রমজান উপলক্ষে বেড়েছে লিচুর চাহিদা || মাহদেবপুরে প্রতিদিন লক্ষাধিক লিচু বিক্রি

আপডেট: মে ২২, ২০১৯, ১২:৩০ পূর্বাহ্ণ

এম. সাখাওয়াত হোসেন, মহাদেবপুর


মহাদেবপুরে লিচুর দোকানে ক্রেতাদের ভীড়-সোনার দেশ

পবিত্র রমজানকে ঘিরে নওগাঁর মহাদেবপুরে সুস্বাদু রসালো ফল লিচুর ব্যাপক কদর বেরেছে। মহাদেবপুর উপজেলা সদরে প্রায় ৪২ জন লিচু বিক্রেতারা প্রতিদিন লক্ষাধিক লিচু বিক্রি করছেন। রমজানের শুরু থেকেই প্রায় সারা মাসই লিচু দিয়ে ইফতার করতে চান রোজাদাররা। মৌসুমী ফল লিচু রসালো এবং সুস্বাধু হওয়ায় ইফতারে বিভিন্ন আয়োজনের মধ্যে লিচুকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন রোজাদাররা। রমজানের প্রখর দাবদাহে প্রকৃতি ও মানুষ যখন গরম ও ক্লান্তিতে ধুঁকছে, সেই সময়ই এক পশরা বৃষ্টি নিয়ে প্রকৃতিতে হাজির হয় মধুমাস জ্যৈষ্ঠ। আর জ্যৈষ্ঠ মাস সঙ্গে নিয়ে আসে নানা রকম সুস্বাদু ফল।
এ লিচুর মৌসুমে পবিত্র মাহে রমজান পড়াতে পবিত্র সিয়াম সাধনার পর ক্লান্তি নিবারনের জন্য ইফতারের মেনুতে মুড়ি, বুট, বুন্দিয়া, পেয়াজি, বেগুনি, খেজুর, কলা, আম, আপেল, কমলার পাশিাপাশি রসালো ফল লিচু রাখছেন। মহাদেবপুর উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন হাট-বাজারে মৌসুমী ফল লিচুর ব্যাপক চাহিদা দেখা যাচ্ছে। উপজেলা সদরের বাসস্ট্যান্ড, মাছ চত্ত্বর, বক চত্ত্বর, পোস্ট অফিস মোড়, ঘোষপাড়ার মোড়, মধ্যবাজারসহ বিভিন্ন মোড়ে প্রায় ৪২ জন লিচু বিক্রেতারা প্রতিদিন প্রায় লক্ষাধিক লিচু বিক্রি করছেন । মহাদেবপুর বাসস্ট্যান্ডের লিচু ব্যবসায়ী ফাজিলপুর গ্রামের রুহুল আমীন রাহুল, দক্ষিণ হোসেনপুর গ্রামের ছায়দুল ইসলাম, চকগোবিন্দ গ্রামের মিজানুর রহমান কালু, কলোনী পাড়ার সোনা মিয়া, আনারুল ইসলাম, পাটকাটি গ্রামের শহিদুর রহমান, লাটশাল গ্রামের অখিল, খোশালপুরের আনিছুর রহমানসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ীরা জানান, এই উপজেলায় লিচু ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন মোড়ের ফুটপাতে বসে প্রতিদিন গড়ে প্রায় লক্ষাধিক লিচু বিক্রি করছেন। অন্যান্য বছরের চেয়ে এ বছর লিচুর মৌসুমে রমজান মাস হওয়ায় বেচাকেনা বেড়েছে। প্রতিদিন দুপুর গড়ালেই লিচুর চাহিদা বেড়ে যাচ্ছে। কিছু মানুষ তাদের দোকান থেকে লিচু কিনে পথিমধ্যে ইফতার করছেন। অন্যান্য বছর লিচুর মৌসুমে এমন সুযোগ আমরা পাই নি। প্রতি’শ লিচু ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত দামে বাজারে বিক্রি হচ্ছে। লিচু ব্যবসায়ী রুহুল আমীন রাহুল তার দোকানে প্রতিদিন প্রায় ৩ থেকে ৪ হাজার বিভিন্ন জাতের লিচু বিক্রি করেছেন বলে জানান। মহাদেবপুর উপজেলার বিভিন্ন বাগান থেকে রসালো লিচু বিক্রি প্রায় শেষের পর্যায়ে তাই সব লিচু ব্যবসায়ী মিলে দিনাজপুরের গাংকলি বাগান ও কালিতলা নিউ মার্কেট থেকে প্রতি দুই-তিন দিন পর পর প্রায় তিনলাখ করে লিচু নিয়ে আসেন। এতে এ উপজেলা সদরে প্রয় ৪২ জন খুচরা ও পাইকারি লিচু বিক্রেতা প্রতিজন প্রতিদিন ১ থেকে ৩ হাজার টাকা আয় করে থাকেন। এ আয় দিয়ে তারা সন্তানদের লেখাপড়ার খরচসহ সংসার চালানোর কাজে ব্যায় করেন।