রংপুরে সাম্প্রদায়িক উস্কানি || মদদদাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা চাই

আপডেট: নভেম্বর ১৩, ২০১৭, ১২:৩২ পূর্বাহ্ণ

আবারো সাম্প্রদায়িক বিষ উগরে দিলো উগ্রবাদীরা। তারা যে সক্রিয় আছে, সামান্য ছুঁতোনাতায় ভয়ঙ্কর সহিংস ঘটনা ঘটিয়ে দিতে পারে- রংপুরের সহিংসতা সেই সত্যকে আবারো সামনে এনেছে। পুলিশ বলছে ওই সহিংসতা ঘটিয়েছে জামায়াত শিবিরের জঙ্গি কর্মীরা। যুদ্ধাপরাধে দায়ী এই দলটি ধর্মীয় উস্কানি নিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত ও নেতৃত্ব দিয়ে রংপুরের গঙ্গাচড়ায় একটি হিন্দু গ্রামে হামলা করেছে। তারা ওই গ্রামে তাদের চিরাচরিত নিয়ম অনুযায়ী অগ্নিসংযোগ করেছে, লুটপাট করেছে। পুলিশের বাধা অগ্রাহ্য করে ওই হামলা চালানোর সময় পুলিশের গুলিতে এক জনের মৃত্যুও হয়েছে। এ ঘটনা দেশের সব সংবাদ মাধ্যমে গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ ও প্রচার করেছে।
ওই হামলার জন্য দুর্বৃত্তরা কোন অজুহাত দিয়েছে? সেই পুরান নোংরামি। পুলিশের ভাষ্য মতে ওই হিন্দু গ্রামের একজন ফেসবুকে ধর্মীয় অবমাননামূলক পোস্ট দিয়েছেন বলে অভিযোগ করে সেখানে হামলা করা হয়। সংবাদ মাধ্যমে প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী যার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ আনা হয়েছে, সেই যুবক নিরক্ষর এবং সাত বছর ধরে সে এলাকাতেই থাকে না। অথচ সেই নাকি ফেসবুকে ধর্মের অবমাননা করেছে! একই ধরনের উস্কানি দিয়ে কক্সবাজারের রামুতে, নাসিরাবাদে একই অজুহাতে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা চালায় মৌলবাদী গোষ্ঠি। পরে ধর্মের অবমাননার ঘটনার কোনো সত্যতা পাওয়া যায় নি। কিন্তু এসব ঘটনার মধ্য দিয়ে মানুষের যা সর্বনাশ হয়ে যাচ্ছে। একের এক এ ধরনের ঘটনা ঘটেই চলেছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার চক্রান্ত বহুদিন ধরেই চালিয়ে আসছে জামাত-শিবির চক্র। রংপুরের ক্ষেত্রেও তারা একই উদ্দেশ্যে ওই সহিংসতা চালিয়েছে, এটা পরিস্কার। অর্থাৎ দলটি যে কখনো শুধরাবে না, তা বলাই বাহুল্য।
এসব ঘটনায় একটা প্রশ্ন সামনে চলে আসে যে, একের পর এক কীভাবে সহিংস ঘটনা ঘাটিয়ে যেতে পারছে জামাত-শিবির? অতীতের সহিংস ঘটনাগুলোর পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে যে, ওইসব ঘটনায় কেহ শাস্তি পায় নি। অর্থাৎ ঘটনাগুলো বিচারের পরিণতি পায় নি। ফলে সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটিয়ে নিরাপদ থেকে যাচ্ছে। আরেকটি ব্যাপার হলোÑ জামাত শিবির উস্কানি দিয়ে ভুল তথ্য দিয়ে সাধারণ মানুষকে ব্যবহার করতে পারছে। এর জন্য জনগণকে সচেতন-সতর্ক করার সরকারি প্রচার- কৌশল তেমন উল্লেখযোগ্য বা যথেষ্ট নয়। জঙ্গি তৎপরতার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে কীভাবে সম্পৃক্ত করা যায় সেই কৌশল অনুসন্ধান করা যেতে পারে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর একার পক্ষেও জঙ্গিবাদ নির্মূল করা সম্ভব নয়। অসাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গির প্রচারণা ও নেতৃত্ব সমাজের তৃণমূল পর্যায় থেকেই আসতে হবে। তবেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির স্থায়ী বন্ধন তৈরি করা যাবে। এর জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার স্বপক্ষের দলগুলির মধ্যে শতভাগ থাকতে হবে।
রংপুরের ঘটনার সাথে যে বা যারাই জড়িত থাকুক না কেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হরেব। কোনোভাবেই আইনের ফাঁক গলে তারা যাতে পার পেয়ে না যায়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ