মোহনপুরে আলুর বাম্পার ফলন নিয়ে শঙ্কিত চাষী

আপডেট: ডিসেম্বর ২৫, ২০১৬, ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ

মোহনপুর প্রতিনিধি



চলতি মৌসুমে রাজাশাহীর মোহনপুরে আলুর ফলন বিপর্যয়ের ভাবনায় কৃষক শঙ্কিত। শীতকালিন ফসল হিসেবে শীতের শুরুতে এ অঞ্চলে আলুচাষ শুরু হয়। মাটি থেকে গাছ বাহির হওয়ার পর কুয়াশা ও  শীতে গাছ তরতাজা হয়ে উঠে। চলতি মৌসুমে এখনো শীতের তীব্র প্রভাব না থাকলেও দিনে তাপমাত্রা বেশির কারণে আলুখেত আনুপাতিকভাবে ভাল হয় নি। এজন্য উঠতি মৌসুমে আলুর ভাল ফলন হবে বলে চিন্তিত কৃষকরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কৃষি অধ্যূষিত মোহনপুর উপজেলায় প্রায় সাড়ে সাত হাজার হেক্টর জমিতে আলুচাষ হয়েছে যা বিগত কয়েক বছরের তুলনায় প্রায় এক হাজার হেক্টর কম। অনেক কৃষি জমিতে পুকুর খনন, আলুর ব্যয় অনুসারে দাম কম, অন্য ফসলের চাহিদা এধরনের নানাবিধ সমস্যায় আলুচাষের পরিমান অনেকাংশে কমে এসছে। এর পরও অন্যান্য ফসলের তুলনায় এখনো আলুচাষের পরিমাণ ভাল আছে। উপজেলার সবত্র আলুরচাষ করা হলে বেশি পরিমাণ আলুর চাষ হয় ঘাসিগ্রাম, গোছা বিল, বেলনা, শ্যামপুর, তিলাহারি, হরিদাগাছি, দর্শনপাড়া, খয়রা, বসন্তকেদার, কুঠিবাড়ি, মতিহার, মৌপাড়া, বিষহারা এলাকায়। শুরুর দিকে আবহাওয়া অনেকটায় ভাল থাকলেও এখনো পর্যন্ত আলুর উপযোগি আবহাওয়া সৃষ্টি হয়নি বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।
উপজেলার কেশরহাট পৌর এলাকার হরিদাগাছি গ্রামের কৃষক আবদুস সালাম ম-ল জানিয়েছেন এবারে কিছুটা আগে আলুবীজ রোপন করা হয়েছে এছাড়াও শীতের তীব্রতা না বাড়ায় গাছ ভাল শক্তি করে নি। কয়েক দিনের মধ্যে শীতের পরিমাণ না বাড়লে ফলন ভাল হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তেঘর মাড়িয়া গ্রামের কৃষক নিরঞ্জন কুমার সাহা বলেন শীত হলে আলু ভাল হয়। এবারে এখন পর্যন্ত শীতের তীব্রতা নেই বলে ফলন অনেক কম হতে পারে চিন্তিত তিনি। বিগত বছরগুলোয় প্রতি বিঘা জমিতে আলুর ফলন হতো প্রায় ৩০ বস্তা থেকে ৪৮ বস্তা পর্যন্ত। আলুচাষে ব্যয় বেড়েছে কিন্তু দাম বাড়ে নি। এজন্য ভাল ফলন না হলে লোকসান গুণতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
কেশরহাট পৌর এলাকার উপসহকারি মো. জিল্লুর রহমান বলেন শীত হলে আলু ভাল হয়। পৌষের শেষের দিকে শীতের তীব্রতা না বাড়লে আলুর ফলন কম হতে পারে বলে ধারনা করেন তিনি। মুঠোফোনে উপজেলা কৃষি অফিসার (দায়িত্বপ্রাপ্ত) রহিমা খাতুনের যোগাযোগ করা যায় নি।