যে চা-ওয়ালাকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় তোলপাড়

আপডেট: অক্টোবর ২৪, ২০১৬, ১০:৪১ অপরাহ্ণ


সোনার দেশ ডেস্ক
পাকিস্তানের এক নীল মনির সুদর্শন চা-ওয়ালার ছবি নিয়ে ঝড় উঠেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। দেশটির রাজধানী ইসলামাবাদে ওই চা বিক্রেতার ছবি তোলেন জিয়া আলী নামের স্থানীয় এক চিত্র গ্রাহক। পরে অক্টোবরের ১৪ তারিখে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে তা পোস্ট করলে ছবিটি আলোড়ন তোলে।
এরশাদ খান নামের ওই সুদর্শন চা বিক্রেতার প্রতি আকৃষ্ট হয়েছেন পাকিস্তানের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারী অনেক নারী। শুধু তাই নয়, এই আকৃষ্টতা ছড়িয়ে পড়েছে পাশের দেশ ভারতেও।
ছবিতে তাকে চা বানানো অবস্থায় ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখা যায়। তবে তার দৃষ্টি ও তাকানোর ভঙ্গিতে ক্র্যাশ খেয়েছেন অনেক নারীই। টুইটারেও সোমবার চাওয়ালা নামের হ্যাশট্যাগ শীর্ষস্থান দখল করে।
টুইটারে এরশাদের ছবিটি শেয়ার হওয়ার পর যারা ক্র্যাশ খেয়েছেন তাদের অনেকেই ভারত ও পাকিস্তানের। ছবিটিতে মন্তব্যও করেছেন অনেকে। একজন লিখেছেন, “হ্যালো ভারতীয়রা, ইনি পাকিস্তানের একজন চাওয়ালা, মাশাআল্লাহ্!”
আরেকজন লিখেছেন, “আপনাদের সামনে পাকিস্তানের এক চাওয়ালাকে হাজির করছি। যিনি জানেনই না এর পরিবর্তে তিনি মডেলিং করতে পারতেন।” অনেক নারী আবার এরশাদের এই ছবি পাক-ভারত উত্তেজনা নিরসনের আশা হিসেবে দেখছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ছাড়িয়ে এরশাদ খানের ছবি জায়গা নিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও। এমনকি তার ছবি সম্বলিত খবরটি জায়গা পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বাজফিড(ইুুঁভববফ)’এর মতো জনপ্রিয় অনলাইনেও। হঠাৎ খ্যাতি পাওয়া এরশাদ খান পাকিস্তানের গণমাধ্যমেও সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন! একটি টেলিভিশন চ্যালেনে আলাপকালে তিনি জানান, গত ২৫ বছর ধরে তিনি ইসলামাবাদে বসবাস করছেন। তবে পেশোয়ার চক-এর ওই চায়ের দোকানে মাত্র কয়েক মাস আগেই তিনি যোগ দেন।
সেসময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার ছবি জনপ্রিয়তা পাওয়ার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে এরশাদ বলেন, ছবির বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সম্পর্কেও যে তার জ্ঞান খুব বেশি নয়, সেটিও এরশাদ অকপটে জানান। অবশ্য চলচ্চিত্রে সুযোগ পেলে তাতে দারুণ আগ্রহ দেখাবেন নীল নয়নের এরশাদ।
তবে এই ছবির মাধ্যমে যে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন তাতে বিড়ম্বনাও পোহাতে হচ্ছে তাকে। দুনিয়া নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এরশাদ বলেন, মানুষ এখন তাকে নিয়ে কেবল সেলফি তুলতে চায়। আর এই সেলফি যন্ত্রণার কারণে তার চা বানানোর কাজে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে। শুধু ছবি তোলায় যে তার পেট চলবে না তা তো ঠিকই!