যে চোর শুধু পুলিশের বাড়িতেই হানা দেয়

আপডেট: জুন ১৪, ২০১৮, ১২:৫৪ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


এখন সব পেশাতেই স্পেশালাইজেশনের যুগ। সে ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হোন, বা অধ্যাপক অথবা উকিল, বিশেষ ক্ষেত্রে পারদর্শিতা না থাকলে জীবনে উন্নতি করা কঠিন।
এই সত্যটা খুব ভাল করে বোধহয় বুঝেছিল কুড়ি বছর বয়সী কমলজিৎ সিং।
আর সে কারণেই ভারতজুড়ে হাজার হাজার চুরির ঘটনার মধ্যে থেকেই কমলজিৎ সিংয়ের নাম এখন সংবাদ শিরোনামে। কারণ মুম্বাইয়ের এই তরুণ চুরি করতে ঢুকত শুধুমাত্র পুলিশ কর্মীদের বাসা বাড়িতে।
সে হয়তো ভেবেছিল পুলিশ কর্মীদের বাড়িতে কোনও চোরের ঢোকার সাহস হবে না বলে সেখানে নিরাপত্তা তত আঁটোসাঁটো হবে না। সেই ভরসাতেই সে গত বছর কয়েকের মধ্যে হানা দিয়েছিল বেশ কয়েকটি পুলিশ বাড়িতে। ক’দিন আগে কালিচৌকি এলাকার পুলিশ কর্মীদের কোয়ার্টারে ঢুকেছিল সে।
কালিচৌকি থানার ইন্সপেক্টর দিলীপ উগালে বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, “ভোরের দিকে কনস্টেবল বিজয় বাণের কোয়ার্টারে ঢুকে ৬০ গ্রাম সোনা আর ২৮০০ টাকা নগদ চুরি করে। তারপরে একতলায় এক নারী কনস্টেবলের কোয়ার্টারের দরজা ভেঙ্গে ঢুকেছিল। পাশের ফ্ল্যাট থেকে যাতে কেউ বেরুতে না পারে, সেজন্য দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে দিয়েছিল। তবে তিনতলার বাসিন্দা আরেক কনস্টেবল যশবন্ত রসমের নজরে পড়ে যায়।”
মি. রসম সাথে সাথেই সতর্ক করে দেন আরও দুজন সহকর্মীকে এরপর তিনজন পুলিশ কর্মী তাকে ফলো করতে থাকেন। টের পেয়ে দৌড়ে পালাতে শুরু করে কমলজিৎ। কিন্তু বেশ কিছুটা দূরে কটন গ্রিন রেলস্টেশনের কাছে গিয়ে পাকড়াও করা হয় তাকে।
পুলিশের ঘরেই সিঁদ কাটার জন্য থানা হেফাজতে তার কী অবস্থা হয়েছিল, সেটা জানা যায় নি, তবে এই প্রথম যে সে পুলিশ কর্মীদের বাড়িতে চুরি করল, তা নয়।
ওয়াদলা আর বাইকুল্লা এলাকার বেশ কয়েকটি পুলিশ আবাসনে আগে হানা দিয়েছিল কমলজিৎ সিং।
এক পুলিশ কনস্টেবলের সার্ভিস রিভলবার আর ৩০ রাউন্ড গুলি চুরির অভিযোগও আছে তার বিরুদ্ধে। সেই ঘটনায় গতবছর গ্রেপ্তার হয়েছিলো কমলজিৎ। পরে জামিনে ছাড়া পেয়ে আবারও শুরু করেছিল পুলিশের ঘরে চুরি করতে।
মি. উগালে বলছিলেন, “ও হয়তো ভেবেছিল আমাদের কোয়ার্টারে অন্য কোনও চোর ঢুকতে সাহস পাবে না। তাই অন্য আবাসনের মতো কড়া নিরাপত্তা থাকে না আমাদের কোয়ার্টারে। এবারেও পার পেয়ে যেত, তিনজন কনস্টেবল সন্দেহের বশে তার পিছু না নিলে।”
বুকের পাটা আছে বটে ছেলেটার, যে পুলিশের ঘরেই চুরি করে, সহাস্য মন্তব্য মি. উগালের। তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা