যড়হপ্রথম ধাপের উপজেলা নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ভোটাররা আগ্রহ হারাচ্ছে?

আপডেট: মার্চ ১২, ২০১৯, ১২:২৪ পূর্বাহ্ণ

পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপের নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হলো। তবে স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে যে ধরনের উত্তাপ ছড়ায় তা এই নির্বাচনে অনুপস্থিত ছিল। এর মূল কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে যে, বিএনপিসহ আরো কিছু রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করায় জমজমাট বা উৎমবমুখর নির্বাচন হয় নি। সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত ও প্রচারিত তথ্য মতে, ১০ মার্চ প্রথম ধাপের নির্বাচনে দেশের ৭৮ টি উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিচ্ছিন্ন দু’একটি ঘটনা বাদ দিলে বলা যায়, নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হয়েছে। ১১ মার্চ নির্বাচন কমিশনের দেয়া তথ্য মতে প্রথম ধাপের নির্বাচনে ৪৩ দশমিক ৩২ শতাংশ নাগরিক তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। এবারে ৫ টি ধাপে উপজেলা নির্বাচন হচ্ছে।
সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী প্রথম ধাপের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের ৫৭ জন এবং স্বতন্ত্র ২৩ প্রার্থী। ক্ষমতাসীন দলটির ৫৭ জনের মধ্যে ১৫ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এবং ৪২ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নির্বাচিত হয়েছেন।
ভোটারদের অনুপস্থিতি এতো কম কেন? প্রথম ধাপের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বেশ কিছু উপলব্ধির জায়গা তৈরি হয়েছে। এ উপলব্ধি দেশের মানুষের মধ্যে নির্বাচনি ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নির্বাচনি প্রক্রিয়া প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে নেয়ার ক্ষেত্রে নির্বাচনি ব্যবস্থায় বেশ কিছু সঙ্কট তৈরি হয়েছে যা এখনই গভীরভাবে ভেবে দেখার সময় এসেছে। আর এ ভাবনাটি সামগ্রিকভাবে রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতেই হতে হবে।
স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে প্রদত্ত ভোটের সংখ্যাই বলে দিচ্ছে নির্বাচন নিয়ে ভোটারদের মধ্যে আগ্রহ হারাচ্ছে। এটি নির্বাচনি ব্যবস্থা তো বটেই- পুরো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকেই ক্ষতিগ্রস্ত করবে। আর এ পরিস্থিতির জন্য কোনো একক রাজনৈতিক দলকে দায়ি করা সমীচীন হবে না। কেননা এই পরিস্থিতি একদিনে সৃষ্টি হয় নি। পঁচাত্তরের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নির্বাচন ব্যবস্থাকে সুকৌশলে ধ্বংস করার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। নির্বাচন ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে যারা তৎপরতা দেখাচ্ছে তারা মূলত জাতীয় রাজনীতিরই ক্ষতি করছে। এমনকি তারা নিজেদের দলকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে। রাজনীতিতে এই প্রবণতা অসুস্থতারই সাক্ষ্য দেয়। কেননা নির্বাচনি ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়লে সরকার বদল করেও সেই ক্ষতি সহসা পুষিয়ে নেয়ার সংক্ষিপ্ত কোনো পথ থাকবে না। বরং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতি বিপর্যস্থ হবে, ধারাবাহিকতা রক্ষা করা সম্ভব হবে না।
জনচাহিদা নিয়ে জনগণের স্বার্থে লড়াই-সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়াই রাজনৈতিক দলের অভীষ্ট লক্ষ হওয়া উচিত। কিন্তু লড়াই-সংগ্রামের অক্ষমতায় ‘বাণের ওপর রাগ করে ধান ডবিয়ে দেয়ার’ সিদ্ধান্ত আত্মঘাতী হবে। লড়াইটা যদি জনসাধারণের জন্য হয়- তা হলে নিপীড়ন যতই তিব্র হোক না কেন জয় অবশ্যম্ভাবী হয়ে উঠে। আর এটার জন্য সময় লাগে। রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, সঠিক সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পনা- কৌশল ব্যবহার করেই সাফল্য অর্জন করা যায়। তাই নির্বাচন ব্যবস্থা আজকের পরিণতি দেখে কারোরই আনন্দিত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বরং এই মানসিকতা হীনমন্যতারই জন্ম দিবে। এই মন্দ খেলায় কেউ হারে না, কেউ জেতে নাÑ হেরে যায় রাজনীতি, গণতন্ত্র, দেশ। জাতীয় রাজনীতিতে এই বোধের জাগরণ খুবই প্রয়োজন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ