মোহনপুরে বোরো চাষিদের স্বপ্ন দুলছে বাতাসে

আপডেট: এপ্রিল ১, ২০১৯, ১২:৪২ পূর্বাহ্ণ

মোস্তফা কামাল, কেশরহাট


মোহনপুরের বোরো ধানের খেত-সোনার দেশ

মোহনপুরে বোরো চাষিদের স্বপ্ন দুলছে বাতাসে। কৃষি নির্ভর মোহনপুরের মটির বুক জুড়ে সবুজের সমাহার। দুচোখ যেদিক যায় শুধু দেখা যায় বোরো ধানের খেত। এখানকার কৃষকদের প্রধান এ ফসলটির সবধরনের সার, কীটনাশক ও পরিচর্যার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। কৃষকদের স্বপ্নের ফসল ঘরে উঠতে বাকি আর কিছুদিন। ঘরের টাকা মাঠে ছিটিয়ে অনেকটায় দুশ্চিন্তায় থাকা কৃষকরা এখন স্বপ্ন পুরণের আশায় বুক বেঁধেছেন। চলতি মৌসুমে মোহনপুরে প্রায় সাড়ে ৭হাজার ৩শ হেক্টর জমিতে বোরোধানের চাষ করা হয়েছে বলে জানায় উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর।
সরোজমিন ঘুরে দেখা গেছে, মোহনপুর উপজেলার উল্লেখযোগ্য মগরা বিল, ঢোরসা বিল, পশ্চিমবিল, জাওই বিলসহ সকল বিলেই বোরোধানের চাষ করা হয়েছে। তবে কোনো কোনো বিলের আগাম জাতের বোরোধানের শীষ দেখা দিয়েছে। কৃষকদের সচেতনতা বাড়তে কাজ করছেন উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তারা। সবস্থানের ফসলের খেতের অবস্থা অনেকটাই ভাল রয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। শুষ্ক মৌসুম হলেও ভাল বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ও সেচ সুবিধার কারণে বেগ পেতে হয়নি কৃষকদের। বোরোচাষের জন্য অনূকুল আবহাওয়ার ফলে এখন পর্যন্ত খেত ভাল আছে বলে দাবি কৃষি বিভাগের।
উপজেরার ঘাসিগ্রাম ইউনিয়নের গোছা গ্রামের কৃষক আইয়ুব আলী বলেন, চলতি মৌসুমে বোরো ধানের খেত এখন পর্যন্ত ভাল আছে। নিড়ানিসহ সকল প্রকার পরিচর্যার কাজ শেষ হয়েছে। রোগবালাই ও পোকা মাকড়ের প্রাদূর্বাভ নেই। এছাড়াও কৃষিবিভাগের লোকজন মাঠে আমাদের অনেক পরামর্শ দেয়। অনেক পরামর্শ কাজে লাগে আবার অনেক পরামর্শে সফলতা আসেনা। তবে সব মিলে ভাল ফলন আশা করেন তিনি।
কেশরহাট পৌর এলাকার হরিদাগাছি গ্রামের কৃষক আবদুস সালাম মণ্ডল জানান, বোরোধান ভাল হয়েছে। বোরোধানের জমি কমে যাওয়ার কারণে এবছর তিনি প্রায় ৫বিঘা জমিতে বোরোধান চাষ করেছেন। সবখেত ভাল আছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না আসলে ভাল ফলন আসবে বলে মনে করেন তিনি।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ রহিমা খাতুন বলেন, চলতি মৌসুমে এখানকার বোরোখেত এখন পর্যন্ত ভাল আছে। রোগ ও পোকার আক্রমন অনেকটাই কম। এছাড়াও কৃষকদের সচেতনতা বাড়াতে কাজ করছে উপজেলা কৃষি বিভাগ। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে চলতি মৌসুমে বোরোধানের খুব ভাল ফলন হবে বলে জানান তিনি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ