যেভাবে ভোল পাল্টালেন রণবীর

আপডেট: জুলাই ১০, ২০১৮, ১২:২২ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


একটার পর একটা লুক টেস্ট বাতিল। ছয় ঘণ্টা প্রস্থেটিক মেকআপ টিমের সামনে পোজ। ফাইনাল টেক ফ্লপ। রাত তিনটায় আড়মোড়া ভেঙে ওঠেই প্রোটিন শেকে চুমুক। তারপর সারাদিন ঘাম ঝরিয়ে জিমের ইনস্ট্রাকটরের আদেশ পালন। না পারলেই চোখ রাঙানি।
নিজের ভিতরের রণবীরকে সরিয়ে রেখে আপাদমস্তক ‘সঞ্জু’ হয়ে ওঠার জার্নির কথা এভাবে জানালেন রণবীর কাপুর। ভিডিওসহ সেই খবর প্রকাশ করেছে আনন্দবাজার পত্রিকা।
মনে-প্রাণে-শরীরে সম্পূর্ণ একটা আলাদা মানুষ হয়ে ওঠা জীবনের অন্যতম অভিজ্ঞতা বলে জানিয়েছেন রাজকুমার হিরানির ‘সঞ্জু’। সঞ্জয়ের লুক পুরোপুরি না এলে ছবিটাই যে হতো না।
রাজকুমার হিরানি বলেন, ‘প্রথম চ্যালেঞ্জ ছিল সঞ্জয় দত্তের চরিত্রে কে অভিনয় করবে? এমন একজন যে চেহারায়, কথাবার্তা ও আদব-কায়দায় পুরোপরি সঞ্জয় হবে। তার মতো করেই ভাববে।’
রণবীর সেই জায়গায় একশোয় একশো পেয়েছেন সে কথা অবশ্য বলতে ভোলেননি পরিচালক।
তবে, রহস্যের মোড়ক খুলেছেন খোদ রণবীর। ২০১৬ সালে রাজকুমার হিরানির মেসেজ মোবাইল স্ক্রিনে ফুটে ওঠা থেকেই চমকের শুরু। প্রথমে নাকি চরিত্রের জন্য রাজি ছিলেন না রণবীর। পরে চ্যালেঞ্জ অ্যাকসেপ্ট করেন। শুরু হয় যুদ্ধ।
প্রথমেই শুরু হয় সঞ্জয় দত্তের মতো চেহারা ফুটিয়ে তোলার জন্য লুক টেস্ট। ফাইনাল লুক প্রকাশ্যে আসার আগে কমপক্ষে ছয়বার নিজের লুক বদল করেছেন রণবীর। অভিনেতা বলেন, ‘ছয় ঘণ্টা চেয়ারে বসে পোজ দিতে হতো। মেকআপ নিয়ে আলোচনা চলত। শেষে বলা হত টেক ক্যান্সল। ফের পরের দিন একইভাবে বসতে হতো।’
এ তো গেল লুক টেস্ট। এরপর শারীরিক কসরত। রণবীরের কথায়, প্রতিদিন রাত তিনটায় ওঠে এক গ্লাস প্রোটিন শেক ছিল তার বরাদ্দ। তার পর ৮-৯টা মিল। সেই সঙ্গে জিম সেশন।
‘জিম করা আমার একেবারেই অপছন্দের। তবে এই বায়োপিকে চেহারার খুবই গুরুত্ব রয়েছে। সঞ্জয়ের মতো পেশি বানাতে আমাকে রীতিমতো চ্যালেঞ্জ নিতে হয়েছিল,’ বলেন ‘সঞ্জু’র রণবীর।
মাস খানেকের চেষ্টায় চেহারার পরিবর্তন দেখে নিজেই নাকি খুব অবাক হয়ে গিয়েছিলেন। অভিনেতা বলেন, ‘আমার শরীরে পেশির ঢেউ খেলছিল। জীবনে এমন চেহারার কথা ভাবিনি। সেটে সবাই আমাকে দেখে বলেছিল, এবার আমরা সফল হতে চলেছি।’
সফলও হয়েছেন তিনি। মুক্তির প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই ২০০ কোটির ক্লাবে পা দিয়েছে ‘সঞ্জু’। কোণঠাসা অবস্থা থেকে বলিউডে ফের নিজের সিংহাসন ফিরে পেয়েছেন রণবীর।