যাদের জন্য রোজা না রাখার অনুমতি

আপডেট: জুন ৫, ২০১৮, ১:৪৮ পূর্বাহ্ণ

ড. মাওলানা ইমতিয়াজ আহমদ


ইসলাম সার্বজনীন ধর্ম। আল্লাহ তায়ালা মানুষের সাধ্যের বাইরে তার উপর কোনো বিধান চাপিয়ে দেননি। মানুষের জীবনের সাথে মানানসই এবং মানুষের জন্য অসাধ্য নয়- এমন জিনিসই আল্লাহ তায়ালা মানুষকে আদেশ করেছেন। যারা শারীরিকভাবে অক্ষম কিংবা অন্য কোনো কারণে আমল কঠিন হয়ে পড়ে তাদের জন্য রয়েছে বিভিন্ন পন্থা। রমজানের রোজার ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি।
আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, হে মুমিনগণ! তোমাদের প্রতি রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের প্রতি ফরজ করা হয়েছিল, যাতে তোমাদের মধ্যে তাকওয়া সৃষ্টি হয়। গণা-গুণতি কয়েকদিন রোজা রাখতে হবে। তারপরও যদি তোমাদের মধ্যে কেউ অসুস্থ হয় বা সফরে থাকে, তবে অন্য সময়ে সে সমান সংখ্যা পূরণ করবে। যারা এর শক্তি রাখে তারা একজন মিসকিনকে খাবার খাইয়ে (রোজার) ফিদইয়া আদায় করতে পারবে। এছাড়া কেউ যদি স্বতঃস্ফূর্তভাবে কোনো পূণ্যের কাজ করে, তবে রোজা রাখাই তোমাদের জন্য বেশি ভালো। রমজান মাস-যে মাসে কুরআন নাজিল করা হয়েছে, যা আদ্যোপান্ত হিদায়াত এবং এমন সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী সম্বলিত, যা সঠিক পথ দেখায় এবং সত্য ও মিথ্যার মধ্যে চূড়ান্ত ফায়সালা করে দেয়। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তিই এ মাস পাবে সে যেন এ সময় অবশ্যই রোজা রাখে। আর তোমাদের মধ্যে কেউ যদি অসুস্থ হয় বা সফরে থাকে, তবে অন্য সময় সে সমান সংখ্যা পূরণ করবে। আল্লাহ তোমাদের পক্ষে যা সহজ সেটাই করতে চান। তোমাদের জন্য জটিলতা সৃষ্টি করতে চান না, যাতে তোমরা রোজার সংখ্যা পূরণ করে নাও এবং আল্লাহ তোমাদেরকে যে পথ দেখিয়েছেন, সেজন্য আল্লাহর তাকবির পাঠ কর এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর। (সূরা আল বাকারা ১৮৩-১৮৫)
এই আয়াতের আলোকে পাঁচ শ্রেণির মানুষের রোজা না রাখার অনুমতি আছে। তারা হচ্ছে ১. অসুস্থ ব্যক্তি, ২. মুসাফির, ৩. গর্ভবতী নারী, ৪. দুগ্ধদানকারীণী, ৫. দুর্বল বৃদ্ধ ব্যক্তি।
অসুস্থ ব্যক্তি: রোজার কারণে যে রোগ বৃদ্ধি পায় বা রোগ-ভোগ দীর্ঘ হওয়ার প্রবল আশঙ্কা থাকে সে রোগে রোজা ভাঙ্গার অবকাশ আছে। উল্লেখ্য, আশঙ্কা যদি সুস্পষ্ট হয় তাহলে তো কথা নেই। নতুবা একজন অভিজ্ঞ ও দিনদার চিকিৎসকের মতামতের প্রয়োজন হবে।
মুসাফির: মুসাফিরের জন্য সফরের অবস্থায় রোজা না রাখার সুযোগ রয়েছে। তবে অস্বাভাবিক কষ্ট না হলে রোজা রাখাই উত্তম। আর অস্বাভাবিক কষ্ট হলে রোজা রাখা মাকরূহ। এ অবস্থায় রোজা না রেখে পরে তা কাজা করে নিবে। হযরত আনাস রা. বলেন, কেউ রোজা রেখে সফরে বের হলে রোজা ভাঙ্গবে না। তবে যদি পিপাসার কারণে প্রাণের আশঙ্কা হয় তাহলে রোজা ভাঙ্গতে পারবে, পরে তা কাজা করবে।
গর্ভবতী নারী: রোজা রাখার কারণে গর্ভবতী নারী নিজের বা তার গর্ভস্থিত সন্তানের প্রাণহানী বা মারাত্মক স্বাস্থ্যহানীর প্রবল আশঙ্কা হলে তার জন্য রোজা না রাখা বা ভাঙ্গা জায়েজ। তবে পরে কাজা করে নিবে।
দুগ্ধদানকারীণী: রোজার কারণে সন্তান দুধ না পেয়ে মৃত্যুবরণ করতে পারে এমন আশঙ্কা হলে দুগ্ধদানকারীনীও আপাতত রোজা ভাঙ্গতে পারবে এবং পরে কাজা করে নিবে। হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে, আল্লাহ তায়ালা মুসাফিরের জন্য রোজার হুকুম শিথিল করেছেন এবং নামাজ কমিয়ে দিয়েছেন। আর গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারিনীর জন্যও রোজার হুকুম শিথিল করেছেন। (তিরমিজি)
দুর্বল বৃদ্ধ ব্যক্তি: যে বৃদ্ধ বা অসুস্থ ব্যক্তির রোজা রাখার সামর্থ্য নেই এবং পরবর্তীতে কাজা করতে পারবে এমন সম্ভাবনাও নেই এমন ব্যক্তি রোজার পরিবর্তে ফিদইয়া প্রদান করবে।
দুর্বল বৃদ্ধ ও এমন অসুস্থ ব্যক্তি যার ভবিষ্যতে রোজার শক্তি ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা নেই- তারা ছাড়া মুসাফির, গর্ভবতী ও শিশুকে দুগ্ধদানকারীনী রোজা না রাখলে রোজার ফিদইয়া দিবে না। বরং পরে কাজা করবে।
আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে সুস্থ সবল রেখে রমজানের সকল বিধান পালনের তাওফিক দান করুন।
লেখক: পেশ ইমাম ও খতীব, বাংলাদেশ রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট জামে মসজিদ, রাজশাহী