সেবার ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট আগে থেকেই ধার্য ছিল। আইআইজির সেবার ওপরও ছিল ১৫ শতাংশ ভ্যাট। এই দুটো ভ্যাটেই ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো ‘রিবেট’ পেত। এবারের বাজেটে ‘রিবেট’ সুবিধা বাতিল করে এনটিটিএন সেবার ওপর ১৫ শতাংশ এবং আইআইজির ওপর ৫ শতাংশ ভ্যাট ধার্য করা হয়েছে। তথ্যসূত্র: বাংলা ট্রিবিউন