যথাযথভাবে জাতীয় পতাকার ব্যবহার || জাতীয় পতাকা বিধির প্রয়োগ চাই

আপডেট: নভেম্বর ৬, ২০১৭, ১২:২০ পূর্বাহ্ণ

জাতীয় পতাকার প্রতি বাঙালি জাতির আবেগ অনুরাগ অপরিসীম। স্বাধীনতার প্রতীক এই একটি পতাকা অর্জনের জন্য জাতিকে যে মূল্য দিতে হয়েছে তা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। ৩০ লক্ষ মানুষেন জীবন ও তাদের রক্ত দিয়ে লিখতে হয়েছে স্বাধীনতার নাম। আর নিপীড়ন নৃশংসতা ছিল বিশ্ব ইতিহাসের কলঙ্কময় অধ্যায়। তবুও স্বাধীনতার উদগ্র বাসনাকে একটুও দমানো যায়নি। বাঙালিরা জয়ী হয়েছেÑ জয়ের নিশান লাল সবুজের পতাকা বাঙালির আত্মগৌরবের, মর্যাদার প্রতিক হিসেবে জাতিকে পথ দেখাবে, উৎসাহিত-অনুপ্রাণিত করবে।
কিন্তু সেই জাতীয় পতাকা ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমাদের উদাসীনতা অনেক সময় অবমাননার পর্যায়ে চলে যায়। সেটা অজান্তে হতে পারে কিংবা জেনেও হতে পারে। যারা স্বাধীনতাবিরোধী তারা জেনেই অবমামননা করার চেষ্টা করে, কিন্তু যারা অজান্তে করে তাদের জানার সময় হয়েছে। কেননা জাতীয় পতাকার অবমাননা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা ঠিক হবে না।
যে কারণে সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জাতীয় পতাকা যথাযথভাবে ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়গুলোতে দৈনিক সমাবেশ ও জাতীয় সংগীত পরিবেশন নিশ্চিতেও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত নির্দেশনা সংবলিত পরিপত্র বৃহস্পতিবার জারি করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর। দৈনিক সোনার দেশে রোববার এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লিখিত পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়, বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নির্ধারিত সময়ে প্রতিদিন নিয়মিত যথাযথ সম্মান সহকারে সঠিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, নামানো এবং সংরক্ষণ করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। জাতীয় পতাকা দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, দেশপ্রেম ও মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতীক।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে অধ্যায়নরত সকল শিক্ষার্থীর মধ্যে দেশ ও জাতির প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা গড়ে তোলার জন্য জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সংগীত পরিবেশ বাধ্যতামূলক। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় গত ২৬ এপ্রিল ভবনের আকার আকৃতির ওপর ভিত্তি করে জাতীয় পতাকার দৈর্ঘ্য/প্রস্থ অনুপাতে যেটি প্রযোজ্য সেই অনুপাতে জাতীয় পতাকা ব্যবহারের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেয়া হয় বলে উল্লেখ করা হয় পরিপত্রে।
শুধু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নয়- ফাটা-ছেঁড়া, মলিন ও বিবর্ণ পতাকা উত্তোলন করা হয়, অন্য স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, সরকারি- বেসরকারি সংস্থায়, সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের ভবনে, ব্যক্তি প্রতিষ্ঠান ও ভবনেও।
অনেক সময় কোনো বিশেষ দিবসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করলে তা দিনের পর দিন আর নামানো হয় না। অনেক সময় ঘরের জানালায় জাতীয় পতাকা টানিয়ে দেয়া হয়। এই প্রবণতা অনাকাক্সিক্ষত, অনভিপ্রেত এবং জাতীয় পতাকা বিধি-১৯৭২ এর পরিপন্থী ও শাস্তিযোগ্য।
সব স্তরেই জাতীয় পতাকা বিধি সঠিকভাবে অনুসরণ করা হবে এটাই প্রত্যাশা। এর জন্য সরকারের উদ্যোগে জনসচেতনতা কর্মসূচির পাশাপাশি বাধ্যবাধকতা সৃষ্টির উদ্যোগ থাকাও বাঞ্ছনীয়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ