যেখানে বিদ্যুৎ নেই সেখানেই আলোর ফেরিওয়ালা

আপডেট: সেপ্টেম্বর ৮, ২০১৯, ১:৩১ পূর্বাহ্ণ

নওগাঁ প্রতিনিধি


রাণীনগরে আবেদনের পাঁচ মিনিটের মধ্যে বিদ্যুতের সংযোগ দিচ্ছেন আলোর ফেরিওয়ালা-সোনার দেশ

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে আলোর ফেরিওয়ালা কার্যক্রম। এক সময় এই জনপদের মানুষের কাছে বিদ্যুৎ মানে সোনার হরিণ হিসেবে গণ্য হতো। কিন্তু বর্তমান সরকারের আমলে প্রত্যন্ত গ্রামের ঘরে ঘরে গিয়ে ভ্যানে ফেরি করে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিচ্ছে আলোর ফেরিওয়ালারা। এই আলোর ফেরিওয়ালাদের কাছে আবেদন করার ৫-১০ মিনিটের মধ্যে মিটার সংযোগ দিয়ে আলো জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
সূত্রে জানা ‘শেখ হাসিনার উদ্যোগ, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ’ এই প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে সারা দেশে শুরু হয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ দুয়ার মিটারিং কার্যক্রম আলোর ফেরিওয়ালারা। বর্তমান সরকারের অঙ্গিকার ২০১৯ সালের মধ্যে দেশের প্রতিটি ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া হবে। গ্রাম থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের কোন মানুষকে যেন আর অন্ধকারে থাকতে না হয় সেই লক্ষ বাস্তবায়ন করার জন্য দেশব্যাপি শুরু হয়েছে এই কার্যক্রম। এই কার্যক্রমের আওতায় নওগাঁ জেলার ৪টি জোনাল অফিস থেকে ফেরি করে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়া হচ্ছে বিদ্যুৎ বিহীন মানুষের কাছে। এখন আর কাউকে দালালদের মাধ্যমে এসে মাসের পর মাস, বছরের পর বছর বিদ্যুতের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে না। সবকিছু প্রস্তুত থাকলে এই ফেরিওয়ালাদের কাছে এসে জামানত ও মিটারের খরচ বাবদ ৫ শ ৫০ টাকা জমা দিলেই মুহূর্তের মধ্যে বাড়িতে পৌঁছে যাচ্ছে বিজলীর আলো বিদ্যুৎ। এতে করে অর্থের অপচয় ও দালালের হয়রানীর হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে গ্রামাঞ্চলের মানুষেরা।
বর্তমানে রাণীনগর উপজেলার করজগ্রাম, আবাদুপুকর ও এর আশেপাশের গ্রাম এবং মিরাট ইউনিয়নের মিরাট বাজার ও তার আশেপাশের গ্রামে এই কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এই কার্যক্রম উপলক্ষে এই এলাকার মানুষদের নিয়ে চলছে সচেতনতামূলক গ্রাহক সেবায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি উঠান বৈঠক। বৈঠকে দালালমুক্ত সংযোগ প্রদান, নিয়মিত বিদ্যুৎবিল পরিশোধ, মুজিব বর্ষে নিরবিচ্ছিন্ন ও হয়রানী মুক্ত বিদ্যুতের অঙ্গিকারসহ নানা বিষয়ে আলোচনা করেন নওগাঁ পবিস-১ রাণীনগর জোনাল অফিসের এজিএম (ওএন্ডএম) সাইদী সবুজ খাঁন, পাওয়ার ইউনিট কো-অডিনেটর তবিবুর রহমান, ওয়্যারিং পরিদর্শক শাহিনুর রহমান, আবু তালেব প্রমুখ।
উপজেলার মিরাট ইউনিয়নের মিরাট বাজারের চা বিক্রেতা খলিলুর রহমান বলেন, দালালের পেছনে ঘুরে আমার এই চায়ের দোকানে বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে পারিনি। যার কারণে সন্ধ্যার পর মোমবাতি জ্বালিয়ে চা বিক্রি করতাম। আমি আলোর ফেরিওয়ালার কাছ থেকে বিদ্যুৎ নিয়েছি। আমি আলোর ফেরিওয়ালার মাধ্যমে বিদ্যুৎ পেয়ে অনেক উপকৃত হয়েছি।
করজগ্রাম গ্রামের মো. জাহাঙ্গির আলম বলেন, কিছুদিন আগেও গ্রামের মানুষরা একটি বিদ্যুৎ সংযোগ নেয়ার জন্য দালালদের হাতে হাজার হাজার টাকা তুলে দিতো। কিন্তু কোন লাভ পেতো না। ভ্যানে ফেরি করে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার এই কার্যক্রমের জন্য আমি সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। কারণ এখন আর মানুষকে দালাল কিংবা অফিসে গিয়ে হয়রানী হতে হচ্ছে না। খবর দিলেই নিমিষের মধ্যেই পেয়ে যাচ্ছে বিদ্যুৎ। এতে করে আমরা অনেক উপকৃত হচ্ছি।

নওগাঁ পবিস-১ রাণীনগর জোনাল অফিসের এজিএম (ওএন্ডএম) সাইদী সবুজ খাঁন বলেন, চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে আমাদের এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। যেখানে বিদ্যুৎ নেই সেখানেই এই আলোর ফেরিওয়ালা আছে। যতদিন না এই উপজেলার প্রতিটি ঘরে ঘরে বিদ্যুতের আলো না জ্বলছে এবং সরকারের লক্ষ্য অর্জিত না হচ্ছে ততদিন এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এপর্যন্ত রাণীনগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৬ শ বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করেছি। এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ