রমজানে ক্ষমা প্রার্থনা

আপডেট: মে ১৭, ২০১৯, ১২:৩৪ পূর্বাহ্ণ

ড. মাওলানা ইমতিয়াজ আহমদ


পবিত্র মাহে রমজানের রহমতের দশক শেষ হয়ে গেছে। অবশিষ্ট দিনগুলোতেও আল্ল¬াহর রহমত বিদ্যমান থাকবে। তবে রহমতের বিশেষ সুযোগটা শেষ হয়ে গেছে। এরপর আছে সাধারণ সুযোগ। বিশেষ সুযোগে আমরা রহমত পেয়েছি কিনা নিশ্চিত নই। তাই সারা রমজানেই আল্ল¬াহর কাছে রহমত পাওয়ার জন্য দোয়া ও মেহনত করতে হবে। আমি আল্ল¬াহর রহমতের কাঙ্গাল। আল্লাহর রহমত আমার কাঙ্গাল নয়। এমন বিনয়ের মনোভাব নিয়েই আল্ল¬াহর কাছে রহমত চাইতে থাকতে হবে।
আজ থেকে রমজানের দ্বিতীয় দশক শুরু। এটাকে মাগফিরাতের দশক বলা হয়। মাগফিরাত অর্থ ক্ষমা করা। রমজানের এই দশকে আল্ল¬াহ তায়ালা তাঁর বান্দাদেরকে বিশেষভাবে ক্ষমা করে থাকেন। প্রথম দশকেও ক্ষমা করেন, দ্বিতীয় দশকেও ক্ষমা করেন, তৃতীয় দশকেও ক্ষমা করেন। তবে মধ্যের এই দশকে বিশেষভাবে ক্ষমা করেন। একদিন রাসূলুল্ল¬াহ সাল্লাল¬াহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মিম্বরে বয়ান করার জন্য উঠছিলেন। তিনি যখন প্রথম ধাপে পা দিলেন, তখন বললেন, আমিন! অনুরূপ দ্বিতীয় ধাপে পা রাখার সময়ও বললেন, আমীন! তৃতীয় ধাপেও বললেন, আমিন! এমনটা কখনও হয়নি। সাহাবায়ে কেরাম বয়ান শেষে এর কারণ জানতে চাইলে রাসূলুল্ল¬াহ সাল্লাল¬াহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আমি যখন প্রথম ধাপে পা রাখলাম তখন জিবরাইল আ. আমার কাছে এসে বললেন, ধ্বংস হোক ঐ ব্যক্তি যে পবিত্র রমজান মাস পেল অথচ তার গুনাহ মাফ করিয়ে নিতে পারল না। আমি বললাম, আমিন! অর্থাৎ আল্লাহ তাই করুন। দ্বিতীয় ধাপে পা রাখার সময় জিবরাইল আ. বললেন, ধ্বংস হোক ওই ব্যক্তি যার সামনে আপনার নাম আলোচিত হওয়া সত্ত্বেও সে আপনার উপর দরূদ পাঠ করলো না। আমি বললাম, আমিন! যখন তৃতীয় ধাপে পা রাখলাম, তখন তিনি বললেন, ধ্বংস হোক ওই ব্যক্তি যার মাতা-পিতা উভয়ে কিংবা একজন বৃদ্ধাবস্থায় পৌঁছল অথচ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাতে পারল না অর্থাৎ তাদের খুশি করে জান্নাত হাসিল করতে পারল না। আমি বললাম, আমিন!
যেহেতু এই দশকটা মাগফিরাতের দশক, তাই আল¬াহর কাছে বেশি বেশি করে ক্ষমা চাওয়া দরকার। নতুন-পুরাতন সব ধরনের গুনাহের জন্য আল্ল¬াহর কাছে ক্ষমা চাওয়া দরকার। এমন যেন না হয় যে, অতীতে যেসব গুনাহ হয়ে গেছে তার জন্য বহুবার মাফ চেয়েছি, এখন আর তার জন্য মাফ চাওয়ার প্রয়োজন নেই। এমনটি হওয়া মোটেও উচিত নয়। বরং তার জন্যেও মাফ চাওয়া দরকার। গুনাহ স্মরণ করে যত বেশি তওবা করা যায়, যত বেশি মাফ চাওয়া যায়, আল্লাহ তায়ালা তত বেশি খুশি হন।
গুনাহের জন্য মাফ চাওয়া, এটাও একটা স্বতন্ত্র আমল। নামাজ পড়লে আল¬াহ খুশি হন, রোজা রাখলে আল¬াহ খুশি হন, ইবাদত-বন্দেগি করলে আল্ল¬াহ খুশি হন, এমনিভাবে যে কোনো আমল করলে আল্ল¬াহ খুশি হন। তদ্রƒপ গুনাহের জন্য মাফ চাইলেও আল্ল¬াহ খুশি হন। যত বেশি মাফ চাওয়া যায় ততবেশি আল্লাহ খুশি হন যে, বান্দা আমার কাছে নতি স্বীকার করেছে। বান্দার নতি স্বীকার করা, বান্দার নত হওয়াকে আল্ল¬াহ খুব বেশি পছন্দ করেন। বান্দা অহংকার করবে, মাথা উঁচু করবে, আল্ল¬াহ এটা পছন্দ করেন না। আর বান্দা যত নত হবে, আল্ল¬াহর কাছে যত কাকুতি-মিনতি করবে, যত দীনতা-হীনতা প্রকাশ করবে, আল্ল¬াহ তত বেশি খুশি হবেন।
রমজানের কিছু মাসয়ালা
* গর্ভবতী বা দুগ্ধদায়িনী স্ত্রী লোক রোজা রাখলে যদি নিজের জীবনের ব্যাপারে বা সন্তানের জীবনের ব্যাপারে আশংকা বোধ করে বা রোজা রাখলে দুধ শুকিয়ে যাবে আর সন্তানের সমূহ কষ্ট হবে- এরূপ নিশ্চিত হলে তার জন্য তখন রোজা না রাখা জায়েজ, পরে কাজা করে নিতে হবে। * যদি এমন পিপাসা বা ক্ষুধা লাগে যাতে প্রাণের আশংকা দেখা দেয়। তাহলে তার জন্যে রোজা ছাড়ার অনুমতি আছে। তবে পরে কাজা করতে হবে। * যদি এমন কোনো রোগ বা অবস্থা দেখা দেয় যে, ওষুধ-পত্র গ্রহণ না করলে জীবনের আশা ত্যাগ করতে হয়। তাহলে তার জন্যেও রোজা ছাড়ার অনুমতি আছে। তবে পরে অবশ্যই কাজা করতে হবে।
লেখক: পেশ ইমাম, বাংলাদেশ রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট জামে মসজিদ, রাজশাহী

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ