যশোরে মেসভাড়া ৬০ শতাংশ মওকুফ রাজশাহী জেলা প্রশাসনের উদ্যোগ চাই

আপডেট: May 6, 2020, 12:26 am

যশোরে শিক্ষার্থীদের মেস ভাড়া ৬০ শতাংশ মওকুফের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মালিকরা। সোমবার (৪ মে) জেলা প্রশাসনের সাথে এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এপ্রিল মাস থেকে ভাড়ার ৪০ শতাংশ দিতে হবে শিক্ষার্থীদের। বিদ্যুৎ বিল, পানির বিলসহ অন্যান্য খরচের জন্য এই ভাড়া পরিশোধ করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে। যশোর শহর ও শহরতলীতে সহস্রাধিক মেস রয়েছে। তবে কোনো মালিক চাইলে মানবিক বিবেচনায় শতভাগ ভাড়া মওকুফ করতে পারবেন। তাতে কোনো বাধা নেই। সভায় মেস মালিকদের প্রস্তাবনার ভিত্তিতেই ৬০ শতাংশ ভাড়া মওকুফের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, কোনো মালিক যদি সিদ্ধান্ত না মেনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অমানবিক আচরণ করেন, তবে আইনগত ব্যবস্থা নেবে পুলিশ। কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীদের দরকারি জিনিসপত্র ঘরের বাইরে ফেলে দেয়া হয়েছে। এটা কোনোভাবেই করা যাবে না বলেও মেস মালিকদের সতর্ক করে দেয়া হয়েছে।
দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত অপর এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, রাজশাহী কলেজ কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের হোস্টেলের (ছাত্রাবাস) সিট ভাড়া মওকুফের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত ১৮ মার্চ থেকে যত দিন হোস্টেল বন্ধ থাকবে, তত দিন পর্যন্ত সিট ভাড়া নেবে না কলেজ কর্তৃপক্ষ। ৪ মে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মহা. হাবিবুর রহমান। তবে সিট ভাড়া বাদে বাকি সব কিছু শিক্ষার্থীদের বহন করতে হবে।
করোনাভাইরাসে আর্থিক সঙ্কটকালে এমন অনেক শিক্ষার্থীই আছেন যাদের ছাত্রাবাসের ভাড়া মেটানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। যে কারণে ছাত্রাবাস বা হোস্টেল ভাড়া মওকুফের দাবিতে শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিস্তর লেখালেখি করছে। কেননা অনেক শিক্ষার্থী আছেন যাঁরা কোনো কোচিং সেন্টারে ক্লাস নিয়ে কিংবা প্রাইভেট পড়িয়ে যে আয় করেন তা দিয়ে শুধু লেখাপড়ার ব্যয় নয়Ñ তাদের পরিবারকে অর্থ সহায়তা দিতে হয়। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে দেশব্যাপি লকডাউন অব্যাহত থাকায় আয়ের পথ একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে। ওই শ্রেণির শিক্ষার্থীরা প্রকৃতঅর্থেই বিপদের মধ্যে পড়েছেন। এটি এরকটি মানবিক আবেদনÑ যা সাসমাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ছাড়াও মূলধারার সংবাদ মাধ্যমে বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে যশোরের মেস মালিক ও রাজশাহী কলেজ কর্তৃপক্ষ যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য।
এই সমস্যাটি সারা দেশেরই। বিষয়টি সরকারিভাবে বিবেচনা করলেই সবচেয়ে ভাল হয়। আবার যশোর জেলা প্রশাসনের মত উদ্যোগি হয়ে স্ব স্ব জেলায় মেস মালিকদের সাথে বসে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া যায়। রাজশাহী মহানগরী সহ জেলায় বিপুল সংখ্যক মেস রয়েছে। এসব মেসে অবস্থানকারী শিক্ষার্থীরা মেসভাড়া মওকুফের দাবি জানিয়ে আসছেন। রাজশাহী জেলা প্রশাসন উদ্যোগি হয়ে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে পারে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ