রাজনীতিকদের হাতে রাজনীতি নেই দায় রাজনীতিকদেরই নিতে হবে

আপডেট: জুলাই ৭, ২০১৯, ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ

চলমান রাজনীতির দায়টা নিবে কে? আজকের এই রাজনীতিতে রাজনীতিহীনতার জন্য একক কোনো রাজনৈতিক দলকে দায়ী করা যায় কি? ইত্যকার নানা প্রশ্ন জাতীয় রাজনীতির প্রতি ছুঁড়ে দেয়া যায়। কিন্তু বাস্তবতা হলো এই যে, রাজনীতিহীনতার দা টা কেহই নেবে না-এটাই বর্তমান সময়ে স্বাভাবিক ঘটনা। রাজনীতিকরা অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে নিজেকে লুকিয়ে রাখতে চায়। এই যে দায় না নেয়ার মানসিকতাই রাজনীতির মূল সমস্যা। আবার এটাকে রাজনীতিকরা সমস্যা ভাবেন কি না সে ব্যাপারে যথেষ্ট সন্দেহ আছে। আয়নাটা অদৃশ্যই থাকে, রাজনীাতকরা নিজেদের চেহারা দেখতে চান না বরং জনগণের সামনে নিজেদের চেহারাটা একেবারে নিষ্পাপ আবেগে তুলে ধরেন। অর্থাৎ তিনি বা তার দল অতিউত্তম, আর যারা আছে তারা খুবই খারাপ। ওরা জনগণের শত্রু। বিন্তু এদেশে খুবই কম এমন ঘটনা ঘটেছে যে, জনগণ নির্দিষ্ট করেছে তাদের শত্রুকে।
‘বাংলাদেশের রাজনীতি এখন আর রাজনীতিবিদদের হাতে নেই’Ñ এ মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি। তিনি বলেন, ‘শুধু বাইরেই নয়, আমি জাতীয় সংসদেও বলেছি, বাংলাদেশের রাজনীতি এখন আর রাজনীতিবিদদের হাতে নেই।’ ৫ জুলাই বরিশালে এক শোক ও স্মরণসভায় এ কথা বলেন তিনি।
এটা এমন কী আর নতুন কথা! এ শতাব্দির গোড়া থেকেই বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে বার বার প্রসঙ্গটি উঠে আসছে আলোচনায়। তা হলে এই উপলব্ধিটা হতেও এতো সময় লাগলো! ২০০৯ সাল থেকেই তো ওয়ার্কার্স পার্টি ক্ষমতাসীন জোটের শরিক। এ দলের শীর্ষ নেতা মন্ত্রী হয়েছেন, অন্যরা এমপি হয়েছেন। এ উপলব্ধির কথা কই আগে তো শোনা যায় নি? আওয়ামী লীগ তৃতীয়বারের মত ক্ষমতায় আসলে শরিক দলগুলোকে বাদ রেখেই মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়েছে। তারপর থেকেই শরিক দলগুলোর নেতাদের কণ্ঠ একটি চড়া হয়েছে। সরকারের প্রতি সমালোচনা ধার ক্রমশ শাণিত হচ্ছে। এর মাজেজাটা কী? যারা মেজাজ হারাচ্ছেন তারা তো এখনো এই জোট সরকারের অংশ।
যাহোক, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি যা বলেছেন, তার যথার্থতা নিয়ে কোনই প্রশ্ন নেই। কিন্তু এই যে পরিস্থিতির উদ্ভব হলোÑ সেটা কীভাবে? কার কতটুকু দায়- সেটা কীভাবে নিরূপণ করা যাবে। দায় যদি অস্বীকৃত হয় তা হলে বর্তমান পরিস্থিতি যে আরো সঙ্কটের সৃষ্টি করবে তা বলাই বাহুল্য। আওয়ামী লীগে এখন হাইব্রিডদের রমরমাÑ এর সাথে অন্য দলের দায়-এর কী আছে। কিন্তু রাজনীতিতে এমন অনেক ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে যা রাজনীতিতে দুর্বৃত্তায়নের সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে। ওইসব ঘটনাগুলো যদি না ঘটতো তা হলে আজকের পরিস্থিতিতে দেশ পড়তে হতো না। দেশ স্বাধীনের পর রাজনীতিতে যে আত্ম সংহারের সূচনা হয়Ñ তার মধ্যেই তো রাজনীতিতে দুর্বৃত্তায়নের বীজ রোপিত হয়েছিল। তখন সমাজতন্ত্রের নামে যুদ্ধ-বিধ্বস্ত একটি দেশের উপর যে নৈরাজ্য চাপিয়ে দেয়া হয়েছিল তা আজকের রাজনীতির পরিণতি তার বাইরে নয়। চরমপন্থার উদ্ভব তো সেখান থেকেই। ওই চনমপন্থার মধ্য দিয়েই সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িকতা নিজেদের জন্য শক্ত অবস্থান করতে পেরেছিল। তবেই না স্বাধীনতা বিরোধীরা প্রধানমন্ত্রী, এমপি ও মন্ত্রী হয়েছিল! এরপর তো রাজনৈতিক কৌশলের নামে অনাকাক্সিক্ষত সমঝোতা- বন্ধুত্ব হয়েছে। রাজনীতিও তার নীতি- নৈতিকতার জায়গায় আর থাকতে পারে নি।
এর দায় নির্দিষ্ট করে কারো উপর চাপিয়ে দেয়া যায় না। এ দায়টা নিতে হয়- সেটা যতটুকুই হোক না কেন। তবেই রাজনীতি তার গন্তব্য ঠিক করে নিতে পারে। এ বোধের জাগরণই সময়ের দাবি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ